• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৫ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

মুনিয়া-আনভীরের অজানা কথা

সিসি নিউজ ডেস্ক ।। গুলশানের আলিশান ফ্ল্যাটের প্রমাণ নিয়ে মাঠে পুলিশ ও গোয়েন্দারা। ব্যস্ত তদন্তকারীরা। পুলিশ ও গোয়েন্দাদের হাতে এসেছে নানান তথ্য। উপাত্ত। এসেছে কিছু প্রমাণ। তারা উদ্ধার করেছেন সেই ছাত্রীর গোপন ডায়েরী। তাছাড়া বেশ কিছু আলামত। এনিয়ে গোয়েন্দাদের একটি দল রাজধানীর বনানী ও অপর একটি দল কুমিল্লার বাসাতে ছুটছেন বলে জানা গেছে। ওই তরুণীর পারিবারিক নাম মোসারাত জাহান। তবে আনভির তাকে মুনিয়া বলেই ডাকতেন। পুলিশ ও গোয়েন্দরা মুনিয়ার সঙ্গে বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীরের পরিচয়ের একটি সূত্র ধরেই সামনে এগুচ্ছেন। মুনিয়ার বাসা ভাড়া ১ লাখ ১১ হাজার টাকা, নামী-দামী পোষাক, জুতা ও ডায়মন্ডের গহনা কে দিয়েছে তাও স্থান পাচ্ছে তদন্তে।

পুলিশ জানিয়েছে মোসারাত জাহান মুনিয়া (২১) মিরপুর ক্যান্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানায়, মুনিয়ার অতি লোভ ও রাতারাতি বড়লোক হওয়ার স্বপ্ন প্রখর হয়ে উঠে। আনভিরের সাথে মুনিয়া বিভিন্ন জায়গায় ও পার্টিতে নিয়মিত যেতেন। এমন কি বিদেশ গেছেন বলেও তথ্য মিলেছে। এসব কিছু এখন আমলে নিয়েছে পুলিশ ও গোয়েন্দারা। তবে পুলিশের কাছে বিভিন্ন মহল থেকে শক্ত তদবীর আসছে। কতক্ষণ পুলিশ তদন্ত নিয়ে সামনে যাতে পারবে তা এখনও বুঝা যাচ্ছে না। সূত্র আরো জানায়, একটি পেশাদার চক্র সায়েম সোবহান আনভীরের সঙ্গে মুনিয়াকে পরিচয় করিয়ে দেয়। ২০১৯ সালের জানুয়ারী মাসে কোন একটি পার্টিতে পরিচয় মনিয়ার সাথে। মুনিয়ার একটি পাসপোর্ট ছিলো সেটি কোথায় আছে কার কাছে আছে তা এখনও জানা যায়নি।

রাজধানীর গুলশানের একটি ফ্ল্যাট থেকে মোসারাত জাহান মুনিয়া নামে এক তরুণীর লাশ উদ্ধারের পর এ নিয়ে রীতিমতো তোলপাড় চলছে। এই ঘটনার সোমবার রাতেই আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে মামলা করা হয় বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীরের বিরুদ্ধে। কলেজছাত্রীর বড় বোন নুসরাত জাহান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন। এজাহারে তিনি পুরো ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন। এতে বলা হয়েছে, মুনিয়ার লেখা আনভীরকে নিয়ে প্রেম কাহিনীর ডায়েরি পুলিশ নিয়ে গেছে।

এতে আরো বলা হয়েছে, দুই বছর আগে মামলার আসামি সায়েম সোবহান আনভীরের (৪২) সঙ্গে মোসারাতের পরিচয় হয়। পরিচয়ের পর থেকে তারা বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় দেখা করতেন এবং সব সময় মোবাইলে কথা বলতেন। একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে মোসারাতকে স্ত্রী পরিচয় দিয়ে আসামি রাজধানীর বনানীতে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেন। সেখানে তারা বসবাস করতে শুরু করেন।

নুসরাত জাহান জানান, ২০২০ সালে আসামির পরিবার এক নারীর মাধ্যমে এই প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পারে। এরপর আসামির মা মোসারাতকে ডেকে ভয়ভীতি দেখান এবং মোসারাতকে ঢাকা থেকে চলে যেতে বলেন। আসামি কৌশলে মুনিয়াকে কুমিল্লায় পাঠিয়ে দেন। আর জানিয়ে দেন বিয়ে করবেন।

নুসরাত এজাহারে বলেন, গত ১লা মার্চ আসামি আনভির মোসারাতকে প্ররোচিত করেন। তিনি বাসা ভাড়া নিতে বাদী নুসরাত ও তার স্বামীর পরিচয়পত্র নেন। ফুসলিয়ে তিনি মোসারাতকে ঢাকায় আনেন। তিনি গুলশানের ১২০ নম্বর সড়কে বাসা (ফ্ল্যাট-বি-৩) ভাড়া নেন। ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে আসামি ও তার (বাদীর) বোনের স্বামী-স্ত্রীর মতো ছবি তুলে তা বাঁধিয়ে রাখে। আনভির বাসায় আসলে কক্ষটি পরিপাটি করে রাখা হতো।

মামলার এজাহারে বলা হয়, বোনের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, আনভির তাকে বিয়ে করে বিদেশে স্থায়ী হবে। কারণ, দেশে থাকলে আসামির বাবা-মা আনভিরকে কিছু না করলেও তার বোনকে মেরে ফেলবেন। এদিকে আনভির ১লা মার্চ থেকে মাঝে মাঝে ফ্ল্যাটে আসা-যাওয়া করতেন। বিভিন্ন উপহার সামগ্রী নিয়ে আসতেন। তার বোন ও ভগ্নিপতিকে উপহার দিতেন।

এজাহারে আরো বলা হয়, ২৩ এপ্রিল মোসারাত মুনিয়াকে ফোন করেন। সেসময় মুনিয়া তাকে বলেছেন, আনভীর তাকে গালাগালি করেছে। বকঝকা দিয়েছে। নুসরাত কারণ জানতে চাইলে বলেন, কেন তিনি (মোসারাত) ফ্ল্যাট মালিকের বাসায় গিয়ে ইফতার করেছেন, ছবি তুলেছেন। এদিকে ওই ফ্ল্যাটের মালিকের স্ত্রী মুনিয়ার ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেছেন।

অন্যদিকে ওই ছবি পিয়াসা নামের অন্য একজন মহিলা দেখেছেন। যিনি মালিকের স্ত্রীর ফেসবুক বন্ধু। এখন পিয়াসা তার মাকে সবকিছু জানিয়ে দেন। এদিকে আনভির দুবাই যাবেন তাই মনিয়াকে কুমিল্লায় চলে যেতে বলে গেছেন। এসব খবর আনভিরের মা জানতে পারলে তাকে (মোসারাতকে) মেরে ফেলবেন এমন আশঙ্কার কথাই বলেছিলেন নুসরাতকে তার বোন।

এজাহারে নুসরাত আরো বলেন, দুদিন পর ২৫শে এপ্রিল মুনিয়া তাকে ফোন করেন। ওই সময় সে কান্নাকাটি করে বলেন, আনভীর তাকে বিয়ে করবেন না। কেবল মাত্র ভোগ করেছেন। আনভিরকে উদ্ধৃত করে মনিয়া বলেন, আনভির তাকে বলেছেন, তিনি তার শত্রুর সঙ্গে দেখা করেছেন। মুনিয়াকে তিনি ছাড়বেন না। মোসারাত জাহান মুনিয়া চিৎকার করে বলেন, আনভির তাকে ধোঁকা দিয়েছেন। যেকোনো সময় তার বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। তারা (বাদী নুসরাতের পরিবার) যেন দ্রুত ঢাকায় আসেন।

এজাহারে আরও বলা হয়, নুসরাত তার আত্মীয়স্বজনদের নিয়ে দুপুর ২টার দিকে কুমিল্লা থেকে ঢাকায় রওনা দেন। আসার পথে বারবার মুনিয়ার ফোনে ফোন করেন, কিন্তু তিনি আর ফোন ধরেননি। গুলশানের বাসায় পৌঁছে দরজায় নক করলে ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে নিচে নেমে আসেন। তারা নিরাপত্তারক্ষীর কক্ষ থেকে বাসার ইন্টারকমে ফোন করেন। পরে ফ্ল্যাট মালিকের নম্বরে ফোন দিলে মিস্ত্রি এনে তালা ভেঙে ঘরে ঢোকার পরামর্শ দেন। মিস্ত্রি ডেকে তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকার পর তিনি দেখেন, তার বোন ওড়না পেঁচিয়ে শোয়ার ঘরের সিলিংয়ে ঝুলে আছেন।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, পুলিশ এসে ওড়না কেটে মোসারাতের মৃতদেহ নামায়। আলামত হিসেবে আসামির সঙ্গে ছবি, আসামির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে লেখা ডায়েরি ও তার ব্যবহৃত দুটি মুঠোফোন নিয়ে যায় পুলিশ। সূত্র আরো জানায় ওই ডায়েরীর সূত্র ধরে পুলিশ এগুচ্ছে। তবে বার বার অজানা কারণে পিছু হটছে বলেও কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ