• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৪ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

ঘোড়াঘাটের ইউএনওর ওপর দুর্বৃত্তদের হামলা

সিসি নিউজ ।। গভীর রাতে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানমের বাসায় ঢুকে তার ওপর হামলা চালানো দুর্বৃত্তদের মুখে মাস্ক ছিল। ঘটনার সময় প্রহরীকে একটি ঘরে বেঁধে রাখা হয়েছিল।  সিসিটিভির ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ঘোড়াঘাট থানার ওসি আমিরুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, সিসিটিভির ফুটেজে দেখা গেছে হামলা ছিল দু’জন। তাদের একজনকে মাস্ক পরিহিত অবস্থায় দেখা গেছে। আরেকজনের চেহারা বোঝা যাচ্ছিল না।

বুধবার রাতে ইউএনও ওয়াহিদা খানমের সরকারি বাসভবনে ঢুকে তার ও তার বাবা ওমর আলী শেখের ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। উভয়েরই শরীর ও মাথায় আঘাত লেগেছে। ধারণা করা হচ্ছে, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এই ঘটনা ঘটেছে। হাতুড়ি কিংবা ভারী কোনো বস্তু দিয়ে তাদের আঘাত করা হয়েছে।

গুরুতর আহত অবস্থায় বৃহস্পতিবার প্রথমে তাদের রংপুরের একটি বেসরকারি মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। পরে ইউএনও ওয়াহিদা খানমকে হেলিকপ্টারে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার বাবা রংপুরে চিকিৎসাধীন।

জানা গেছে, ইউএনও ওয়াহিদা খানমের বাবা ওমর আলী প্রতিদিন সকালে হাঁটাহাঁটি করেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকালে তিনি বাড়ি থেকে হাঁটার জন্য বের না হওয়ায় তার সঙ্গীরা খোঁজ নিতে বাড়িতে যান। পরে বাড়িতে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ এসে ইউএনও ও তার বাবাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।

পুলিশ জানায়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানমের একটি ছোট সন্তান রয়েছে। তার স্বামী রংপুরের পীরগঞ্জে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োজিত। তিনি মাঝে মাঝে আসেন। তার বৃদ্ধ বাবা মুক্তিযোদ্ধা ওমর শেখ সম্প্রতি মেয়ের কাছে এসেছেন। ঘটনার দিনে তিনি সেখানে অবস্থান করছিলেন।

আহত ইউএনও’র মা রমিসা খাতুন নওগাঁ থেকে জানান, বুধবার সন্ধ্যায় ফোনে তার মেয়ের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। তবে কারা, কেন তার মেয়ের বাসায় ঢুকে তাকে হত্যা করার জন্য কুপিয়েছে তা তিনি জানেন না। তিনি দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

জেলা প্রশাসক আসিব আহসান বৃহস্পতিবার দুপুরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘হত্যার উদ্দেশ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে আমরা মনে করছি। তদন্ত করার পর পুরো ঘটনা জানা যাবে।’

এদিকে ইউএনও আহত হওয়ার খবর পেয়ে রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার ওয়াদুদ ভুইয়া , জেলা প্রশাসক আসিব আহসান, র‌্যাব-১৩ রংপুর প্রধান কমান্ডার রেজা আহাম্মেদ ফেরদৌস, মেট্রোপলিটন পুলিশের  ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, রংপুর মেডিক্যাল কলেজের অধ্যাক্ষ ডা. নুরন্নবী লাইজু, হাসপাতালের পরিচালক ডা. ফরিদুল ইসলামসহ জেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন উপজেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা  ওয়াহিদা খানমের অবস্থা পরিদর্শনে আসেন।

এদিকে ঘোড়াঘাট থানার ওসি আমিরুল ইসলাম জানান, ‘কারা কীভাবে এ হামলা চালালো তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুরো উপজেলা পরিষদ চত্বর সিসি ক্যামেরায় আওতায়। সেটাও পরীক্ষা করা হচ্ছে।’

এদিকে রংপুর র‌্যাব-১৩ প্রধান কমান্ডার রেজা আহাম্মেদ ফেরদৌস জানান, ‘আমরা ঘটনা জানার পর পরেই পুরো এলাকা কর্ডন করেছি। আশেপাশের এলাকা থেকেও আমাদের একাধিক টিম যোগ দিয়ে কাজ শুরু করেছে। আশা করি আমরা দায়ীদের ধরতে পারবো।’

এদিকে রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার ওয়াদুদ ভুইয়া বলেন, ‘এটা একটা জঘন্য ঘটনা। এর সঙ্গে যারাই জড়িত থাক তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওয়াহিদা খানমকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।’

‘ইউএনওর ওপর হামলার ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করব’

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন জানিয়েছেন, দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানম ও তাঁর বাবা ওমর আলীকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনাটির ব্যাপারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। আমরা এ ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, তিনি (ইউএনও) বেশ সিরিয়াস পর্যায়ের রোগী। কারণ, আক্রান্ত খুব ডেপথ হয়েছে। আমাদের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার তাঁর বাসায় অবস্থান করছে। আমরা কিছুক্ষণ আগে তাদের সঙ্গে কথা বলেছি, আমাদের সচিব কথা বলেছেন। বিষয়টি কী হয়েছে এবং এই দুর্বৃত্তরা কারা সে বিষয়ে এসপি বললেন, আমরা খুব দ্রুত দুর্বৃত্তদের নাম-ঠিকানা সব বের করতে পারব। তারা এ ব্যাপারে খুবই আশাবাদী। অতি অল্প সময়ের মধ্যে আশা করি জটটা খুলবে এবং আমরা অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াদিহা খানমকে সবচেয়ে ভালো চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা যেন যায় সে চেষ্টা করছি, এ ক্ষেত্রে নিউরোসায়েন্স হাসপাতাল সবচেয়ে ভালো। যা যা করা প্রয়োজন, আমাদের পক্ষ থেকে আমরা সেটি করছি। জানতে একটু অপেক্ষা করতে হবে, দুর্বৃত্তরা করা। তারা কী ডাকাতির উদ্দেশ্যে এসেছিল নাকি উদ্দেশ্যমূলকভাবে কোনো কারণে শত্রুতা তৈরি হয়ে এ রকম কিছু হয়েছিল কি না।

উল্লেখ্য, গতকাল বুধবার দিনগত রাত ৩টার দিকে দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন ইউএনও ওয়াহিদা খানম ও তাঁর বাবা। এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে রংপুর মেডিক্যাল থেকে আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে তাঁকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়।

বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ৩১ ব্যাচের কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানমের ওপর হামলার ঘটনার পর বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলনে আসেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ। এ সময় জনপ্রশাসনসচিব শেখ ইউসুফ হারুন উপস্থিত ছিলেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ