জয়পুরহাট, ২০ অক্টোবর।। জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার পানিয়েল গ্রামের বাবুল হোসেন নামে কথিত এক আদম ব্যাপারী বিদেশগামী যুবকদের অর্থ ফেরৎ না দেওয়ার কৌশল হিসেবে তাদের বিরুদ্ধে উল্টো অপহরন ও চাঁদাবাজীর মামলা দায়ের করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত বাবুল হোসেন (৪৫) একই গ্রামের মৃত ইব্রাহিম হোসেন ওরফে ইব্রা’র ছেলে।
ভূক্তভোগী, জনপ্রতিনিধি ও গ্রামবাসীদের অভিযোগে জানা যায়, বাবুল হোসেন প্রায় এক দেড় বছর আগে বিদেশে লোভনীয় চাকুরী দেওয়ার নাম করে গ্রামের বেশ কয়েক জন বেকার যুবকের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেয়। এরপর বছর গড়িয়ে গেলেও কাউকে তিনি বিদেশ পাঠাতে পারেননি বলে ওই যুবকরা বাবুলের কাছে টাকা ফেরত চান। বাবুল ওই যুবকদের টাকা ফেরত দিতে বারবার সময় নিয়েও ব্যর্থ হলে গত ওই যুবকরাসহ গ্রামবাসীরা তাকে ভৎসর্না করেন। এতে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওই যুবকসহ কয়েক জনের বিরুদ্ধে জয়পুরহাট সিনিয়ার জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে গত ১৭ সেপ্টেম্বর অপহরন ও চাঁদাবাজীর মামলা করেন।
একই গ্রামের মানবাধিকার কর্মী আজাহার আলী, ওয়ার্ড যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাদৎ হোসেন, শফিকুল ইসলাম সাখিদারসহ এলাকাবাসীরা জানান, বাবুল বেশ কয়েক বছর আগে দুবাইয়ে ছিলেন। সেখান থেকে গ্রামে ফিরে এক দেড় বছর আগে এলাকায় প্রচার করতে থাকেন যে তিনি বিদেশে ভালো বেতনে চাকুরী দিতে পারবেন। এ সব লোভনীয় প্রস্তাব দিয়ে এলাকার বেশ কয়েক জনের কাছ থেকে পাশপোর্টসহ মোাটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেন। অভাবী পরিবারের দুঃখ-কষ্ট দুর করতে সহায়-সম্বল বিক্রি করা ছাড়াও বিভিন্ন এনজিও’র কাছ থেকে ঋন নিয়ে তারা টাকাগুলো বাবুলের হাতে তুলে দেন। এরপর নির্ধারিত সময় পার হলেও কাউকেই বিদেশ পাঠাতে না পারলে বিদেশ গমন ই”্ছুকরা জানতে পারেন তারা প্রতারিত হয়েছেন। এরপর তারা টাকাগুলো ফেরত চাইলে বাবুল ‘আজ দিব কাল দিব’ বলে কালক্ষেপন করতে থাকেন। গ্রামবাসীরা আরো জানান, এ নিয়ে গ্রামে দফায় দফায় সালিশ-দরবার হয়, সেখানে বাবুল সবার সামনে টাকাগুলো দিতে রাজী হলেও টাকাগুলো ফেরত না দেওয়ার কৌশল হিসেবে ভূক্তভোগীদের বিরুদ্ধে অপহরন ও চাঁদাবাজীর মিথ্যা মামলা দায়ের করেন।
প্রতারিতদের মধ্যে পানিয়েল গ্রামের ভূক্তভোগী যুবক আব্দুল মজিদ মন্ডল (৩০), শামিম হোসেন (২৫) ও রানা বাবু অভিযোগ করে বলেন, ৩-৬ মাসের মধ্যে তাদের ব্রুনাই বা দুবাইতে ৩০/৪০ হাজার টাকা বেতনের চাকুরী দেওয়ার নাম করে বাবুল তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে ১ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগী বিক্রি করা ছাড়াও তারা এনজিও’র কাছ থেকে ঋন নিয়ে ওই টাকাগুলো সংগ্রহ করেন। বিদেশ পাঠাতে ব্যর্থ হওয়ায় “ আমরা বার বার বাবুলের কাছে টাকা চাচ্ছি বলে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেছে। বাবুল টাকাও দিল না, এখন আবার পুলিশের ভয়ে আমরা বাড়ি ছাড়া,” বলে জানান ভূক্তভোগী যুবক মজিদ।
স্থানীয় ইউপি সদস্য সেকেন্দার আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ‘ এ ব্যাপারে গ্রামবাসীদের নিয়ে বেশ কয়েকবার সালিশ-দরবার করেছি, দরবারে বাবুল তার অপকর্মের কথা স্বীকার করে টাকাগুলো ফেরত দিতে অঙ্গীকারও করেন। কিন্তু টাকা ফেরত না দিয়ে ওই যুবকদের বিরুদ্ধে তিনি যে মামলা করেছেন তা সম্পূর্ন মিথ্যা।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত বাবুলের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া না গেলেও নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক তার স্ত্রী ও কন্যা জানান, তিনি কোথায় গেছেন তা তারা জানেন না। পরে তার মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে তার আইনজীবি এ্যাডভোকেট ফরিদুজ্জামান বলেন, গত ১৭ সেপ্টেম্বর জয়পুরহাট সিনিয়ার জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট গোলাম মাহফুজের আদালতে পানিয়েল গ্রামের বাবুল হোসেন বাদী হয়ে কয়েক জনের বিরুদ্ধে অপহরন ও চাঁদাবাজীর মামলা করেন।
মামলাটি তদšতাধীন রয়েছে বলে এ ব্যাপারে কোন মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পাঁচবিবি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আহম্মদ আলী ।