জয়পুরহাট প্রতিনিধি ।। পঞ্চগড় থেকে ঢাকাগামী ‘পঞ্চগড় এক্সপ্রেস’ আন্তঃনগর ট্রেন জয়পুরহাট রেলস্টেশনে যাত্রা বিরতির সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ রেলওয়ে (পশ্চিম) এর সহকারী চীফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট আব্দুল আওয়াল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়টি জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জয়পুরহাট স্টেশনে ৭৯৪/৭৯৩ আন্তঃনগর পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রা বিরতি প্রদান করা হলো। যা আগামী ০১ সেপ্টেম্বর থেকে জয়পুরহাট স্টেশনে ৭৯৪ এর মাধ্যমে কার্যকর হবে।
এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়ে সর্বস্তরের মানুষ বলছেন, জয়পুরহাট জেলা একটি কৃষি সমৃদ্ধ জেলা। জেলা শহর থেকে বিভিন্ন ব্যবসায়ী, চাকুরিজীবী ও শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ নিয়মিত ঢাকায় যাতায়াত করেন।
তাছাড়া পার্শ্ববর্তী দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর, নওগাঁর ঐতিহাসিক পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার, জয়পুরহাট গার্লস ক্যাডেট কলেজ, ঐতিহাসিক লকমা জমিদার বাড়ী, নান্দাইল দিঘী, দেশের সর্ববৃহৎ বারো শিবালয় শিব মন্দির ও চিনিকলের কারণে দেশি-বিদেশি পর্যটক জয়পুরহাটে আসেন। যে কয়েকটি ট্রেন জয়পুরহাট রেলস্টেশনে যাত্রা বিরতি দেয় যাত্রী অনুযায়ী সেইসব ট্রেনের আসন সংখ্যা অনেক কম।
এসব বিষয় বিবেচনায় পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেনটি জয়পুরহাটে থামলে ব্যাপক সুবিধা পাবে এ জেলার মানুষসহ অন্য জেলার মানুষরাও। এছাড়াও এ ট্রেন চালু হলে যানজট কিছুটা হলেও কমে আসবে বলে মনে করছেন তারা।
এ ব্যাপারে জয়পুরহাট রেলস্টেশন মাস্টার হাবিবুর রহমান জানান, বিষয়টি আমি ইতিমধ্যেই জেনেছি। তবে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এখনও কোন চিঠি আমার কাছে আসেনি।
তিনি জানান, যেসব ট্রেন জয়পুরহাট রেলস্টেশনে থামে সেগুলোর যাত্রী অনুযায়ী পর্যাপ্ত সীট না থাকায় যাত্রীদের কিছুটা ভোগান্তি পোহাতে হয়। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে এই ট্রেন জয়পুরহাটে থামলে মানুষ ব্যাপক সুবিধা পাবে।
প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ২৫ মে পঞ্চগড় থেকে ঢাকাগামী বিরতিহীন পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেনটি চলাচল করার পর থেকেই জয়পুরহাটের সর্বস্তরের মানুষ ট্রেনটি জয়পুরহাট রেলস্টেশনে যাত্রা বিরতির দাবিতে মানববন্ধন, সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচী করে আসছিলো। এমনকি ট্রেন অবরোধ করেও বিক্ষোভ করে সাধারণ মানুষ। অবশেষে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ যাত্রা বিরতির এই সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তাদের সাধুবাদ জানিয়েছেন সবাই।