সিসি নিউজ, ১২ জুন ।। নীলফামারীর সৈয়দপুরে বৃদ্ধা মাকে নির্যাতন করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে বাড়ি জবর দখলের ঘটনায় প্রকাশিত খবরের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। আজ শুক্রবার বেলা ১১টায় বৃদ্ধা সাফতার বেগমের চতুর্থ ছেলে খালেদ সিদ্দিকী তাঁর মুন্সীপাড়ার বাড়িতে ওই সংবাদ সম্মেলন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বৃদ্ধা সাফতার বেগমের চতুর্থ ছেলে মো. খালেদ সিদ্দিকী। তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, তাঁর মা সাফতারা বেগমের বর্তমান বয়স পঁচাত্তর। এ বয়সে তিনি কিছুটা চলাফেলা করতে পারলেও বয়সের ভারে ন্যূজ। তিনি সৈয়দপুর শহরের পৈতৃক পুরাতন বাড়িতে বসবাস করেন। আর আমি থাকি আমার নির্মাণকৃত নতুন বাড়িতে পরিবার পরিজন নিয়ে থাকি। অথচ আমার বিরুদ্ধে মাকে নির্যাতন করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে বাড়ি জবর দখলের মিথ্যে অভিযোগ আনা হয়। প্রকৃতপক্ষে বৃদ্ধা মায়ের সঙ্গে আমার আদৌ এ ধরণের কোন ঘটনা ঘটেনি। আর আমার মতো একজন সন্তান হয়ে জন্মদাত্রী মায়ের সঙ্গে এ ধরণের আচরণের প্রশ্নই আসে না। মূলতঃ আমার বড় ভাই রাশেদ সিদ্দিকী বৃদ্ধা মাকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করছেন বলে দাবি করা হয় সংবাদ সম্মেলনে। তিনি বৃদ্ধার মায়ের সরলতার সুযোগ নিয়ে নানা রকম কথা বলে ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে এবং চাপ প্রয়োগ করে আমার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করে এ ধরনের মিথ্যে কথা বলতে বাধ্য করেন।
সংবাদ সম্মেলনে খালেদ সিদ্দিকী অভিযোগ করেন তাঁর বড় ভাই রাশেদ সিদ্দিকী এর আগেও কিছু জায়গায় জমি বিক্রি করেছেন। এখন আবার বৃদ্ধা মাকে ম্যানেজ করে পৈত্রিক বাড়িটিও বিক্রি করে একাই টাকা-পয়সা আত্মসাতের পাঁয়তারা করছেন। তাই তিনি বড় ভাই রাশেদ সিদ্দিকী কর্তৃক পৈত্রিক বাড়ি বিক্রিতে বাঁধা দেন। তাছাড়াও তিনি মায়ের সঙ্গে পৈত্রিক বাড়িতে বসবাসকারী বড় ভাই শাহেদ সিদ্দিকীকে বাড়ি থেকে বের করে দিতে ষড়যন্ত্র করছেন। আর এ সব কারণে বড় ভাই রাশেদ সিদ্দিকীর সঙ্গে তাঁর মত পার্থক্য ও মনোমালিন্য দেখা দেয়। এছাড়া বাবা-মায়ের দেয়া সৈয়দপুর শহরের মুন্সিপাড়ায় একটি বাড়ি, মঈন মার্কেট এবং ২৪ শতক জমি আমিসহ আমার অপর দুই ভাই রাশেদ সিদ্দিকী ও তারিক সিদ্দিকীর নামেই খারিজ হয়েছে। কারণে উল্লিখিত স্থাবর সম্পত্তি আমাদের তিন ভাইয়ের নামে হেবা দলিল রয়েছে। তাই এককভাবে খারিজের কোন সুযোগ নেই। তিন ভাইয়ের নামে নামজারির কাগজপত্রও রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে সৈয়দপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়াার্ড কাউন্সিলর শেখ মোহন, স্থানীয় বাসিন্দা ব্যবসায়ী মো. আতিকুল ইসলাম, আজহারুল ইসলাম মিস্টার, কাজী মো. নজরুল ইসলাম রয়েল, মো. মোজাহার আলী, মো. ইলিয়াস আলী, মো. ইদ্রিস আলী, মো. দেলোয়ার খান, মো. মোস্তাক আহমেদ, মো. বাদল প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।