• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২১ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

আ’লীগের দু’পক্ষে সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ২০

রাজবাড়ী, ১৪ অক্টোবর।। জেলার গোয়ালন্দ উপজেলায় আওয়ামী লীগের দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন। উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে সোমবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নবনির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজুল ইসলাম এবং সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান আতর আলী সরদারের সমর্থকরা আতর চেয়ারম্যানের বাজারে এ সংঘর্ষে জড়ান।

নিহতের নাম রেজাউল মোল্লা ওরফে আবু ডাক্তার। তিনি দেবগ্রাম ইউনিয়নের মুন্সিপাড়া গ্রামের মোবারক মোল্লার ছেলে। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। নিহত আবু ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজুলের মেয়ের দেবর।

আহতদের মধ্যে আতর আলী সরদারের ছেলে ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বাবলু, বাবলুর মামা আ. সালাম বেপারী, আ. সাত্তার খান, টোকন সরদার, গাজী সরদার, হাফিজুল চেয়ারম্যানের সমর্থক নিজাম শেখ, রহমান সরদার ও আলো মোল্লার নাম জানা গেছে। তাদের গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। বাকিদের অন্যান্য স্থানে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং কয়েকজন আতঙ্কে এলাকায় রয়ে গেছেন বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে গুরুতর পাঁচজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক ফজলুল হক জানান, সোমবার বিকেলে দেবগ্রাম ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক কাউন্সিল স্থানীয় দেবগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চলছিল। প্রথম অধিবেশন শেষে শুরু হয় কাউন্সিলরদের ভোট গ্রহণ পর্ব। এ সময় হাফিজুল চেয়ারম্যানের ছেলে বকুল ও সাবেক চেয়ারম্যান আতর আলীর ছেলে সিরাজুল ইসলাম বাবলুর মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। এর জের ধরে পরে দু’পক্ষ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়ায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোট গ্রহণ শেষে হাফিজুল চেয়ারম্যানের সমর্থকরা আতর চেয়ারম্যানের বাজারে এলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষ ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। এ সময় হাফিজুলের সমর্থকরা আতর চেয়ারম্যানের বাড়িতে হামলা চালায়।

এদিকে হামলার খবর পেয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানার এক দল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান স্থানীয়রা। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এ বিষয়ে যুবলীগ নেতা সিরাজুল ইসলাম বাবলু চিকিৎসাধীন অবস্থায় জানান, কাউন্সিলস্থলে হাফিজুল চেয়ারম্যানরা চরমপন্থি সন্ত্রাসীদের জড়ো করে কাউন্সিলকে প্রভাবিত করছিল। এর প্রতিবাদ করায় তারা আমার ওপর চড়াও হয়। পরে আমাদের লোকজন ও বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে জখম ও ভাংচুর করে।

ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাফিজুল ইসলাম বলেন, আতর আলী সরদারের লোকজন আমার মেয়ের দেবর আবু ডাক্তারকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে। তিনি জানান, আওয়ামী লীগের কাউন্সিল হলেও যুবলীগ নেতা বাবলু সেখানে জোর করে অবস্থান করে কাউন্সিলে বিঘ্ন ঘটাচ্ছিল। এ নিয়ে সামান্য বাকবিতণ্ডা হলেও পরে ওরা সংঘবদ্ধ হয়ে আমার লোকজনের ওপর হামলা চালায়। চরমপন্থিদের অবস্থানের অভিযোগ সঠিক নয়।

গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি রবিউল ইসলাম জানান, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ