• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৫ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

বড় পরিবর্তন আসছে শিক্ষায়

সিসি ডেস্ক, ১ জানুয়ারী।। শিক্ষায় বড় পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ২০২১ সাল থেকে প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পাঠ্যক্রম ও সূচিতে আসছে পরিবর্তন। শিশুদের পড়াশোনার চাপ কমাতে প্রাথমিক স্তরে পাঠ্যবইয়ে বিষয়বস্তু কমিয়ে আনা হচ্ছে।

মাধ্যমিক স্তরে (মানবিক, বিজ্ঞান ও বাণিজ্য) বিভাগ বিভাজন থাকছে না। উচ্চ মাধ্যমিক স্তরেও আসছে পরিবর্তন। সর্বশেষ ২০১৭ সালে বিষয়বস্তুর বদলে সৃষ্ট বিতর্কের পর এবার ঢেলে সাজানো হচ্ছে।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) বলছে, ২০২১ সাল থেকে পরিমার্জিত পাঠ্যবই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিতে কাজ চলছে। এদিকে নতুন বছর থেকে বাজারে পাঠ্যসহায়ক সব বইয়ের দাম কমাচ্ছে পাঠ্যপুস্তক সমিতি।

এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালে পাঠ্যবই পরিবর্তন হচ্ছে মাধ্যমিক স্তরে। বিভাগ বিভাজন তুলে দেওয়ায় নবম ও দশম শ্রেণিতে সবাইকে একই পাঠ্যবই পড়তে হবে। এতে একজন শিক্ষার্থী মাধ্যমিক স্তরে সব বিষয়ে জ্ঞান লাভ করবে। ২০২২ সাল থেকে ‘শিশু শ্রেণি’ নামে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষাকে দুই বছর মেয়াদে উন্নীত করায় এ স্তরের পাঠ্যবইয়েও আসবে পরিবর্তন।

চলমান পাঠ্যক্রম অনুযায়ী, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ৩টি করে পাঠ্যবই এবং তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ৬টি করে পাঠ্যবই পড়তে হয়। ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ১৩টি পাঠ্যবই পড়তে হয়। নবম ও দশম শ্রেণিতে ২৭টি এবং একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে ৩৯টি পাঠ্যবই পড়তে হয়। তবে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ আলাদা থাকায় নবম, দশম ও একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থীদের সব বিষয়ের বই পড়তে হয় না। মাদ্রাসায় ধর্মীয় ৪টি বিষয় কোরআন, আকাইদ ও ফিকাহ, হাদিস এবং আরবির পাঠক্রমেও পরিবর্তন আসছে। আবার ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণিতে ‘নৈতিক শিক্ষা ও ধর্ম, শারীরিক শিক্ষা ও চারুকলা’ এরকম একই বিষয়গুলোকে একত্রিত করে বই কমিয়ে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে বর্তমানে ১০০ নম্বরের পরীক্ষা মান কমিয়ে ৫০ নম্বরে আনা হবে। বাকি ৫০ নম্বর থাকবে ধারাবাহিক মূল্যায়নের জন্য।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লব মোকাবিলায় দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে পাঠ্যক্রম পরিবর্তন করা হচ্ছে। এছাড়া ২০৩০ সালের মধ্যে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা, উন্নত দেশে পরিণত হতে রূপকল্প ২০৪১ অর্জন এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের শিক্ষাক্রমের সংগতি রেখেই পরিবর্তন ও পরিমার্জন করা হবে নতুন পাঠ্যবইয়ে।

পরীক্ষা ও মুখস্থনির্ভর পড়াশোনাকে কমিয়ে ক্লাসে ব্যবহারিক ও ধারাবাহিক মূল্যায়নে জোর দিয়ে পাঠ্যবইয়ে পরিবর্তন আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এনসিটিবির শিক্ষাক্রম বিশেষজ্ঞরা।

এনসিটিবির সদস্য (শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক ড. মশিউজ্জামান বলেন, ক্লাসে ব্যবহারিক ও ধারাবাহিক মূল্যায়নকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। যে বিষয় যে শ্রেণিতে শেখা গুরুত্বপূর্ণ নয়, সেই বিষয় মুখস্থ করতে হয় শিক্ষার্থীদের। সে কারণে শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ পড়ে যায়। আমরা সেই জায়গাটি নিয়েই কাজ করছি। বিষয়বস্তু কমিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে শিশুদের বইয়ের বোঝা কমে আসবে, পড়াশোনার চাপ কমবে, একই সঙ্গে পরীক্ষার চাপও কমবে।

এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালে প্রথম ও ষষ্ঠ শ্রেণির শিশুরা নতুন কারিকুলামে তাদের পাঠ্যবই হাতে পাবে। ২০২২ সালে প্রাথমিকের দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণি; মাধ্যমিকের সপ্তম, নবম এবং উচ্চ মাধ্যমিকের একাদশ শ্রেণির নতুন পাঠ্যবই হাতে পাবে শিক্ষার্থীরা। আবার ২০২৩ সালে পঞ্চম, অষ্টম, দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির নতুন কারিকুলামের পাঠ্যবই হাতে পাবে শিক্ষার্থীরা। আগামী বছর পর্যন্ত বিদ্যমান শিক্ষাক্রমের পাঠ্যই পড়বে শিক্ষার্থীরা।

এদিকে আগামী জানুয়ারি থেকে কম দামে বই পাবে শিক্ষার্থীরা। পাঠ্যপুস্তক থেকে শুরু করে পাঠ্যসহায়ক বই, রেফারেন্স বই, প্র্যাকটিস বই, অনুশীলন বই, র‌্যাপিড রিডার, মাদ্রাসার বই, কলেজের বই ও পাঠ্যপুস্তকের বাইরে অন্যান্য সাধারণ বইয়েরও দাম কমানো হচ্ছে। সর্বনিম্ন ২০ থেকে সর্বোচ্চ ৪২ শতাংশ পর্যন্ত দাম কমবে। বইয়ের দাম কমানোর এ সিদ্ধান্ত দেশের শিক্ষার্থী ও পাঠকদের মধ্যে বিরাট স্বস্তি বয়ে আনবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ