• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৮ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

সৈয়দপুরে শিক্ষক স্বামীর কান্ড: স্কুল শিক্ষিকা স্ত্রী হাসপাতালে

সিসি ডেস্ক, ০৭ মে: নীলফামারীর সৈয়দপুরে স্কুল শিক্ষিকা স্ত্রীর বেতনের টাকা নিজের কুক্ষিগত করতে না পেয়ে বেদম মারধর করেছে তার স্বামী । বর্তমানে ওই শিক্ষিকা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

নির্যাতনের শিকার শিক্ষিকার নাম মোছা. সামসুন্নাহার (২৯)। তিনি শহরের ফ্রি আমিন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত। শহরের ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষক রকিব উদ্দিন শাহ্ এর স্ত্রী। স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়ে বর্তমানে তিনি সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিক্ষিকার সাথে কথা বলে জানা যায়, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসের ৯ তারিখ উপজেলার বোতলাগাড়ি ইউপির খোর্দ্দ বোতলাগাড়ি গ্রামের মোহাম্মদ আলী শাহ্-এর ছেলে রকিব উদ্দিন শাহ-এর সাথে সামসুন্নাহারের পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়।

বিয়ের আগে থেকেই সামসুন্নাহার ও রকিব দু’জনই শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। বিয়ের পর ভালই চলছিল তাদের সংসার। সরকারী চাকুরিজীবি স্ত্রী প্রতি মাসে যে বেতন পান তা সামসুন্নাহারের ব্যাংক অ্যাকাউন্টেই থাকতো। সাংসারিক প্রয়োজনে স্বামী চাইলে তিনি স্বামীকে তা দিতেন। কিন্তু বিয়ের দু’মাস না যেতেই রকিব তার স্ত্রীর বেতনের টাকা আলাদা অ্যাকাউন্টে না রেখে নিজের অ্যাকাউন্টে রাখতে বলেন।

কিন্তু সামসুন্নাহার তাতে রাজি না হলে রকিব টাকা  উত্তোলনের জন্য সামসুন্নাহারকে চেক লিখে দিতে বলেন। সামসুন্নাহার রকিবকে একটি ব্লাংক চেকে স্বাক্ষর করে দিলে রকিব তার অ্যাকান্ট থেকে সব টাকা (৩০ হাজার) তুলে নেন। স্বামী বলে প্রথমে মেনে নেন সামসুন্নাহার।

কিন্তু ধীরে ধীরে সামসুন্নাহারকে রকিব তার আসল রুপ চেনাতে শুরু করেন। প্রতি মাসের ৪ থেকে ৬ তারিখ বেতন হবার সময় হলে রকিব পুরো টাকাটাই তোলার জন্য সামসুন্নাহারকে চেক লিখে দিতে বলতেন। সামসুন্নাহার রাজি না হলে এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে শুরু হয় দাম্পত্য কলহ। এ কলহ থেকে প্রায়ই সামসুন্নাহারকে রকিব  মারধর করতেন।

সবশেষ গত ২ মে রাত ১১টার দিকে সামসুন্নাহারকে বেদম মারধর করেন রকিব। রকিবের মারের চোটে সামসুন্নাহার অজ্ঞান হয়ে গেলে তার স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

সামসুন্নাহার জানান, আমার টাকা মানেই তো আমার স্বামীর (রকিব) টাকা। তাকে এত জোরাজুরি করে টাকা নিতে হবে কেন? সে আমাকে প্রায়ই বলে, আমি তো তোমাকে বিয়ে করি নাই! আমি তো তোমার সরকারী চাকুরিকে বিয়ে করেছি! অর্থের প্রতি একজন শিক্ষকের এত লোভ হয় কি করে? তাহলে তিনি ছাত্র-ছাত্রীকে কি শিক্ষা দেবেন? বলেই কাঁদতে থাকেন তিনি।

হাসপাতালে সামসুন্নাহারের ভাই শিক্ষক মশিউর রহমান শাহ্ অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের তিন মাসের মাথায় সে (রকিব) আমার কাছে ৫লক্ষ টাকা চাইল। পরে আমি আমার বোনকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে সে বলল সে (সামসুন্নাহার) কিছু জানে না। তো আমার প্রশ্ন হলো, ভগ্নিপতিকে টাকা যদি দিতেই হয় তাহলে সেটা তো বোনের মাধ্যমে আসতে হবে? যে মানুষ সরাসরি সম্বন্ধীর (স্ত্রীর ভাই) কোছে সরাসরি টাকা চায় এবং সে কথা তার বউকে পর্যন্ত জানায় না তাহলে তার অর্থের প্রতি কি পরিমাণ লোভ থাকতে পারে?

তিনি বলেন, টাকা না পেয়ে আমার বোনকে প্রায়শই সে নির্যাতন-নিপীড়ন করে। কোন ভাই-ই সেটা সহ্য করতে পারে না। তার বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেব।অভিযোগের ব্যাপারে কথা বলার জন্য শিক্ষক রকিবের সাথে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

তার ব্যবহৃত মুঠোফোন ০১৭৪০৩০**২৩ নাম্বারে ফোন করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তিনি ‘একটু পড়ে কথা বলবেন’ বলে ফোন কেটে দিয়ে তা বন্ধ করে দেন।এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অশোক কুমার পাল জানান, সৈয়দপুর থানায় অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

উৎস: ফেসবুক


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ