• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০১ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

যে কারণে মুনিয়াকে হত্যা করা হয়!

সিসি নিউজ ডেস্ক ।। কলেজছাত্রী মুনিয়াকে হত্যা করা হয়েছে। সে আত্মহত্যা করতে পারে না। তার মেধা ও মানসিকতা কখনও এমন ছিল না। ঘটনার দুই দিন আগেও আমাদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে কথা হয়েছে। মনে হয়েছে সে প্রাণবন্ত, সাহসী। এমনটি দাবি করেছেন মুনিয়ার ভগ্নিপতি মিজানুর রহমান। গুলশানে আলিশান ফ্ল্যাট থেকে মরদেহ উদ্ধার হওয়া তরুণী মোসারাত জাহান মুনিয়াকে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে বলেও দাবি তাদের।

সংশ্লিষ্টরা জানায়, ওই ব্যবসায়ীর পঞ্চাশ লাখ টাকা মুনিয়া নিয়েছে। এ নিয়ে ওই ব্যবসায়ী গত দুই তিনদিন ধরেই মুনিয়াকে টাকা পরিশোধের জন্য চাপ দিচ্ছিল। এর মধ্যেই যে ফ্ল্যাটে মুনিয়া থাকতো সেই ফ্ল্যাট মালিকের বাসায় ইফতার পার্টিতে অংশগ্রহণ করে মুনিয়া এবং ওই অনুষ্ঠানের ছবি ফেসবুকে পোস্ট করা হয়। এ দুটি বিষয়কে ঘিরেই মুনিয়া ও আনভীরের মধ্যে টানাপোড়ন সৃষ্টি হয়। পুলিশ ও গোয়েন্দাদের ধারণা এ দুটি কারণ থেকেই মুনিয়ার জীবনে নেমে আসে এই দূর্বিসহ ঘটনা।

মঙ্গলবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গের সামনে কান্নাভেজা কণ্ঠে তিনি উল্লেখিত কথাগুলো বলছিলেন। ওরা ধনী ওরা শিল্পপতি ওদের অর্থবিত্ত সবই আছে। ওরা ক্ষমতা ও অর্থের মোহে সবকিছুই করতে পারে। আমি আমার শ্যালিকা হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।

মিজানুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দুদিন আগেও তার সঙ্গে কথা বলেছি। আত্মহত্যা করবে এমন কোনো মোটিভেশন ছিল না। আমাদের মনে হচ্ছে, তাকে হত্যা করা হয়েছে। এখন আমরা ফরেনসিক রিপোর্টের অপেক্ষা করবো।

প্রসঙ্গত, গতকাল সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে রাজধানীর গুলশান-২-এর ১২০ নম্বর রোডের ১৯ নম্বর বাড়ির ৩/বি ফ্ল্যাট থেকে কলেজছাত্রী মোসারাত জাহান মুনিয়ার মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মুনিয়ার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত শফিকুর রহমান। তার বাড়ি কুমিল্লা শহরের উজির দিঘিরপাড় এলাকায়।

পুলিশ জানিয়েছে, এক লাখ টাকা ভাড়ায় দুই মাস আগে ফ্ল্যাটটি ভাড়া করে দিয়েছিলেন সায়েম সোবহান আনভীর। তবে ফ্ল্যাটে ওই তরুণী একাই থাকতেন। এ ঘটনায় সোমবার মধ্যরাতে গুলশান থানায় মুনিয়ার বোন নুসরাত জাহান বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলায় বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীরকে আসামি করে তার বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ আনা হয়। ওই তরুণীর মৃতদেহ ময়নাতদন্তের পর গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায় নিয়ে গেছে।

যে ঘটনা মুনিয়ার কাল হলো:
সোমবার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যার পর মোসারাত জাহান মুনিয়ার মরদেহ উদ্ধার হয় তার ফ্ল্যাট থেকে। ঘরে ফ্যানের সাথে তার মরদেহ ঝুলতে দেখা যায়। মামলা সূত্রে জানা যায়, মেয়েটির সঙ্গে শীর্ষ ওই ব্যবসায়ীর সম্পর্ক দুই বছরের। ওই ব্যবসায়ী এক বছর মেয়েটিকে বনানীর একটি ফ্ল্যাটে রাখেন। গত মার্চে গুলশানের এই ফ্ল্যাটে ওঠেন মেয়েটি। গত ২৩শে এপ্রিল ইফতার পার্টি হয় ওই বাসায়। ওই পার্টির ছবি ফেসবুকে আপলোড করা নিয়ে মুনিয়ার সঙ্গে ওই ব্যবসায়ীর মনোমালিন্য হয়। এছাড়াও পঞ্চাশ লাখ টাকা নিয়েও মুনিয়ার সঙ্গে বনিবনা হয় আনভীরের। সবকিছুই এখন খতিয়ে দেখছেন পুলিশ ও গোয়েন্দারা।

মুনিয়ার বোন নুসরাত জাহান জানান, ওই ঘটনায় আনভীর মুনিয়াকে গালমন্দ করেন। জানতে চান কেন মুনিয়া ওই ফ্ল্যাট মালিকের বাসায় গেলেন। সেক্ষেত্রে তার অনুমতি ছিল কি না। এছাড়াও ওই অনুষ্ঠানের ছবি পোস্ট করা হয় ফেসবুকে। ওই ছবিটি আনভীরের মা-এর এক বান্ধবীর চোখে পড়ে। পরে ঘটনাটি জানাজানি হয়। এ নিয়ে শুরু হয় ওই ফ্ল্যাটে বাকবিতণ্ডা। পরে মুনিয়া ওই ঘটনাটি তার বোনকে ফোন করে জানান। বলেন, আপু আমি খুব ঝামেলায় আছি। ওরা আমাকে মেরে ফেলবে। আমাকে শাসানো হয়েছে। ও আমাকে বিয়ে করবে না। কেবল আমাকে ব্যবহার করেই ফাঁকি দিয়েছে।

২১ বছর বয়সী মুনিয়ার বাড়ি কুমিল্লা শহরে। তার পরিবার সেখানেই থাকে। গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার নাজমুল হাসান গণমাধ্যমকে জানান, বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনভীরের সঙ্গে মুনিয়ার সম্পর্ক ছিল। তিনি ফ্ল্যাটে যাতায়াত করতেন বলেও আমরা জানতে পেরেছি। পুলিশ সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ও মোসারাতের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন আলামত নিয়ে গেছে।

এরইমধ্যে ওই ব্যবসায়ীর সঙ্গে মুনিয়ার একটি ফোনালাপ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি অন্তঃস্বত্তা ছিলেন কিনা সে প্রশ্নও ওঠেছে। তার ময়না তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর অনেক প্রশ্নের জবাব মিলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ