• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৪ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

সৈয়দপুরে ট্রেন দূর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেল পথচারীরা!

বিশেষ প্রতিনিধি, ২৭ আগষ্ট ।। সৈয়দপুরে ট্রেন চলাচলের সময় গেট ব্যারিয়ার না নামানোয় অল্পের জন্য শত-শত পথচারি প্রানহানী থেকে রক্ষা পেয়েছে। দায়িত্ব অবহেলার এ ঘটনায় গেটম্যান ও ষ্টেশন মাষ্টার পরস্পরকে দায়ি করছেন। মঙ্গলবার (২৭ আগষ্ট) বেলা সাড়ে ১১ টায় শহরের পাঁচ মাথা মোড়ের ১২৫ নং রেলগেটে। পরে পথচারিরা ওই গেটম্যানের ওপর চড়াও হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
প্রতক্ষদর্শীরা জানায়, চিলাহাটি থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী আন্তঃনগর রুপসা এক্সপ্রেস নামে ৬২ নং ট্রেনটি বেলা সাড়ে ১১টায় সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশন ছেড়ে যায়। দুই মিনিটেই স্টেশনের পর ১২৬ নং গেটের পর ১২৫ নং পাচঁমাথা গেটে পৌছে যায়। এ গেটম্যান মোতাহার হোসেন গেট ব্যারিয়ার ফেলতে ভুলে যায়। এ সময় চলন্ত ট্রেনকে দেখে তৎক্ষনাত ওই গেট সংলগ্ন দায়িত্ব পালনরত ট্রাফিক-পুলিশ ও অন‌্যান‌্যরা ছুটে এসে ব্যারিয়ার নামিয়ে দিয়ে যানবাহন ও পথচারিদের ধাক্কা দিয়ে নিরাপদে সরিয়ে দেয়। এতে প্রায় রিক্সা ও অন্যন্য পরিবহনের যাত্রি ও শত-শত পথচারির প্রান রক্ষা পায়। পরে ট্রেনটি চলে যাওয়ার পর উত্তেজিত জনতারা গেটম্যানকে আটকিয়ে মারধরের চেষ্টা করে।
রেল গেটের পাশের মোড়ে দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জন আশরাফ আলী জানান, এই শহরের এ মোড়ের রেল লাইনকে অতিক্রম করে প্রতিদিন হাজারো যানবাহন ও পথচারি পারাপার করেন। আর ওই সময় স্কুল.কলেজের শিক্ষার্থীসহ হাজারো মানুষের আনাগোনা। ঠিক ওই মুহুর্তের এ ঘটনায় ব্যাপক প্রানহানী ঘটত। নেহাল নামে এ গেট সংলগ্ন এক মুচি জানান, ট্রেনের শব্দ পেয়ে দ্রত গেট নামালে অনেক লোক গেটের ভিতরে আটকা পরে। ট্রেন প্রবেশের মূহুর্তে তাদেরকে সরিয়ে দেয়া হয়।
গেট কিপার মোতালেব হোসেন বলেন, চিলাহাটি থেকে প্রবেশে পর কিছু সময় সৈয়দপুর ষ্টেশন ইয়ার্ডে থাকে। এরপর প্রধান ষ্টেশন মাষ্টার একবার ফোন দিয়ে জানায় যে ষ্টেশনে ট্রেন। এরপর রাজিয়া নামে এক গেটম্যান মোবাইল ফোনের তাকে জানিয়ে দেয়। এতে ষ্টেশন থেকে ট্রেনটি ছাড়ার সময় না জানানোয় এ ভুল হয়েছে।
এ নিয়ে সৈয়দপুর ষ্টেশনের গেটম্যান রাজিয়া সুলতানা বলেন, আমিসহ প্রধান ষ্টেশন মাষ্টার মিলে ৪ বার কল দিয়েছে। তারপরেও গেটম্যান অস্বীকার করলে করার কিছুই নেই।
সৈয়দপুর রেলষ্টেশনের প্রধান ষ্টেশন মাষ্টার মোঃ শওকত আলী গেটম্যানের এ অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, আমি তিনবার তাকে মোবাইলের মাধ্যমে ট্রেন ছাড়ার কথা জানিয়েছি। সে ফাঁকি বা অন্য কাজে ব্যস্ত থাকলে আমার করার কিছুই নেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সূত্র জানায়, গেট ব্যারিয়ার না ফেলানোর দুর্ঘটনা থেকে শত-শত মানুষের প্রান রক্ষা হলেও দায়িত্ব অবহেলার কারণে একে অপরকে দোষারোপ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে আজকের এ ঘটনা বর্তমান রেলব্যবস্থাপনাকে তামাশার খোড়াক বানানোয় এদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান পথচারি ও এ শহরের সচেতন মানুষেরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ