সিসি নিউজ, ১১ এপ্রিল: নীলফামারীর সৈয়দপুরে বুধবার (১১ এপ্রিল) দুপুর ১১টার দিকে সৈয়দপুর-রংপুর মহাসড়কের কামারপুকুর ধলাগছ মোড় সংলগ্ন এলাকায় আহমেদ প্লাউড কারখানায় ফগ লিফট নামক গাড়ীর চাকায় পিস্ট হয়ে এক নারী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এঘটনায় এলাকাবাসী কারখানার দরজা জানালা, ট্রাকের কাচ ভেঙ্গে ফেলে।
জানা যায়, আহমেদ প্লাউড ২ এ একদিন আগে কাজে যোগদান করেন ওয়াবদা গেট সংলগ্ন এলাকার নূর ইসলামের স্ত্রী ফেরদৌসী বেগম (৪০)। বুধবার সকাল থেকে কারখানার অভ্যন্তরে কাজ করছেন। দুপুর ১১ টার দিকে ভেতরে পন্য পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত ফগ লিফট গাড়িটি তাকে ধাক্কা দেয়। তিনি পড়ে গেলে সামনের চাকা দিয়ে তার মাথা থেতলে যায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে। চালক রনি পালিয়ে যায়।
ঘটনা ধামাচাপা দিতে মালিক পক্ষ প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে ভেতরে নারী শ্রমিকের লাশ সহ বাকী শ্রমিকদের আটকে রাখে। প্রায় ৩ ঘন্টা পর সৈয়দপুর থানার কয়েকজন কর্মকর্তা এসে তালা খুলে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। ময়না তদন্তের জন্য নীলফামারীতে পাঠিয়ে দেয়।
উত্তেজিত এলাকাবাসী ঢিল ছুড়ে কারখানার দরজা জানালার এবং ট্রাকের কাচ ভেঙ্গে ফেলে।
এলাকাবাসী জানায়, ইতিপুর্বে এই কারখানায় ৪ জন শ্রমিক নিহত হয়। সে সময়েও শ্রমিকদের লাশ কারখানার বয়লারে পুড়িয়ে ফেলার অভিযোগ ওঠে। কারখানাটিতে প্রায়ই দূর্ঘটনায় অসংখ্য শ্রমিক গুরুতর আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করলেও তাদের চিকিৎসা করানোসহ কোন রকম ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়নি। এছাড়া কিছুদিন আগে কারখানার গেটে মালামাল বহনকারী ট্রলির ধাক্কায় মোটর সাইকেল আরোহী একই পরিবারের ৩ জন নিহত হয়।
সৈয়দপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো: মোখছেদুল মোমিন, সহকারী কমিশনার (ভুমি) পরিমল চন্দ্র সরকার এবং কামারপুকুর ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল কমি লোকমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: শাহজাহান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।