সিসি ডেস্ক, ০৪ আগষ্ট: মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গারা মিথ্যা অভিযোগ এনে এবার দোষারোপ করছে এনজিওদের। বিভিন্ন ক্যাম্পে আশ্রিত রোহিঙ্গা রোগীদের এনজিও কর্মীরা চিকিৎসা সেবায় অনিয়ম করছে বলে অভিযোগ করছে তারা। অথচ সরকারী মেডিকেল টিম ছাড়াও রাতদিন রোহিঙ্গাদের চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত রয়েছে একাধিক এনজিও সংস্থার ডাক্তার ও কর্মীরা। রোহিঙ্গা রোগীদের জন্য যথেষ্ট ওষুধ স্টক রয়েছে। রোগ অনুপাতে তাদের পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে ফ্রি পাওয়া ওষুধগুলো নগদ টাকায় রোহিঙ্গারা বাইরে বিক্রি করে দিচ্ছে বলে জানা গেছে।
সূত্রে জানা গেছে, কুতুপালং ক্যাম্পে এক রোহিঙ্গার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ডাক্তাররা রোহিঙ্গাদের প্রতি মনোযোগ দিচ্ছেনা বলে দাবি করে রোহিঙ্গারা জানায়, ডাক্তারদের কাছ থেকে কোনরুপ সাঁড়া পাওয়া যাচ্ছেনা। ক্যাম্পে রোহিঙ্গারা বর্তমানে চিকিৎসা সঙ্কটের মধ্যে দিনাতিপাত করছে। বিভিন্ন এনজিও সংস্থার লোকজন রোহিঙ্গাদের চিকিৎসার নাম করে ফান্ড সংগ্রহ করলেও তা রোহিঙ্গাদের সাহায্যার্থে ব্যয় করছেনা। অনেক রোহিঙ্গা নিজের টাকা খরচ করে বাইরে প্রাইভেট ডাক্তার দেখাচ্ছে ও ওষুধ কিনছে। অপরদিকে স্থানীয় অধিবাসিরা জানান, বিভিন্ন মেডিকেল সেন্টার থেকে ফ্রি নিয়ে যাওয়া ওষুধগুলো নগদ টাকায় বাইরে বিক্রি করে দিচ্ছে রোহিঙ্গারা। আশ্রিত ক্যাম্পের বিভিন্ন ব্লকে গিয়ে এক শ্রেণীর ওষুধ ক্রেতা দালাল স্বল্পদামে কিনে নিয়ে আসছে ওসব ওষুধ। একজন ওষুধ ক্রেতা জানান, কোথাও (আশ্রিত কক্ষে) ওষুধ জমা হলে মুঠোফোনে ডাক দেয়া হয়। সেখানে গিয়ে নিয়ে আসি ওসব ওষুধ। বিভিন্ন প্রকারের ওষুধ বিক্রির নগদ টাকা পেয়ে বেজায় খুশি রোহিঙ্গা নারীরা।
এদিকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এইচআইভি বা এইডস রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৪৫জনে। ওই ২৪৫ জন আক্রান্তের মধ্যে নারী ১২৪, পুরুষ ৮৪, ছেলে শিশু ১৯ ও কন্যাশিশু ১৭ জন।
আক্রান্তদের মধ্যে ইতোপূর্বে দুইজন মৃত্যুবরন করেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন চিকিৎসক বলেন, রোহিঙ্গা শিবিরে প্রতিনিয়ত এইডস রোগী পাওয়া যাচ্ছে। বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া ১১ লক্ষাধিক রোহিঙ্গার মধ্যে এইচআইভি বা এইডস নিয়ে বসবাসকারী রোহিঙ্গার সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এইচআইভি বা এইডস রোগীর শনাক্ত হওয়া রোহিঙ্গাদের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় তেমন সমস্যা হচ্ছে না। বিশেষ ব্যবস্থায় তাদের চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। আক্রান্তরা ২ থেকে ৫৫ বছর বয়সী উল্লেখ করে কক্সবাজারের সিভিল সার্জন জানান, প্রথমদিকে রোহিঙ্গাদের এইডস পরিস্থিতি নিয়ে যে পরিমাণ চিন্তিত ছিলাম, এখন সে পরিমাণ চিন্তা নেই। কেননা সবাইকে সঠিক চিকিৎসার আওতায় আনা হয়েছে। তাদের জন্য ওষুধও আছে পর্যাপ্ত। রোহিঙ্গাদের সেবায় নিয়োজিত আছে প্রচুর স্বাস্থ্যকর্মী।
উৎস: জনকন্ঠ