সিসি নিউজ, ১ এপ্রিল ।। বাঙালিকে ঘরে আটকে দিয়েছে বিশ্বব্যাপী আতঙ্ক ছড়ানো নভেল করোনাভাইরাস। সচেতন মানুষ এই ভাইরাসের সংক্রমণের ব্যাপকতা আন্দাজ করে ঘরে থাকলেও অপেক্ষাকৃত কম সচেতন আর অতিউৎসাহী মানুষ ঘরে থাকার বিধানকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে নানা অজুহাতে অপ্রয়োজনে বাজারে ও রাস্তায় আসছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝে মাঝে এসে মাইকিং করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চাইলেও তাদের অনুপস্থিতিতে আবারো পুরোনো চেহারায় ফিরছে মানুষ। বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবি সংগঠন এবং ব্যাক্তি উদ্যোগে দিনরাত সচেতনতা চেষ্টা চালিয়েও ঘরে ফেরাতে পারছে না ওইসব মানুষজনকে। অনেকে খুলে বসেছে দোকান-পাট। এ চিত্র নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর শহরের।
সৈয়দপুর শহরে বেশির ভাগই শ্রমজীবী ও দিনমজুরের রুটি রুজির জন্য ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন। আর এক শ্রেণির উঠতি বয়সী তরুণ ও যুবকরা শুধুমাত্র আড্ডা দিতেই শহরের বিভিন্ন মোড়ে বের হচ্ছে। তবে সামরিক বাহিনী, জেলা-উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেট জনগণকে ঘরে থাকতে সব ধরনের সচেতনতামুলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
এখানে প্রবাসীদের মাঝে হোম কোয়ারেন্টাইন অমান্য করার প্রবণতা বেশিই। এ কারণ হিসেবে তাদের খামখেয়ালিপনাকেই দায়ী করছেন স্থানীয়রা। প্রবাসীরা মূলত নিজে ‘পূর্ণ সুস্থ’ এমন আত্মবিশ্বাস থেকেই ঘরে না থেকে বাইরে ঘোরাফেরা করছেন। তাদের কোনভাবেই হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা যাচ্ছে না।
স্থানীয় পর্যায়েও প্রশাসনের ঢিলেঢালা তৎপরতায় গণজমায়েত এড়ানো যাচ্ছে না। বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এ পরিস্থিতি দেখা গেছে। বিদেশফেরতরা নিয়মিত চায়ের দোকান, বাজার, মসজিদে যাতায়াত করছে। এলাকার মানুষের মধ্যে কিছুটা ভীতি থাকলেও বিভিন্ন জায়গায় গণজমায়েত তা ম্লান করে দিচ্ছে।
প্রশাসনের কঠোর নির্দেশ থাকার পরও কাঁচাবাজারগুলোতে মানা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্বের নিয়ম। বিভিন্ন সাপ্তাহিক হাটগুলো বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হলেও সেখানে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সমাগম হচ্ছে। শহরের অলি-গলির চা স্টলগুলো চালু হয়েছে।
সুশীল সমাজ বলছেন, ‘মানুষ আসলে বুঝতে পারছে না। সেজন্য প্রচারটা সেভাবে নিতে হবে। তাদের বোঝাতে হবে আমরা যেটা করছি সেটা প্রতিরোধ প্রতিকার নয়। এর কোনো ওষুধ এখনো আবিস্কৃত হয়নি। অসুখটা যাতে না ছড়ায় সেজন্য সচেতন হতে হবে। প্রয়োজনে কড়াকড়িভাবে হলেও বাধ্যতামূলক করার পদক্ষেপ নিতে হবে।
অবাধ্য নাগরিকদের ঘরে থাকতে বাধ্য করতে কী ধরনের কৌশল নেওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল হাসনাত খান সিসি নিউজকে জানান, এ ক্ষেত্রে আমরা মোটিভিশনকে গুরুত্ব দিচ্ছি। যারা হোম কোয়ারেন্টাইন মানছেন না, তাদের আমরা করোনা সংক্রমণ সম্পর্কে অবহিত করছি। কারণ বাসায় থাকাই এখন এই ভাইরাস প্রতিরোধের একমাত্র উপায়।