• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৩ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি জয়পুরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

নীলফামারী কারাগার থেকে হাজতির চিঠি সেভহোমে!

সিসি নিউজ, ২৪ আগষ্ট ।। রাজশাহী সেভহোমে অপহরণ মামলার ভিকটিমের কাছে আসামীর লেখা চিঠি আটকা পড়েছে সেভহোম কর্তৃপক্ষের কাছে। নীলফামারী কারাগার থেকে আসামীর লেখা ওই চিঠি পুলিশের সহায়তায় সেভহোমে পাঠানো হয়েছিল। এ ঘটনায় পুলিশের দায়িত্ব ও কর্তব্য নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন।

সূত্র মতে, অপহরণ মামলার আসামী নীলফামারী কারাগারের হাজতি শহীদ শাহ পুলিশকে ম্যানেজ করে ওই মামলার ভিকটিম রাজশাহী সেফহোমে থাকা দিল আফরোজা ওরফে ইতির কাছে একটি পত্র পাঠিয়েছে। গত ১ আগষ্ট ভিকটিম ইতির কাছে ওই চিঠি পৌছাতে গিয়ে জনৈক মহিলা আনসার সদস্যের কাছে ধরা পড়ে। এ ঘটনায় চিঠি বহনকারী নীলফামারীর ডোমার উপজেলার বামুনিয়া গ্রামের আব্দুল মজিদের মেয়ে মনিষা আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন সেফহোমের উপ-তত্ত্বাবধায়ক লাইজু রাজ্জাক। জিজ্ঞাসাবাদে মনিষা জানান, নীলফামারীতে এক পুরুষ পুলিশ সদস্য পত্রটি তাকে দিয়েছে। মনিষা ডোমার থানার একটি মামলায় আদালতের নির্দেশে সেফহোমে পাঠানো হয়েছিল। যার মামলা নং ১০৩, তাং ২৮/০৭/২০১৯ ইং।

কথা হয় অপহরণ মামলার বাদী আবুল কালামের (দিল আফরোজা ইতির মামা) সাথে। তিনি জানান, দিল আফরোজা ইতির দেখা করার জন্য তার বাবা সিরাজুল ইসলাম রাজশাহী সেফহোমে গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চিঠির বিষয়টি তাকে অবগত করে। বাদী আরো জানান, চিঠিতে আসামী শহীদ শাহ ভিকটিমকে প্রলোভন দেখিয়ে মামলার সঠিক বিচার প্রাপ্তিতে বাধা প্রদানে চেষ্টা করছে। তিনি চিঠি প্রেরণে সহায়তাকারীদের বিচার দাবি করেন।

সেফহোমের উপ-তত্ত্বাবধায়ক লাইজু রাজ্জাকের সাথে এ প্রসঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, সেভহোমে আসা ভিকটিমদের শরীর তল্লাশী করে ভিতরে প্রবেশ করানো হয়। মনিষার শরীর তল্লাশীতে চিঠিটি ধরা পড়ে। তিনি জানান, সেভহোমে এ ধরনের অপকর্ম করার কোন সুযোগ নেই।

মামলার তদন্তকারী অফিসার সৈয়দপুর থানার এসআই সাহিদুর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, মামলার বাদী একটি চিঠি (ফটোকপি) আমাকে প্রদান করেছে। যেহেতু মামলাটি এখনও তদন্তাধীন, তাই মামলার তদন্তের সাথে চিঠির বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সৈয়দপুর সার্কেল) অশোক কুমার পালের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি চিঠির বিষয়ে অবগত নন বলে জানান। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি অবশ্যই তদন্ত হবে। এতে যদি কোন পুলিশ সদস্য জড়িত থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উল্লেখ্য যে, চলতি বছর ২৯ জানুয়ারী নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের মিস্ত্রিপাড়ায় মামা বাড়ী থেকে অপহরণ হয় কলেজছাত্রী দিল আফরোজা ওরফে ইতি। এ ঘটনায় পুলিশ ১৮ জুন অপহরণ মামলার প্রধান আসামী নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার পানিয়াল পুকুর শাহপাড়ার শহীদ শাহকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে এবং পরদিন আদালতে হাজির করা হলে বিজ্ঞ বিচারক শহীদকে জেলহাজতে প্রেরণ করে। এর পাঁচ দিন পর ২৪ জুন আসামী শহীদ শাহ-এর গ্রাম থেকে পুলিশ উদ্ধার করে দিল আফরোজাকে। পরদিন ভিকটিমের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে আদালতের জবানবন্দি প্রদান করে এবং আদালতের নির্দেশে ভিকটিম ইতিকে রাজশাহী সেফহোমে প্রেরণ করে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ