সিসি নিউজ, ১৯ মার্চ ॥ নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের গোলাহাটে সরকারী খাস খতিয়ানে ৪২ শতক জমি দখলে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে দু’টি পক্ষ। বুধবার রাতে প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যের এ জমি নিজেদের দাবি করে উভয় পক্ষ দখলে নেয়ার চেষ্টা চালালে তাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের ১১জন আহত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে ৪জনকে আটক করে।
সৈয়দপুর পৌর ভূমি অফিস মতে, পৌর এলাকার গোলাহাট পুলিশ ফাঁড়ির ১০০ গজ দূরে কয়া মৌজার ৪৯৪৭ দাগের ৪২ শতক জমি লা-ওয়ারিশ খাস জমি হিসেবে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। ইতিপূর্বে দুই দফায় স্থানীয় দুটি প্রভাবশালী গ্রুপ একক ভাবে গাছসহ উক্ত সম্পত্তি নিজেদের দখলে নেয়ার চেষ্টা চালায়। বুধবার রাতে (১৮ মার্চ) একটি গ্রুপ দখলে নিতে গেলে অপর গ্রুপটি বাঁধা প্রদান করায় সংঘর্ষ বাঁধে। এতে উভয় পক্ষের ১১জন আহত হয়। স্থানীয়রা আহতদের সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করায়। এদের মধ্যে গুরুতর আহত আনোয়ার হোসেনকে (৩৮) উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে কর্তব্যরত চিকিৎসক।
খবর পেয়ে সৈয়দপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে ৪জনকে আটক করে। আটককৃতরা হলেন, হৃদয় (২০), সাঈদ হাসান (১৮), ইরফান (২৬) ও মাহবুব আলম (৪০)। রাতে একটি গ্রুপের পক্ষ্যে মাহমুদ আলম বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় আটক হৃদয় ও সাঈদ হাসানকে আসামী করায় আজ বৃহস্পতিবার তাদেরকে আদালতে প্রেরণ করে পুলিশ। অপরদিকে পুলিশের হাতে আটক ইরফান ও মাহবুবের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ না থাকায় ১৫১ ধারায় আদালতে প্রেরণ করে।
এ নিয়ে স্থানীয় ব্যাক্তিদের মধ্যে মো. শাহিদ ও আসিফ আহমেদ শুভ-এর সাথে কথা হয়। তারা জানান, লা-ওয়ারিশ খাস জমি দখলে নেয়ার প্রতিযোগিতায় উভয় গ্রুপের মধ্যে তিন দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে আমরা মহল্লাবাসী আতঙ্কিত। যে কোন সময় বড় ধরনের অঘটন ঘটে যেতে পারে। প্রশাসনের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করছে প্রতিবেশীরা।
সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল হাসনাত খান জানান, রাতে একটি পক্ষ মামলা করেছে। তবে অপর পক্ষটি অভিযোগ দিলে তা অবশ্যই গ্রহণ করা হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, কোন অবস্থাতে সেখানে অনাকাঙ্খিত কোন ঘটনা ঘটানোর কেউ চেষ্টা করলে তাকে আইনের আওতায় নেয়া হবে।
এ ব্যাপারে সৈয়দপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) পরিমল কুমার সরকার জানান, ৪২ শতক জমিই সরকারী সম্পদ। প্রতিপক্ষ দুটি গ্রুপই তাদের সম্পদ বলে দাবি করছে। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, চাইলে তো আর জমির মালিকানা হওয়া যায় না, মালিকানার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি থাকতে হবে।