সিসি ডেস্ক, ১২ মে ।। করোনার সংক্রমণে আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলে চলতি শিক্ষাবর্ষ আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। দীর্ঘ এই ছুটিতে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে শিক্ষাবর্ষের সময় বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিন্ধান্ত হয়নি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনন্থ সংস্থাটি মনে করছে, শিক্ষাবর্ষের সময় বাড়লে ২০২১ সালে ছুটি কমিয়ে শিক্ষাবর্ষের সময় ঠিক রাখা যাবে।
এ বিষয়ে এনসিটিবি চেয়ারম্যান নারায়ণ চন্দ্র সাহা বলেছেন, ‘করোনার কারণে যদি সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে তাহলে আমরা কীভাবে ব্যবস্থা নেবো, কী করবো এসব বিষয়ে বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে এনসিটিবির প্রস্তাব ছিল সিলেবাস না কমিয়ে শিক্ষাবর্ষ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বৃদ্ধি করা। যদি মার্চ থেকে ২০২১ সেশন শুরু করা যায় এবং ছুটি কমিয়ে দেয়া হয় তাহলে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি হবে না।’
সম্প্রতি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) মহাপরিচালক, আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, এনসিটিবি চেয়ারম্যান, মাউশির পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) অধ্যাপক শাহেদুল খবির চৌধুরীসহ কয়েকজন কর্মকর্তার ভার্চুয়াল বৈঠকে শিক্ষাবর্ষের সময় বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়।
বৈঠকে দু’একজন কর্মকর্তা সিলেবাস কমানোর প্রস্তাব করলে তাতে সবাই রাজি হননি। তাদের যুক্তি, সিলেবাস কমানো হলে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না; এতে শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত জ্ঞানও অর্জন হবে না। এই দুই প্রস্তাবের কোনোটিই চূড়ান্ত হয়নি; যা নির্ভর করছে করোনা সঙ্কট নিরসনের ওপর।
এনসিটিবি চেয়ারম্যান বলেন, ‘যদি জুলাইয়ের মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া সম্ভব হয় সেক্ষেত্রে শিক্ষাবর্ষ বাড়ানোর প্রয়োজন হবে না।’
করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘ এ ছুটিতে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের জন্য সংসদ টেলিভিশনে ক্লাস প্রচারের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভার্চুয়াল শিক্ষা কার্যক্রম করছে।