• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১৯ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করছে নীলফামারী জেলা পুলিশ

নীলফামারী, ২২ এপ্রিল ।। নীলফামারীতে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে হোম কোয়ারেন্টিন এবং লকডাউন নিশ্চিত করণে কাজ করছে নীলফামারী জেলা পুলিশ। ইতোমধ্যে জেলায় নয়জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ায় আরো বেশি তৎপর হতে হয়েছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের।
গেল নয় এপ্রিল রাত থেকে জেলা অবরুদ্ধ ঘোষণার পর নির্ধারিত সময়ে নিত্য পণ্যের বাজার এবং ঔষুধের দোকানে সামাজিক দুরত্ব এবং ঘরে থাকা নিশ্চিত করা, জনসমাগম রোধসহ যানবাহন প্রবেশ ও বর্হিগমণ নিশ্চিত করণে চেকপোস্টের মাধ্যমে কাজ করছে তারা।
বিশেষ করে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা ব্যক্তিদের কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করণে নিয়মিত পরিদর্শন এবং খোঁজ খবর রাখাসহ খাদ্য সংকটে থাকা মানুষদের খাদ্য সামগ্রী দিচ্ছে স্ব স্ব এলাকার পুলিশ বিভাগের সদস্যরা।
নীলফামারী থানার পরিদর্শক(তদন্ত) মাহমুদ উন নবী জানান, এখন আর আমাদের(পুলিশদের) রাত নেই। ২৪ঘন্টা একই অর্থাৎ দিন। কাজ করতে হচ্ছে অবিরত।
তিনি বলেন, অন্য জেলা থেকে আগত নতুনদের কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করা এবং হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা ব্যক্তিদের খোঁজ খবর নিতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। কিছু ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুসারে খাদ্য সামগ্রীও বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে আসতে হচ্ছে।
বিশেষ করে যারা নতুন করে কোয়ারেন্টিনে যাচ্ছেন তারা যাতে নিয়ম মেনে চলেন সেটি নিশ্চিত করা হচ্ছে মনিটরিং এর মাধ্যমে। এছাড়াও টহল ও চেকপোস্টতো রয়েছেই।
সংশ্লিষ্ঠ সুত্র জানিয়েছে জেলায় আক্রান্ত নয়জনই ঢাকা, গাজীপুর, নারায়নগঞ্জ, কুমিল্লা থেকে আগত। আর যেসব ব্যক্তি কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন তারা অধিকাংশই এসব জেলা থেকে আগত।
সিভিল সার্জন অফিস জানায়, গেল ২৪ঘন্টায় নতুন করে ৫১জন নিয়ে মোট কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন ৫৪৭৯জন। আর গেল ২৪ঘন্টার মধ্যে কোয়ারেন্টিন শেষ হয়েছে ২৬জনের। এছাড়া ১২জন রয়েছেন আইসোলেসনে। এরমধ্যে নয়জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত।
জেলা শহরের মাস্টারপাড়ার বাসিন্দা খবির আহমেদ বলেন, মানুষের মাঝে এখোনো সচেতনতা বোধটা এখোনো তৈরি হয়নি। প্রয়োজন ছাড়া অহেতুক ঘোরাঘুড়ি, আড্ডা দেওয়া, মোটর সাইকেলের চলাচল কমেনি। এটা লকডাউন বলা যায় না।
তিনি বলেন, পুলিশকে শেষমেষ এগুলো বাস্তবায়ন করতে হয় নাহলে হয় না। মানুষকে ঘরে ফেরানো, লকডাউন বাস্তবায়ন, সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত করণে পুলিশের হস্তক্ষেপই শেষ ভরসা।
জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার মোহাম্মদ আতিুকর রহমান বলেন, বাজারে মানুষ সে কারণে ফোন, এলাকায় নতুন কেউ আসছে তখন ফোন, রাস্তায় যান চলছে তখন ফোন, বাজারে ভীড় তখনও ফোন।
এখন অত্যন্ত ব্যস্ততার মধ্যে কাটাতে হচ্ছে। কারণ মানুষের ভরসাস্থল কিন্তু পুলিশের উপর। এজন্যই ক্লান্তিহীন সময় কাটাচ্ছে হচ্ছে আমাদের। তারপরও আমরা যেন সবাই ভালো থাকি।
জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান বিপিএম, পিপিএম বলেন, সবার আগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করণে দিনরাত আজ করছি আমরা। করোনার সংক্রমণের এই সময়ে সবার আগে খেয়াল করা হচ্ছে যেন কেউ ভাইরাসে আক্রান্ত না হই।
ভালো থাকার জন্য এনিয়ে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, সেনাবাহিনী সবাই একসাথে কাজ করছি যাতে আমরা।
এসপি মোখলেছুর রহমান বলেন, করোনা থেকে সুরক্ষায় পুলিশ বিভাগ সড়কে জীবানু নাশক স্প্রে করেছে, মাস্ক বিতরণ করেছে, লিফলেটও বিতরণ করেছে এমনকি খাদ্য সংকটে পড়া মানুষদের পাশেও ছিলো এবং রয়েছে। প্রয়োজন অনুসারে সেটা আমরা করছি।
তিন আহবান জানান, সম্মিলিত ভাবে এগিয়ে আসতে হবে করোনা প্রতিরোধে। এজন্য পুলিশকে সহযোগীতা করতে হবে। আইন মানতে হবে। যেহেতু জেলা লকডাউন সেহেতু কেউ আইনের ব্যতয় ঘটালে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে তার বিরুদ্ধে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ