• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

রোহিঙ্গা সঙ্কটের যাদুকরী সমাধান নেই: রুশ প্রতিনিধি

ঢাকা, ২৯ এপ্রিল: তিন দিনের সফরে শনিবার বাংলাদেশে আসা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধি দলটি রোববার প্রথমে বান্দরবানের নাইক্ষংছড়ি সীমান্তের জিরো লাইনে গিয়ে আটকে থাকা রোহিঙ্গাদের সাথে কথা বলেন।

পরে উখিয়ায় কুতুপালং শিবিরে গিয়ে মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের অন্তত চারটি দলের একশরও বেশি রোহিঙ্গার সাথে কথা বলেন তারা-যাদের মধ্যে নিহতদের পরিবারের সদস্য যেমন ছিলেন তেমনি ছিলেন ধর্ষণের শিকার হওয়া রোহিঙ্গা নারীরা।

পরে এক সংবাদ সম্মেলনে রাশিয়ার প্রতিনিধি দিমিত্রি পোলানস্কি বলেন এ সংকট তারা এড়িয়ে যাবেননা যদিও এর জাদুকরী বা রাতারাতি কোন সমাধানও নেই।

আমরা চেষ্টা করবো সম্ভাব্য সেরা সমাধানের জন্য। বাংলাদেশে ও মিয়ানমারে পরিস্থিতি সরাসরি দেখা আমাদের জন্য জরুরী ছিলো। কিন্তু এ সমস্যা রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয়। এর কোন জাদুকরী সমাধান নেই। আমরা এখনো মনে করি দ্বিপাক্ষিক আলোচনাই বেশি কাজে দেবে এবং একটা গঠনমূলক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা দু দেশের সরকারকে সেটা বোঝানোর চেষ্টা করবো”।

রুশ প্রতিনিধি স্বীকার করেছেন, রোহিঙ্গা ইস্যুটি এখনো বিতর্কিত বিষয়।

নিরাপত্তা পরিষদের ওই দলটির সাথে থাকা বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমও স্বীকার করেছেন মিয়ানমারের ব্যাপারে শক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার ব্যাপারে নিরাপত্তা পরিষদে মতবিরোধ রয়েই গেছে।

দোষ যে মিয়ানমারের, সমস্যার সমাধান যে মিয়ানমারের করতে হবে সে বিষয়ে সবাই একমত। সমস্যার দ্রুত সমাধান হওয়া উচিত, বাংলাদেশ পার্ট না হয়েও যে সমস্যায় পড়েছে সে কারণে বাংলাদেশের পাশে থাকা নিয়ে তারা একমত। কিন্তু যে বিষয়ে তারা একমত নন সেটি হলো মিয়ানমারের বিরুদ্ধে শক্ত ব্যবস্থা নেয়া।

নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধিরা কুতুপালং শিবিরে পৌঁছুলে প্লাকার্ড পোস্টার নিয়ে দাবি জানায় শত শত রোহিঙ্গা পোস্টার প্ল্যাকার্ড নিয়ে শত শত রোহিঙ্গা।

নিরাপত্তা পরিষদের দলটি শরণার্থী ক্যাম্পে গেলে শত শত রোহিঙ্গা পোস্টার প্ল্যাকার্ড নিয়ে মিয়ানমারে তাদের ওপর নির্যাতনের বিচার ও প্রত্যাবাসনের আগে সেখানে তাদের মুক্তভাবে বসবাসের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

এদের একজন মুহিবুল্লাহ মাস্টার বলেন, প্রথমে রোহিঙ্গা হিসেবে আমরা আমাদের জাতীয়তার স্বীকৃতি পুনরুদ্ধারের দাবি জানাচ্ছি। একই সাথে প্রত্যাবাসনের আগে আরাকানে একটি সেফ জোনের জন্য আমরা নিরাপত্তা পরিষদের কাছে দাবী জানাচ্ছি। অপরাধীদের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে নিতে হবে। আমাদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আমাদের জন্য সমঅধিকার নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের ধর্মীয় শিক্ষাসহ মুক্তভাবে ব্যবসা বাণিজ্যের স্বাধীনতা দিতে হবে।

আর মিয়ানমারে তাদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতনের বিচার দাবি করেন রাশিদা বেগম। আমরা ন্যায়বিচারের দাবি জানাচ্ছি। মিয়ানমারের সৈন্যরা আমাদের ঘরে ঢুকে নির্যাতন করেছে। পুরুষ, নারী ও শিশুদের হত্যা করেছে।অনেক নারীকে নির্যাতন করেছে। নিরাপত্তা পরিষদ ও অন্যান্য দেশকে আমাদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে।

কিন্তু রোহিঙ্গাদের এসব দাবির বিষয়ে তেমন কোন বক্তব্য আসেনি নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধি দলটির কাছ থেকে। কিন্তু রোহিঙ্গাদের এসব দাবির বিষয়ে তেমন কোন বক্তব্য আসেনি নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধি দলটির কাছ থেকে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলছেন এ সফর পরিস্থিতি বোঝাতে সব দেশকে সহায়তা করবে। আগামীকাল ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে প্রতিনিধি দলটির সদস্যদের। সেখান থেকেই হয়তো নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের অবস্থান সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে। বাংলাদেশের পর মিয়ানমার সফরের কথা রয়েছে এ দলটির।

সূত্র: বিবিসি বাংলা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ