আমিরুল হক ।। নীলফামারীর সৈয়দপুরে অনুমোদনহীন ভেজাল, রং মিশ্রিত, মেয়াদোত্তীর্ণ শিশু খাদ্য বিক্রি হচ্ছে। এসব ভেজাল শিশু খাদ্যে ফরমালিন, ট্যালকম পাউডার, পঁচা তেঁতুল, পঁচা আম, আমড়া ও ঘন চিনি দিয়ে তৈরি করা বিভিন্ন প্রকারের জুস, আচার, রকমারি চিপস, বিস্কুট, কেক, লোভনীয় চকলেট, মিষ্টি ও আইসক্রিমে বাজার এখন সয়লাব। নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তেরি এসব খাবরা খেয়ে বাড়ছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি। দ্রুত এসব ভেজাল শিশু খাদ্যের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান সহ কার্যকর ব্যবস্থা নিতে দাবী জানিয়েছে সচেতন মহল।
সরে জমিনে দেখা যায়, এ উপজেলার শহীদ ডা. জহুরুল হক (বিচালীহাটি) রোডে বিভিন্ন দোকানে অনুমোদনহীন এসব পণ্যের পসরা সাজিয়ে পাইকারি ও খুচরা বিক্রয় করা হচ্ছে। ওই রোডের এক পাইকারি বিক্রেতা এরশাদ স্টোর বগুড়ার পিংপং জুস, সাভারের শান্তা স্পেশাল সন্দেশ, সৈয়দপুরের তৈরি গ্লোডেন চিপস্ ও কেক বিক্রি করছে। এসব পন্য হাতে নিয়ে দেখা যায় প্যাকেটে নেই কোন উৎপাদন ও মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ কিংবা বিএসটিআইয়ের অনুমোদন। একই শহরের মিস্ত্রিপাড়া, গোলাহাট, নিয়ামতপুর, পুরাতনবাবুপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নি¤œমানের আটা দিয়ে তেরি চিপস্ শুকানোর জন্য রাখা হয়েছে খোলামেলাভাবে । সেখানে জমছে ধূলাবালি ও রোগ জীবানু। কিছু কারখানায় কয়েকজন কর্মচারি সেফটি ইকুপমেন্ট ছাড়া ঘরের মেঝের উপর নোংরা ও ময়লাযুক্ত স্থানে ঘামে ভেজা শরীর নিয়ে পা দিয়ে বিস্কুট তেরির আটা প্রস্তুত করছে । তার পাশেই কয়কদিনের পুরনো কালো তেলে চলছে চানাচুর ভাজার কাজ। রাখা হচ্ছে ময়লাযুক্ত স্থানে। এদের নেই কোন অনুমোদন, নেই প্যাকেজিং লাইসেন্স এমন কি নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র। শিশুদের খাওয়ার জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপুণ্য এসব ভোগ্যপন্য উপজেলা বিভিন্ন হাট বাজর ছাড়াও পার্শ্ববর্তী উপজেলাগুলোতেও পাঠানো হচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, প্রতিবছর বিশ্বের প্রায় ৬০ কোটি মানুষ ভেজাল ও দূষিত খাদ্য গ্রহণের কারণে অসুস্থ হয়। তার মধ্যে মারা যায় ৪ লাখ ৪২ হাজার। দূষিত খাদ্য গ্রহণ জনিত কারণে ৫ বছরের কম বয়সের আক্রান্ত হওয়া ৪৩ শতাংশ শিশুর মধ্যে মারা যায় ১ লাখ ২৫ হাজার।
এ ব্যাপারে শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. এনামুল হক জানান, যে শিশুরা নিয়মিত এ সকল খাবার খায় তাদের ক্ষুদামন্দা দেখা দেয়, স্নায়ু দূর্বল থাকে, মেধাশক্তি কমে যায়, নানা রকম পেটের অসুখ নিয়মিত ভাবে লেগে থাকে, পাকস্থলিতে আলসার হয় এবং এক সময় কিডনি অকেজো হয়ে যায়।