• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৫ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

সৈয়দপুরে ১৮ বছর ধরে কবর থেকে বয়স্কভাতা উত্তোলন!

।। বিশেষ প্রতিনিধি ।। সমাজসেবা অফিসের নথিপত্রে ১৮ বছর আগে মারা গেছেন বৃদ্ধ জবান উদ্দিন। অথচ দীর্ঘ এ সময়ে তিনি স্বশরীরে হাজির হয়ে ব্যাংক থেকে বয়স্কভাতা উত্তোলন করছেন নির্দিষ্ট তারিখে। অপরদিকে মৃত্যুজনিত কারণে জবান উদ্দিনের স্থলে বয়স্কভাতা সুবিধাভোগ করছেন ওই ইউনিয়নের সহিদা বেওয়া। একটি কার্ডের বিপরীতে দুই জনই সরকারের এ অনুদান ভোগ করার ঘটনাটি ঘটেছে সৈয়দপুরের কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নে।
সূত্রমতে, নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা জবাব উদ্দিন। বর্তমানে তার বয়স ৮৪ বছর। ১৯৯৯ সালে ৬৫ বছর বয়সে বয়স্কভাতা সুবিধাভোগি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। রাকাবের (রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক) হাজারীহাট শাখা থেকে বয়স্কভাতা উত্তোলন করেন তিনি। চলতি বছরের ভাতা ওই ব‌্যাংক শাখা থেকে উত্তোলন করতে গিয়ে হতবাক হয়ে পড়ে জবান উদ্দিন। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানান, তিনি আর বেঁচে নেই। ছুটে যান উপজেলা সমাজসেবা অফিসে। সেখানে জানানো হয়, তিনি ২০০০ সালে মারা গেছেন।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০০০ সালে জবান উদ্দিনকে মৃত্যু দেখিয়ে তৎকালীন সমাজসেবা কর্মকর্তা আব্দুল কাইয়ুম একই ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ছোরতন বেওয়া, ২০০১ সালে ৭নং ওয়ার্ডের মোছা: জমিলা এবং ২০০২ সালে ওই ওয়ার্ডের সহিদা বেওয়াকে কার্ডটি প্রদান করেন। সে সময় থেকে ওই কার্ডের প্রথম সুবিধােেভাগি জবান উদ্দিন ও পরিবর্তিত সহিদা বেওয়া দুজনই পাচ্ছেন বয়স্কভাতার সুবিধা। কিন্তু চলতি বছরে জবান উদ্দিন ব্যাংকে ভাতার টাকা উত্তোলন করতে গিয়ে তার মৃত্যুর কারনে ভাতার টাকা না পাওয়ায় ঘটনাটি চাউর হয়ে পড়ে।
জীর্ন কুটিরের সামনে দাঁড়িয়ে জবান উদ্দিন বলেন, আমার স্ত্রী রাবেয়া বাসুরীকে নিয়ে এই টাকা দিয়ে কোন রকমে একবেলা খেয়ে বেঁচে আছি। গত ৬ মাস থেকে টাকা না পাওয়ায় আমার স্ত্রীকে মেয়ের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছি। প্রতিবেশীরা অভিযোগ করে বলেন, জীবিত মানুষকে মৃত্যুর সনদ দিয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং পরিবর্তিত সুবিধাভোগীদের তালিকাটি পাঠিয়েছেন তিনি। কিভাবে একটা জীবিত মানুষকে তিনি মৃত্যু ঘোষণা দিলেন। ওই ৫নং ওয়ার্ডের ধোপঘাট পাড়ার বৃদ্ধ তাহেরা বেওয়ার অভিযোগ, চেয়ারম‌্যান-মেম্বারকে এক হাজার টাকা দিয়েও মেলেনি বিধবা বা বয়স্ক ভাতার কার্ড। স্বামী পরিত্যক্ত মেয়ের শ্রমের টাকায় অদ্ধাহারে দিনাতিপাত করছে বিধবা তাহেরা।
কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নে দায়িত্বরত সমাজসেবা অফিসের সমাজকর্মী মো: আতাউর রহমান বলেন, বয়স্কভাতার সুবিধাভোগী মারা গেলে পুরুষের স্থলে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের পুরুষ এবং মহিলার ক্ষেত্রে মহিলা হবে। এছাড়া কখনো ওয়ার্ড পরিবর্তন হবে না- এ ক্ষেত্রে তৎকালীন কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন পরিষদ নীতিমালা বহির্ভূত কাজ করেছেন।
বর্তমান ও তৎকালীন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনামূল হক চৌধুরী বলেন, আমার ওয়ার্ডে জবান উদ্দিনের বাড়ী। তাকে বয়স্কভাতার তালিকায় আমি অন্তর্ভূক্ত করেছি। আর আমি তাকে মৃত্যু ঘোষণা করবো। সমাজসেবা অফিস মৃত্যুর সনদটা আমাকে দেখাতে পারবে? সমাজসেবা অফিসই এ কাজ করছে।
সৈয়দপুর উপজেলা সমাজসেবা অফিসার সুকান্ত সরকার বলেন, ২০১৭ সালে আমি এখানে যোগদান করেছি। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীগুলো ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) করতে গিয়ে জবান উদ্দিনের কোন তথ্য আমাদের রেজিস্টারে নেই। যেহেতু রেজিস্টারে ওই ব্যক্তিকে মৃত্যু দেখানো হয়েছে, সেহেতু ব্যাংকে পাঠানো তালিকায় তার নাম বাদ পড়ে যায়। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বয়স্কভাতা সুবিধাভোগীদের ডাটাবেজ তৈরি করতে গিয়ে এ বিষয়টি আমি জানতে পারি। এটা পূর্ববতী কর্মকর্তার সময়ে এমন অনাকাঙ্খিত ঘটনাটি ঘটেছে।
সৈয়দপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও বয়স্কভাতা প্রদান উপজেলা বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি মোখছেদুল মোমিন বলেন, জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখিয়ে অন্যকে ভাতা প্রদান করায় অনিয়ম হয়েছে। তিনি বলেন, বিষয়টি জানতে পেয়ে গত ৪ জুলাই কমিটির সভায় জবান উদ্দিনকে নতুন করে বয়স্কভাতা সুবিধাভোগীর আওতায় নেয়ার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়েছে।
নীলফামারী জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ খালেদ রহীম বলেন, সুবিধাভোগীদের ডাটাবেজ তৈরি করা সরকারের সাফল্যের এটি উদাহরণ। যার স্বচ্ছতার কারণে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিভাগের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। তিনি বলেন, ডুপ্লিকেশনের বিষয়টি পরিহার করে প্রকৃত সুবিধাভোগীকে এর আওতায় নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যাতে সরকারের কোন অর্থ অপচয় না হয়।
উল্লেখ্য যে, ২০২১ সালের মধ্যে ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত দেশ গড়তে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীর বাস্তবায়ন করছে সরকার। চলমান কর্মসূচীর মধ্যে অন্যতম খোলা বাজারে চাল বিক্রি, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচী, বয়স্কভাতা, বিধবা ভাতা, শিক্ষাবৃত্তি, কাজের বিনিময় টাকা, ভিজিএফ ইত্যাদি। সৈয়দপুর উপজেলায় পৌরসভা ও ৫টি ইউনিয়নে ৬২১১ জনকে বয়স্কভাতা প্রদান করা হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ