সিসি ডেস্ক, ২৫ ফেব্রুয়ারী।। করোনাভাইরাস আরো বিস্তৃত আকারে ছড়িয়ে যাওয়া ঠেকাতে সারাবিশ্বের আরো প্রস্তুতি গ্রহণ করা দরকার বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও)। ডাব্লিউএইচও বলছে, ভাইরাসটিকে মহামারি হিসেবে চিহ্নিত স্বল্প সময়ের মধ্যে করা হলেও বিশ্বের দেশগুলোকে একটা পর্যায় পর্যন্ত প্রস্তুতি রাখতেই হবে।
যখন কোনো রোগবালাই বিশ্বব্যাপী একজন ব্যক্তি থেকে আরেকজন ব্যক্তিকে সহজেই আক্রান্ত করে, তখন তাকে মহামারি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। করোনাভাইরাস এরই মধ্যে চীনের বাইরে ৩০টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।
বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়া, ইতালি, জাপান ও ইরানে আক্রান্তের হার এবং নিহতের সংখ্যা বিশেষজ্ঞদের বেশ উদ্বেগের মধ্যে ফেলেছে। এখন পর্যন্ত চীনেই ৭৭ হাজার ছাড়িয়েছে আক্রান্তের সংখ্যা এবং দুই হাজার ছয় শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।
অন্য ৩০ দেশে এক হাজার দুই শতাধিক মানুষ আক্রান্ত হয়েছে এবং ২০ জনেরে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ইতালিতে সোমবার আরো চারজনের মৃত্যুতে সংখ্যা সাতজনে ঠেকেছে। এদিকে চীনে করোনাভাইরাসের হানায় বিশ্ববাজারে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। করোনাভাইরাসের কারণে সংসদের বার্ষিক অধিবেশন পর্যন্ত পিছিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে চীন। যা ১৯৭৮ সালের পর একবারও ঘটেনি।
চীন বলছে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা এক থেকে দুই শতাংশ। তবে ডাব্লিউএইচও বলছে, আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর হার এখন পর্যন্ত স্বচ্ছভাবে জানা যায়নি। সোমবার, ইরাক, আফগানিস্তান, কুয়েত, ওমান এবং বাহরাইনে নতুনভাবে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। এতে করে উদ্বেগ আরো বেড়েছে।
ডাব্লিউএইচও’র প্রধান টেডরস আডহানম ঘেবরেয়াসাস সাংবাদিকদের বলেছেন, সম্প্রতি ইরান ইতালি এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় নতুনভাবে আক্রান্তের বিষয়টি ব্যাপক উদ্বেগের।
তিনি আরো বলেন, এই মুহূর্তে ভাইরাসটি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে যাওয়ার সাক্ষী হতে চাই না আমরা এবং বড় ধরনের রোগ কিংবা অগণিত প্রাণহানি দেখতে চাই না। এই ভাইরাসটি কি মহামারি? অবশ্যই, এটা তা। কিন্তু আমরা কি এখনো সেই পর্যায়ের প্রস্তুতি নিয়েছি? আমাদের (ডাব্লিউএইচও) মূল্যায়ন থেকে, এখনো সেটা গ্রহণ করা হয়নি।
তিনি আরো বলেন, করোনাভাইরাসের সঙ্গে মহামারি শব্দটা খাপ খায় না, এটা আরো ভয়াবহ হতে পারে। তবে বিশ্বের সবগুলো দেশকে দৃঢ় মনোবল রেখে এই ভাইরাস মোকাবিলা করা দরকার। এখনই সেই সময়, মহামারি মোকাবিলায় যা যা করা দরকার, তার সবগুলো করতে হবে।
সূত্র : বিবিসি