আন্তর্জাতিক ডেস্ক।। পাকিস্তান সীমান্তে জঙ্গিগোষ্ঠী জইশ-ই-মোহাম্মদের (জেইএম) প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে ভারতীয় বিমানবাহিনীর হামলার পর দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান তার সশস্ত্র বাহিনী ও সাধারণ নাগরিককে সতর্ক করেছেন।
মঙ্গলবার বিকেলে ইমরান খান এ কথা বলেন। এর আগে ভারতের হামলার পর সকালে জরুরি বৈঠকের ডাক দেন পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী। দেশের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা-প্রতিনিধিদের নিয়ে তিনি বৈঠকে বসে চলমান কাশ্মীর সংকট নিয়ে আলোচনা করেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রের বরাতে বলছে।
ইমরান খান বলেন, সশস্ত্র বাহিনী ও সাধারণ নাগরিককে সব ধরনের ঘটনার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। তারা প্রস্তুত আছে কি না তাও জিজ্ঞেস করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী এবং নাগরিকদের যেকোনো ঘটনার জন্য প্রস্তুত থাকা দরকার বলে উল্লেখ করেন।
পাকিস্তানের নিরাপত্তা কমিটি এক বিবৃতিতে জানায়, ভারত আগ্রাসন চালিয়েছে আর পাকিস্তান অবশ্যই যথাযথ সময়ে নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী কোনো স্থানে এর জবাব দেবে।
তিনি আরো বলেন, বিশ্বনেতাদের সামনে ভারতের এই দায়িত্বজ্ঞানহীন নীতি উন্মোচন করা হবে।
এর আগে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে পাকিস্তানের বেলাকোট শহরে জঙ্গি ক্যাম্পে হামলা চালায় ভারত। এরপর সকালে দু’দেশের পক্ষ থেকে পাল্টাপাল্টি দাবি করা হয়। দিল্লি থেকে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিজয় কেশব গোখালে বলেন, হামলায় বহু সংখ্যক জঙ্গি নিহত হয়েছে। তবে সাধারণ নাগরিকের কোনো ক্ষতি হয়নি।
আর পাকিস্তান দাবি করছে, ভারতীয় বিমানবাহিনী আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে। তাছাড়া হামলাতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এমনকি কোনো ক্ষতিও হয়নি।
গত ১৪ ফেব্রুয়ারি বিকেলে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলায় হামলায় দেশটির বিশেষায়িত নিরাপত্তা বাহিনী সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (সিআরপিএফ) ৪৪ সদস্য নিহত হন। এরপরই হামলার দায় স্বীকার করে পাকিস্তানি জঙ্গিগোষ্ঠী জইশ-ই-মহম্মদ। এ নিয়ে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে চলছে উত্তেজনা।