সিসি ডেস্ক: পরকীয়া বলি রংপুরের আইনজীবী রথীশ চন্দ্র ভৌমিকের হত্যায় নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেওয়ার পর স্ত্রী স্নিগ্ধা সরকার ভৌমিককে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রায় ১০০ নারী বন্দির সঙ্গে একটি কক্ষে তাকে রাখা হয়েছে। অল্পসময়েই বন্দিদের সঙ্গে ভাব জমিয়েছেন স্নিগ্ধা। বন্দি নারীদের তিনি গান শোনাচ্ছেন।
রংপুর কারাগারের একাধিক কারারক্ষী কাছ থেকে জানা গেছে, কারাগারে বেশ স্বাভাবিকই আছেন স্নিগ্ধা ভৌমিক। এরই মধ্যে তিনি সঙ্গী-সাথী জুটিয়ে নিয়েছেন। অন্য নারী কারাবন্দিদের নিয়ে তারা আয়োজন করছেন গানের আসর। ওই আসরে স্নীগ্ধা রবীন্দ্র সঙ্গীত গেয়ে শোনাচ্ছেন। গান থামিয়ে মাঝেমধ্যে অন্য বন্দিদের কাছ থেকে পান-সুপারিও চেয়ে নিয়ে খাচ্ছেন। জেলাখানার সরবরাহ করা খাবারও স্বাভাবিক ভাবেই গ্রহণ করছেন তিনি।
তারা জানান, যে কক্ষে স্নীগ্ধাকে রাখা হয়েছে সেখানকার কয়েকজন তাকে এড়িয়ে চলারও চেষ্টা করছেন। একজনের সঙ্গে স্নীগ্ধার কথা কাটাকাটিও হয়েছে।
রংপুরের স্পেশাল জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) রথীশ চন্দ্র ভৌমিক বাবুসোনাকে হত্যার ঘটনায় তার স্ত্রী স্নিগ্ধা সরকার ভৌমিক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে পরকীয়া প্রেমিক কামরুলের সঙ্গে মিলে হত্যার নির্মম বর্ণনা দিয়েছেন ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে। তিনি জানান, রথীশকে হত্যা করলে সবাই ভাববে জঙ্গিরাই তাকে মেরেছে- এ ভাবনা নিয়েই তাকে হত্যা করা হয়। এর কারণ হিসাবে জানায়, রথীশ ছিল জেএমবির হামলায় নিহত জাপানি নাগরিক ও মাজার খাদেম হত্যা মামলার সরকার পক্ষের আইনজীবী। আর এ কারণেই জঙ্গিরা তাকে হত্যা করেছে- এমনটা বিশ্বাসযোগ্য হবে। বৃহস্পতিবার রাতে রংপুর অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আরিফা ইয়াসমিন মুক্তার খাস কামরায় স্নিগ্ধা ১৬৪ ধারায় এ জবানবন্দি দেন।
এদিকে স্নিগ্ধা ভৌমিকের পরকীয়া প্রেমিক কামরুল ইসলামকে ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়ে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের প্রথম দিনেই হত্যায় জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করে নেন। তিনি পুলিশকে বলেছেন, বাবুসোনার স্ত্রী স্নিগ্ধা ভৌমিক প্রায় প্রতিদিনই কেঁদে কেঁদে আমাকে তার পরিবারের অশান্তির কথা বলতেন। এসব কথা শুনতে শুনতে স্নিগ্ধার প্রতি আমার মায়া জন্মে যায়। মায়া থেকেই প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ি আমরা।
উল্লেখ্য, আইনজীবী রথীশ ভৌমিক বাবু সোনা ৩০শে মার্চ সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বাসা থেকে নিখোঁজ হন। পাঁচ দিন তদন্ত শেষে র্যাব-পুলিশ তার রহস্য উদঘাটন করে। ২৯শে মার্চ রাত ১০টার দিকে নগরীর তাজহাট বাবুপাড়ার নিজ বাসাতেই ঘুমের বড়ি খাইয়ে অচেতন করে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় তাকে। ৪ঠা এপ্রিল দিনগত রাতে তার তাজহাট মোল্লাপাড়ার কামরুলের নির্মাণাধীন পরিত্যক্ত বাসা থেকে বাবু সোনার লাশ উদ্ধার করে র্যাব। বাবু সোনা জাপানি নাগরিক ও খাদেম হত্যা মামলার বিশেষ পিপি, যুদ্ধাপরাধী জামায়াতে ইসলামী নেতা এটিএম আজাহারুল ইসলামের সাক্ষী ছিলেন। এছাড়া তিনি জেলা আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক, আইনজীবী সমিতির যুগ্ম সম্পাদক জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্র্যাস্টেও ট্র্যাস্টি, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ও তাজহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ছিলেন। এদিকে অ্যাডভোকেট রথীশের হত্যার ঘটনায় তার স্ত্রী স্নিগ্ধা ভৌমিকের প্রেম কাহিনী মানুষের মুখে মুখে। রথীশ ও স্নিগ্ধার বিয়ে প্রায় ২ যুগ পার হলেও স্নিগ্ধার স্বামী অ্যাডভোকেট রথীশ এখনও বেশ সুদর্শন। পাশাপাশি কামরুল ইসলাম বিয়ের প্রায় দেড় যুগ হলেও তার ঘরে রয়েছে সুন্দরী স্ত্রী রোজ।