পঞ্চগড়, ১১ মে ।। জেলায় আরও এক কয়েদিসহ দুই জনের করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয়েছে। একজন হলেন পঞ্চগড় জেলা কারাগারের কয়েদি ও অপরজন হলেন ঢাকা ফেরত যুবক।
পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জন ডা. মো. ফজলুর রহমান আজ রবিবার রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এ নিয়ে জেলায় মোট ১৩ জন করোনা পজেটিভ হলেন। পঞ্চগড় জেলা কারাগারের কয়েদি আক্তারুল ইসলাম (২৫) ও অপরজন উত্তম কুমার রায় (৩১)। তার বাড়ি জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার পামুলী ইউনিয়নের খোচাবাড়ি গ্রামে। সে ঢাকা থেকে গ্রামের বাসায় আসেন।
সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, এর আগে গত ১ মে রাতে জেলা কারাগারে এক কয়েদির অ্যাজমার সমস্যা বেড়ে গেলে শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। পরে রাতেই তাঁকে পঞ্চগড় সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে রাত সাড়ে তিনটার দিকে একটি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে পুলিশি পাহারায় তাঁকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে ভর্তির পরও শ্বাসকষ্ট থাকায় ৩ মে করোনাভাইরাস শনাক্তকরণের পরীক্ষার জন্য তাঁর নমুনা সংগ্রহ করে রংপুর মেডিকেল কলেজের ল্যাবে পাঠান চিকিৎসকেরা। গত ৫ মে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওই বন্দীর নমুনা পরীক্ষার ফল করোনা পজিটিভ আসে। ওই বন্দী যে ওয়ার্ডে থাকতেন, সেই ওয়ার্ড লকডাউন করার পর ওই ওয়ার্ডে থাকা ৫২ জন বন্দীসহ ৭৮ জনের নমুনা ৭ মে বৃহস্পতিবার সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়। এদের মধ্যে রবিবার ৫৫ জনের ফলাফল পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে দুইজনের পজিটিভ ফলাফল এসেছে।
পঞ্চগড় জেলা কারাগারের জেলার শফিকুল আলম বলেন, ‘ এর আগে যে কয়েদির করোনা পজিটিভ হয়েছিল সে গত ৩ মার্চ ঠাকুরগাঁও জেলা কারাগার থেকে পঞ্চগড় কারাগারে আসেন। এর মধ্যে একবার তিনি আদালতে হাজিরা দিতে গিয়েছিলেন। আগে থেকেই তাঁর অ্যাজমার সমস্যা ছিল। ১ মে তাঁকে হাসপাতালে পাঠানোর পর আমরা বন্দীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ সতর্কতা গ্রহণ করি। মঙ্গলবার রাতে ওই কয়েদির শরীরে করোনা শনাক্ত হওয়ার খবর পেয়ে তিনি যে ওয়ার্ডে ছিলেন, সেটি লকডাউন করে দেওয়া হয়েছে। ওই ওয়ার্ডে থাকা ৫২ জন বন্দীর বিশেষ নজরদারিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ওই কয়েদীকে হাসপাতাল নেওয়া থেকে শুরু করে তাঁর সংস্পর্শে আসা চারজন কারারক্ষীকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে।
সিভিল সার্জন জানান, এ পর্যন্ত পঞ্চগড় জেলা থেকে ৬৮১ জনের নমূনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। ফলাফল পাওয়া গেছে ৫৮৪ জনের। এদের মধ্যে ১৩ জনের পজিটিভ ফলাফল এসেছে।