• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২২ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

সৈয়দপুরের শ্বাষকান্দর ব্যাঙমারী স্কুলের শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন, প্রধান শিক্ষক অবরুদ্ধ

সিসি নিউজ, ২৬ অক্টোবর।। এমপিওভুক্ত না হওয়ায় নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার শ্বাষকান্দর ব্যাঙমারী নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ক্লাস বর্জন করে বিদ্যালয় মাঠে অবস্থান নেয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা অবিলম্বে এমপিওভুক্তির তালিকায় তাদের বিদ্যালয়ের নাম অন্তর্ভূক্ত করা দাবি জানায়। আজ শনিবার বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এ দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অভিভাবকরা একাত্মতা প্রকাশ করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের শিক্ষানুরাগী ও বিদ্যোৎসাহী মরহুম নজির উদ্দিন প্রামানিক। তিনি তাঁর জীবদ্দশায় বিগত ২০০২ সালে নিজস্ব সাড়ে ৫৩ শতক জায়গায় শ্বাষকান্দর ব্যাঙমারী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার দুই বছরের মধ্যে গত ২০০৪ সালে বিদ্যালয়টি পাঠদান এবং ২০০৫ সালে একাডেমিক স্বীকৃতি লাভ করে। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত দুই শতাধিক শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের মধ্যে নারী শিক্ষার্থীর সংখ্যায় বেশি। আর শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছে ৭ জন। কর্মচারী আছেন ২ জন। প্রতিষ্ঠাকালীণ থেকে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে নিয়মিত পাঠদান দিয়ে আসছেন শিক্ষার্থীদের। গত ২০১৮ সালের জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষায় বিদ্যালয়ের শতভাগ শিক্ষার্থী পাশের সফলতা অর্জন করে। এর আগে বছরগুলোতেও জেএসসি পরীক্ষার্থীয় ঈর্ষনীয় ফলাফল করে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বিগত ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত হবে এমন স্বপ্ন ছিল। কিন্তু সে সময় অজ্ঞাত কারণে বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত থেকে বঞ্চিত হয়। এরপর এবারে এমপিওভূক্তির জন্য প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ সকল শর্ত পূরণ করে ও নিয়মকানুন মেনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আবেদন করে। আবেদনের পর বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীরা প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভূক্তি হবে এমন স্বপ্ন দিয়ে অপেক্ষার প্রহর গুনছিলেন। এ অবস্থার মধ্যে দীর্ঘ সাড়ে নয় বছরের মাথায় গত বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের ২ হাজার ৭৩০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভূক্তির ঘোষণা দেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক ঘোষিত এমপিওভূক্তির তালিকায় সৈয়দপুর উপজেলার শ্বাষকান্দর ব্যাঙমারী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নাম নেই। এতে করে বিদ্যালয়ের এমপিওভূক্তির অপেক্ষায় থাকা শিক্ষক-কর্মচারীরা হতাশায় পড়েন। আর শিক্ষার্থীরা হয়ে উঠেন বিক্ষুদ্ধ। গতকাল শনিবার প্রতিদিনের মতো যথাসময়ে শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসেন। কিন্তু বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা শ্রেণী কক্ষে না বসে বিদ্যালয় মাঠে অবস্থান নেয়। এ সময় বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা এমপিওভুক্তির তালিকায় তাদের বিদ্যালয়ের নাম অন্তভুক্তির দাবি জানায়। খবর পেয়ে তাদের অভিভাবকরা বিদ্যালয়ে ছুঁটে আসেন। তারা শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে একাত্মতা প্রকাশ করেন। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারা ক্লাসে না গিয়ে বিদ্যালয়ের মাঠে অবস্থান নেন। এর এক পর্যায়ে বিক্ষুদ্ধ শিক্ষক- কর্মচারী,শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা প্রধান শিক্ষক মো. রেজাউল করিমের কার্যালয়ে তালা ঝুলে দিয়ে তাকে অবরুদ্ধ করেন।
আজ শনিবার খবর পেয়ে সরেজমিনে শ্বাষকান্দর ব্যাঙমারী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় সকল শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের মাঠে অবস্থান দিয়ে বসে আসেন। তাদের সঙ্গে আছেন বিপুল সংখ্যক পুরুষ-নারী অভিভাবক ও শিক্ষক-শিক্ষিকারাও। এ সময় কথা হলে অভিভাবক আব্দুল মজিদ আক্ষেপ করে বলেন, আশপাশের ৪/৫ কিলোমিটারে মধ্যে নিম্ন মাধ্যমিক কিংবা মাধ্যমিক কোন বিদ্যালয় নেই। আশপাশের কমপক্ষে ১০ গ্রামের শিক্ষার্থীরা এ বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করছে। বিগত দিনে প্রতিষ্ঠানটি জেএসসি পরীক্ষার ফলাফলও সন্তোষজনক। দীর্ঘ দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বিনাবেতন শিক্ষার্থী পাঠদান করাচ্ছেন।
বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক আনিছুর রহমান, মতিয়ার রহমান ও মেরিনা বানু বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে বিদ্যালয়ে পাঠদান দিচ্ছিন। আর কতদিন এভাবে বিনা বেতন চাকরি করবো বলুন? এদিকে সরকারি চাকুরির বয়সও প্রায় শেষ হয়ে যাচ্ছে।
প্রধান শিক্ষক মো. রেজাউল করিম বলেন, এমপিওভুক্তির সকল শর্ত মেনে আমরা বিদ্যালয়টি এমপিওভূক্তকরণের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আবেদন করি। আশা ছিলাম এবারে বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত হবেই।
বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মো. মোকছেদ বসুনিয়া বলেন, বিদ্যালয়টির উপজেলার একেবারে প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থিত। যার আর কত দিন সরকারি বেতন-ভাতা ছাড়া পাঠদান দেবেন। তাদেরও তো সংসার, পরিবার পরিজন আছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ