সিসি ডেস্ক, ২৯ জুন: স্বপ্নের পদ্মা সেতুতে বসানো হলে পঞ্চম স্প্যান। পদ্মা সেতুর স্বপ্ন আর নয় এখন দৃশ্যমান। দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে পদ্মা সেতুর কাজ।
শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবা প্রান্তের ৪১ ও ৪২ নম্বর পিলারের ওপর এই সুপার স্ট্রাকচার বসানো হয়। পঞ্চম স্প্যানটি বসানোর ফলে ৭৫০ মিটার দৃশ্যমান হলো পদ্মা সেতু।
সেতু বিভাগ সূত্রে জানা যায়, শক্তিশালী একটি ভাসমান ক্রেন দিয়ে মাওয়ার কুমারভোগ কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে জাজিরা প্রান্তে স্প্যানটি আনা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের স্প্যানটি এসে পৌঁছে। এমন ৪১টি স্প্যান জোড়া দিয়েই তৈরি হবে স্বপ্নের পদ্মা সেতু।
২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর খুঁটিতে প্রথম স্প্যানটি বসানোর মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হয় পদ্মা সেতু। এরপর এ বছরের ২৮ জানুয়ারি ৩৮ ও ৩৯ নম্বর খুঁটিতে বসানো হয় দ্বিতীয় স্প্যান। গত ১১ মার্চ ৩৯ ও ৪০ নম্বর খুঁটির ওপর বসে তৃতীয় স্প্যান। সর্বশেষ ১৩ মে ৪০ ও ৪১ নম্বর খুঁটির ওপর চতুর্থ স্প্যান বসানো হলে সেতুর ৬০০ মিটার দৃশ্যমান হয়।
এ সেতুর কাজ শেষ হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে গোটা দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নতি হবে। দেশের অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ হবে। পদ্মা সেতুর দুই পারে গড়ে উঠবে সিঙ্গাপুর ও হংকংয়ের আদলে বিশ্বমানের শহর। সেইসঙ্গে শ্রমজীবী মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি হবে। ব্যবসা বাণিজ্যের ব্যাপক প্রসার ঘটবে বলে আশা করছে পদ্মা পারের মানুষ।
দ্বিতলবিশিষ্ট পদ্মা সেতু হচ্ছে, মুন্সিগঞ্জের মাওয়া ও শরীয়তপুরের জাজিরার মধ্যে। মূল সেতুর দৈর্ঘ্য (পানির অংশের) ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার। ডাঙার অংশ ধরলে সেতুটি প্রায় নয় কিলোমিটার দীর্ঘ হবে। খুঁটির ওপর ইস্পাতের যে স্প্যান বসানো হবে, এর ভেতর দিয়ে চলবে ট্রেন। আর ওপর দিয়ে চলবে যানবাহন। পুরো সেতুতে মোট খুঁটির সংখ্যা হবে ৪২। একটি থেকে আরেক খুঁটির দূরত্ব ১৫০ মিটার। এই দূরত্বের লম্বা ইস্পাতের কাঠামো বা স্প্যান জোড়া দিয়েই সেতু নির্মিত হবে। ৪২টি খুঁটির ওপর এ রকম ৪১টি স্প্যান বসানো হবে। এর মধ্যে তিনটি স্প্যান বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। স্প্যানের অংশগুলো চীন থেকে তৈরি করে সমুদ্রপথে জাহাজে করে আনা হয় বাংলাদেশে। ফিটিং করা হয় মাওয়ার কুমারভোগ কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে।
বহুল আলোচিত পদ্মা সেতু প্রকল্পটির যাত্রা শুরু হয় ২০০৭ সালে। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকার ওই বছরের ২৮ আগস্ট ১০ হাজার ১৬১ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন করেছিল। পরে আওয়ামী লীগ সরকার এসে রেলপথ সংযুক্ত করে ২০১১ সালের ১১ জানুয়ারি প্রথম দফায় সেতুর ব্যয় সংশোধন করে। বর্তমান ব্যয় ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি।