নীলফামারী প্রতিনিধি। মানবিকতার আরেক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নীলফামারী থানার পরিদর্শক(তদন্ত) মাহমুদ-উন-নবী।
আত্মহত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করতে গিয়ে নিজের বোধ থেকে একটি পরিবারের মৌলিক চাহিদা মেটাচ্ছেন তিনি।
তার কারণে পরিবারটি পাচ্ছে খাদ্য সামগ্রী এবং সন্তানদের দেয়া হয়েছে ঈদের নতুন পোষাক।
জানা গেছে করোনাকালীন সময়ে গেল ২৯এপ্রিল গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করেন সংগলশী ইউনিয়নের দক্ষিণ বালাপাড়া গ্রামের মনে উল্লাহ’র ছেলে তিন সন্তানের জনক মহির উদ্দিন(৪০)।
আত্মহত্যার কিছুদিন আগে হাত ভেঙ্গে কর্মহীন হয়ে পড়েন রিকসা ভ্যান চালক মহির। আর অসুস্থ্যতার কারণে অন্যের বাড়িতে ঝিঁ এর কাজ করা স্ত্রী বিলকিস বেগমও(৩৮) বাসায় কর্মহীন হয়ে থাকেন।
এরই মধ্যে দুই মেয়ে আর এক ছেলে এবং স্ত্রীকে রেখে আত্মহত্যা করেন তিনি।
ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে গিয়ে কষ্টকর তথ্য পান পুলিশ কর্মকর্তা মাহমুদ উন নবী।
তিনি বলেন, ওই বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে সন্ধ্যা বেলা কি খাবে এমন ব্যবস্থা ছিলো না। তাৎক্ষনিক ভাবে কিছু টাকা এবং চাল, ডাল, আটা প্রভৃতি পাঠানো হয়।
মাহমুদ উন নবী বলেন, দুই মেয়ে এবং এক ছেলের জন্য ঈদে নতুন পোষাক এবং খাদ্য সামগ্রী হিসেবে ১৫কেজি চাল, ৫কেজি আট, ৩ কেজি ডাল, ২কেজি চিনি ও ১কেজি সোয়াবিন তেল দেই ব্যক্তিগত ভাবে পরিবারটির জন্য।
পরিবারটির পাশে বিত্তবানদের এগিয়ে আসা উচিত বলে মনে করেন তিনি।
প্রসঙ্গত পুলিশ পরিদর্শক মাহমুদ উন নবী গত বছরের ১৯ মে নীলফামারী থানায় যোগদান করেন এরআগে তিনি একই পদে জলঢাকা থানায় কর্মরত ছিলেন।
ব্যক্তিগত ভাবে সামাজিক বিভিন্ন কাজে সম্পৃক্ত তিনি। ছেলের জন্মদিন পালন না করে জন্মদিনের খরচ ব্যয় করেছেন খাদ্য সংকটে থাকা নি¤œ আয়ের মানুষদের দিয়ে। তিনি শহরের অভুক্ত কুকুরগুলোকে দিয়েছিলেন খাদ্যও।