• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫১ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

পঞ্চগড়ে আনসারের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

সিসি ডেস্ক, ২৭ মার্চ।। পঞ্চগড়ের আনসার ও ভিডিপির দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তারা হলেন জেলা আনসার ও ভিডিপির কমান্ড্যান্ট আহসান উল্লাহ ও তেঁতুলিয়া উপজেলা আনসার কর্মকর্তা (প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা) শিরিন আক্তার। আনসার সদস্যদের ভাতা থেকে উৎকোচ গ্রহণ ও নতুন করে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে টাকার বিনিময়ে আনসার নিয়োগের অভিযোগ করেছেন খোদ আনসার সদস্যরাই।

অভিযোগ রয়েছে ১০ থেকে ১৮ বছর ধরে কাজ করে আসা আনসার কমান্ডারদের বাদ দিয়ে ওই দুই কর্মকর্তার পছন্দের লোকদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী আনসার সদস্যরা আনসারের মহাপরিচালক বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছেন। লিখিত অভিযোগের পর অভিযোগকারী আনসার সদস্যদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

অভিযোগ তারা জানান, তেঁতুলিয়া উপজেলা আনসার কর্মকর্তা শিরিন আক্তার ও জেলা আনসার কমান্ড্যান্ট আহসান উল্লাহ যোগদান করার পর থেকেই আনসার সদস্যদের সাথে অশোভন আচরণ করে আসছেন। বিভিন্ন নির্বাচন ও পূজাসহ অন্যান্য দায়িত্ব পালনে আনসার সদস্যদের প্রাপ্ত ভাতা থেকে ৫ শ থেকে ১ হাজার টাকা করে উৎকোচ নেন ওই দুই কর্মকর্তা। জেলা কমান্ড্যান্ট এই টাকা তার নিম্নস্তরের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে গ্রহণ করেন বলেও তারা জানান। সম্প্রতি ওই দুই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে আনসার সদস্যদের নিয়োগে উৎকোচ গ্রহণ ও অনিয়মের অভিযোগ করেছেন আনসার সদস্যরা।

তারা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে তারা বিনাবেতনে সরকারের যেকোনো ডাকেই সাড়া দিয়েছেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালন করে আসছেন তারা। সম্প্রতি সরকার আনসারের উপজেলা কম্পানি কমান্ডার, উপজেলা সহকারী কম্পানি কমান্ডার, ইউনিয়ন প্লাটুন কমান্ডার ও সহকারী ইউনিয়ন প্লাটুন কমান্ডারদের মাসিক ১৫ শ টাকা করে ভাতা দেওয়ার প্রজ্ঞাপন জারি করেন। সামান্য বেতনের এই নিয়োগেও অনিয়ম করতে ছাড়েনি ওই দুই কর্মকর্তা। নিয়োগপ্রতি ৭০ হাজার টাকা না দিলে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসলেও তাদের নিয়োগ দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে দেন তারা।

তেঁতুলিয়া উপজেলা আনসার কর্মকর্তা শিরিন আক্তার জেলা কমান্ড্যান্ট আহসান উল্লাহর যোগসাজশে টাকা নিয়ে তেঁতুলিয়া উপজেলায় নিয়োগ দেওয়া শুরু করেছেন। তাদের চাহিদা মতো টাকা না দেয়া ১০ থেকে ১৮ বছর ধরে কাজ করে আসা আনসার কমান্ডারদেরও বাদ দিয়ে তাদের পছন্দৱমতো লোকদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আবার টাকা না পাওয়া কোনো কোনো পদে আনসার থাকলেও শূন্য দেখানো হয়েছে।

অভিযোগের পর অভিযোগকারী সদস্যদের ওপর হুমকি আসতে থাকে। তেঁতুলিয়া উপজেলা আনসার কর্মকর্তা শিরিন আক্তার ও তার স্বামী অ্যাডভোকেট জুয়েল তাদের বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি অভিযোগপরবর্তী তদন্ত আসলেও তদন্ত কর্মকর্তাদের নিকট উপস্থিত হতে অভিযোগকারীদের বাধা দেন তারা।

তেঁতুলিয়া উপজেলা আনসারের কম্পানি কমান্ডার আতিয়ার রহমান বলেন, আমাদের মাসিক ভাতা ঘোষণার পর উপজেলা প্রশিক্ষক শিরিন আক্তার আমাকে ডেকে নিয়োগ দেওয়ার কথা বলে ৭০ হাজার টাকা দাবি করে। আমি গরু বিক্রি করে তার হাতে ৩০ হাজার টাকা তার হাতে দেই। কিন্তু তিনি ৭০ হাজার টাকার কমে নিয়োগ হবে না বলে জানিয়ে দেয়। পরে তিনি ও জেলা কমান্ড্যান্ট আমার বদলে টাকার বিনিময়ে রফিকুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে নিয়োগ দেন। এ বিষয়ে আমি মহাপরিচালক বরাবরে অভিযোগ করলে শিরিন আক্তারের স্বামী অ্যাডভোকেট জুয়েল আমাকে লোকজন দিয়ে অপহরণ করে। সেখান থেকে ১০ হাজার দিয়ে আমি ছুটে আসি।

তেঁতুলিয়া উপজেলা আনসারের সহকারী কমান্ডার মর্জিনা খাতুন জানান, ২০০৬ সালে আমি আনসারে যোগদান করে দায়িত্ব পালন করে আসছি। এখন সরকার আমাদের ভাতা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। উপজেলা আনসার কর্মকর্তা শিরিন আক্তার আমাকে নতুন করে নিয়োগ নিতে হবে বলে ৭০ হাজার টাকা দাবি করে। এই টাকা নাকি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দিতে হবে। আমি তাদের চাহিদামতো টাকা দিতে পারিনি তাই আমার বদলে লিপি আক্তার নামে এক নারীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

ভজনপুর ইউনিয়ন প্লাটুন কমান্ডার শমশের আলী বলেন, দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে বিনাবেতনে আমি দায়িত্ব করে আসছি। যখন সরকার যেখানেই ডেকেছে সেখানেই গিয়েছি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করেছি। আমাদের নাম পরিচয় আনসারের অনলাইনে আছে। আর এখন সরকার আমাদের ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর কর্মকর্তারা অসাধু উপায়ে আমাদের কাছে টাকা দাবি করছে। তাদের চাহিদামতো টাকা দিতে পারিনি বলে আমার পদে খতিবর রহমান নামে শিরিন আক্তারের এক স্বজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

ভজনপুর ইউনিয়নের সহকারী প্লাটুন কমান্ডার সলেমান আলী বলেন, শুধু আমাদের সাথে নয় উপজেলা কর্মকর্তা শিরিন আক্তার সবার কাছেই টাকা নিয়েছে। যে টাকা দিতে পারছে তাকেই নিয়োগ দিচ্ছে। টাকা দিতে না পারলে দীর্ঘ দিন ধরে কাজ করে আসা সদস্যদের নাম কেটে ফেলা হয়েছে। এমনকি এ বিষয়ে অভিযোগ করলে তদন্ত কমিটি তদন্ত করতে আসলে শিরিন আক্তার লোকজন ভাড়া করে আমাদের তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে যেতে দেয়নি।

এ বিষয়ে তেঁতুলিয়া উপজেলা আনসার কর্মকর্তা শিরিন আক্তারে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি আপনাদের সাথে কথা বলব না। আমার লালমনিরহাট জেলার আদিতমারীতে বদলি হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে সেটা আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তদন্ত করে দেখবেন। প্রয়োজনে আপনারা জেলা কমান্ড্যান্টের সাথে কথা বলেন।

পঞ্চগড় আনসার ও ভিডিপির জেলা কমান্ড্যান্ট আহসান উল্লাহ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সুযোগ নেই। শুধু অভিযোগ করলেই তো হবে না প্রমাণ দেখাতে হবে। যে সকল আনসার সদস্যরা অভিযোগ করেছে তাদের মধ্যেই সমস্যা আছে। না হলে তারা আমাদের ডিঙিয়ে আপনাদের বিষয়টি জানাত না। যদি আমাদের বিষয়ে কোনো অভিযোগ থাকে তাহলে আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দেখে ব্যবস্থা নবেন।

উৎস: কালেরকন্ঠ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ