সিসি নিউজ, ৪ এপ্রিল ।। করোনাভাইরাস প্রার্দুভাবে কার্যত অচল সারাদেশ। কমে গেছে পত্রিকার বিকিকিনিও। এই বাস্তবতায় দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে হকারদের। আয় কমে এসেছে প্রায় শুন্যের কোঠায়। দুশ্চিন্তায় কপালে ভাজ পড়েছে তাদের। পত্রিকার খবরের গুরুত্ব থাকলেও দেশের জনগনের হাতে হাতে এসব পত্রিকা পৌঁছে দেওয়া হকারদের গুরুত্ব তেমন নেই। তাদের খোঁজ কেউ রাখে না। এমন আক্ষেপ খোদ হকারদের। এ অবস্থা সৈয়দপুরের হকারদের মাঝে।
কথা হয় পত্রিকা এজেন্ট প্রতিষ্ঠান মন্ডল পেপার হাউসের মালিক মজিদুল ইসলাম মন্ডলের সাথে। তিনি জানান, প্রতিদিন আড়াই হাজার কপি পত্রিকা বিক্রি হতো তার। বর্তমানে সে সংখ্যা ১২ শত নেমে এসেছে। বিক্রি কমে গেছে পঞ্চাশ শতাংশের কম। একই অবস্থা নিউজ কেবিনের। প্রতিষ্ঠানটির মালিক খালেদ নিয়াজী নান্না জানান, প্রতিদিন দুই হাজার পত্রিকার স্থলে এখন বিক্রি হচ্ছে এক হাজার কপি।
এক প্রশ্নের জবাবে এজেন্টরা বলেন, ৩০ জন হকার সৈয়দপুর শহরে পেপার বিক্রি করতো। করোনা ভাইরাসের কারনে পত্রিকার গ্রাহক সংখ্যা কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে হকাররা। পেপার বিক্রি কমে যাওয়ায় অনেকেই হাতগুটিয়ে বাসায় বসে আছে।
গ্রাহকের আশায় একটা বন্ধ দোকানের সামনে বসে পেপার বিক্রি করছেন গাফ্ফার আলী নামে এক হকার। তিনি বলেন, ‘মানুষ পত্রিকায় খবর দেখে। কিন্তু আমরা পেপারওয়ালা তো, আমাদের খবর কেউ রাখে না। করোনাভাইরাস আসার পর থেকে কেউ বাসায় ঢুকতে দেয় না। আমরাও পত্রিকা দিতে পারি না।’ এ অবস্থায় এখন তিনবেলা খাবার দিতে পারছি না পরিজনদের মুখে। এমনি ভাবে চললে আর ২/৩ দিনের মধ্যে অনাহারে থাকতে হবে।
পত্রিকার মাধ্যমে করোনাভাইরাস ছড়ায় না, বিষয়টি আরো আগেভাগে গণমাধ্যমে প্রচার করা দরকার ছিল বলে মনে করেন সৈয়দপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি, দৈনিক সংবাদ পত্রিকার প্রতিনিধি কাজী জাহিদ। তিনি বলেন, পত্রিকায় লেখা হয়েছে, পত্রিকার মাধ্যমে করোনাভাইরাস ছড়ায় না। এই লেখাটা আরও আগে লেখা হলে এজেন্ট ও হকারদের এতো ক্ষতি হতো না।