সিসি নিউজ ডেস্ক ।। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে চলমান টিকাগুলো আক্রান্ত রোগীকে হাসপাতালে যাওয়ার মতো গুরুতর অবস্থা থেকে রক্ষা করে। এমনকি কভিডে মৃত্যুর হারও সবচেয়ে বেশি কমায়। আটটি ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা পরীক্ষা করে সংক্ষিপ্তসার হিসেবে বলা হয়েছে, ফাইজার, বায়োএনটেকের টিকা রোগীর হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ও মৃত্যুর বিরুদ্ধে উচ্চস্তরের সুরক্ষা দিয়ে থাকে। এছাড়া এগুলো করোনার অন্তত দুইটি খারাপ ধরনের বিরুদ্ধে আরও বেশি কার্যকর।
ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডার গবেষক জুলি শাপিরো, নাতালি ডিন, ইরা লঙ্গিনি ও তাদের সহকর্মীরা শুক্রবার তাদের এ সম্পর্কিত একটি গবেষণাপত্র প্রকাশের আগে বলেন, করোনা সম্পর্কিত রোগগুলোতে টিকার পুরো কোর্স শেষ করার পর গড়ে ৮৫ শতাংশ সুরক্ষা দেয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই টিকাগুলো হাসপাতালে স্থানান্তর কিংবা মৃত্যুর বিরুদ্ধে প্রায় ১০০ শতাংশ পর্যন্ত সুরক্ষা দেয়। খবর এনডিটিভির
বিভিন্ন সাময়িকীতে প্রকাশিত নিবন্ধ ও পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর পর্যালোচনা ও তুলনা করে তাদের গবেষণায় বলা হয়েছে, এ ধারণাগুলো টিকার গাণিতিক মডেল তৈরি এবং এ সম্পর্কিত নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কার্যকর হওয়া উচিত। গবেষকরা তাদের গবেষণাকর্মের আরও আপডেট তৈরি করার কথা ভাবছেন। এগুলো যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বাস্থ্য ইউনিটগুলোর কাছ থেকে তহবিলও পেয়েছে বলে জানা গেছে।
সারাবিশ্বে করোনা ছড়িয়ে পড়ার পর খুব দ্রুততার সঙ্গে কার্যকর টিকা তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। ফলে বিভিন্ন্ দেশে অর্থনীতির চাকা ফের চলতে শুরু করেছে। একইসঙ্গে এক শতাব্দীর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ মহামারির কবল থেকে নিজেদের রক্ষার পথ সুগম করেছে। তবু গবেষকদের ভয় একদম চলে যাচ্ছে না। সারস-কভি-২ ভাইরাসের অনিয়ন্ত্রিত ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি নতুন ধরন তৈরি হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। ফলে চলমান টিকাগুলোর শক্তি কমে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
গবেষকরা বলেন, টিকাগুলো করোনার তিনটি ধরনের মধ্যে যুক্তরাজ্যে শনাক্ত হওয়া বি.১.১.৭-এর বিরুদ্ধে ৮৬ শতাংশ, ব্রাজিলের পি.১ ধরনের বিরুদ্ধে ৬১ শতাংশ এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বি.১.৩৫১-এর বিরুদ্ধে ৫৬ শতাংশ কাজ করে।
গবেষকরা জানিয়েছেন, স্থানীয় এবং বিশ্বব্যাপী যে টিকাগুলো কার্যকর বলে বলা হচ্ছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে, ফাইজার, মোদারনা ইনক, জনসন অ্যান্ড জনসন, অ্যাস্ট্রাজেনেকা পিএলসি, স্পুতনিক, নোভাভ্যাক্স ইনক, সিনোভ্যাক বায়োটেক লিমিটেড এবং সিনোফার্ম।