সিসি ডেস্ক, ২ অক্টোবর।। সারা দুনিয়ার যোগাযোগব্যবস্থা দ্রুত থেকে দ্রুততর হলেও বাংলাদেশ রেলওয়ের গতি ক্রমেই কমছে। ব্রড গেজে ১০০ ও মিটার গেজে ৮০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলার উপযোগী করে রেললাইন স্থাপন করা হয়েছিল। এই গতিতে এখন কোথাও গাড়ি চলে কি? ২০১৭ সালে ঢাকায় প্রবেশের গতি ৩৬ থেকে কমিয়ে ৩২ কিলোমিটার করা হয়েছে। অথচ ছয় বছর আগে তেজগাঁও-কমলাপুর রেলপথে ট্রেন চলত ৪০ কিলোমিটার গতিতে। গতি এভাবে কমে যাওয়ার মূল কারণ, লাইনের রক্ষণাবেক্ষণ ঠিকমতো না হওয়া, সেতুগুলোর জীর্ণদশা এবং রেললাইনের পাথর সরে যাওয়া বা না থাকা। দ্রুতগতিতে গাড়ি চালাতে গেলেই লাইনচ্যুতির ঘটনা ঘটে। রেলওয়ের উন্নয়নের জন্য অনেক প্রকল্পও নেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোনো প্রকল্পের কাজই সময়মতো শেষ হয় না।
প্রকল্পের সঙ্গে দুর্নীতির সম্পর্ক নতুন নয়। যত বড় প্রকল্প, তত বেশি দুর্নীতি। অভিযোগ আছে, প্রকল্প ঝুলিয়ে রাখা হয় অনেক দিন ধরে সুযোগ-সুবিধা নেওয়া ও লুটপাটের সুযোগ বাড়ানোর জন্য। প্রকল্প যত বিলম্বিত হয়, প্রকল্পের খরচও তত বাড়তে থাকে। প্রকল্পের এমন অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী নিজেও ক্ষুব্ধ। আমেরিকায় বসেও তিনি এই মর্মপীড়া থেকে বেরোতে পারেননি। তাই নিউ ইয়র্কের সংবর্ধনা সভায়ও তিনি বলতে বাধ্য হয়েছেন, প্রকল্পের অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহৃত হলে বাংলাদেশ এত দিনে আরো অনেক দূর এগিয়ে যেত।
জানা যায়, ঢাকা থেকে টঙ্গী পর্যন্ত রেলপথে তৃতীয় ও চতুর্থ লাইন এবং টঙ্গী থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত ডুয়াল গেজ ডাবল লাইন নির্মাণের জন্য সাত বছর আগে এক হাজার ৩৯৩ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত এর কাজ বলতে গেলে শুরুই হয়নি। একের পর এক ওজর-আপত্তি তোলা হচ্ছে। সোমবার রেলমন্ত্রী সরেজমিনে প্রকল্পের অবস্থা দেখতে গিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন। দ্রুত কাজ এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেছেন, কোথাও সমস্যা দেখা দিলে সমস্যার জায়গাটি বাদ দিয়ে হলেও কাজ এগিয়ে নিন।
রেলওয়েতে সমস্যার অন্ত নেই। অভিযোগ আছে, ভূমির লিজ নিয়ে চলে বাণিজ্য, লিজ না দিয়েও সমঝোতায় অন্যদের ভূমি ব্যবহার করতে দিয়ে অর্থ উপার্জন, নিজস্ব কারখানাগুলোর যথাযথ ব্যবহার না করে আমদানির তালিকা বাড়ানোসহ আরো অনেক অনিয়মের। তাই রেলসংশ্লিষ্ট অনেকেই মনে করেন, রেলওয়েতে শুদ্ধি অভিযান চালানো জরুরি। কালেরকন্ঠ