• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০১ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
“ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী” চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি জয়পুরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার

তারাগঞ্জে ড্রাগন চাষে নারী চাষি শামিমার চমক

SAMSUNG CAMERA PICTURES

আলমগীর হোসেন লেবু, তারাগঞ্জ (রংপুর) : রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় সর্বপ্রথম শামিমা আক্তার নামের এক নারী চাষি বাণিজ্যিক ভাবে ৫০ শতক জমিতে সুস্বাদু ও অধিক পুষ্টি গুনে ভরা ড্রাগন ফল চাষ করে চমক সৃষ্টি করেছেন। ইতিমধ্যেই ওই নারী চাষি ড্রাগন ফলের বাগান থেকে ৪০০ টাকা কেজিতে প্রায় ১’শ কেজি ফল ঢাকায় বিক্রি করে কয়েক হাজার টাকা আয়ও করেছেন। খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের পশ্চিম রহিমাপুর খানসাহেব পাড়া গ্রামের আলহাজ্ব শামসুল কাদের সরকার কন্যা শামীমা আক্তার তার বাবা শামসুল কাদের সরকার একজন সফল চাষি ছিলেন। মাছ, লেচু, কলা আদা চাষে অনেক সফলতা পেয়েছেন এবং সফল আদা চাষি হিসাবে পুরস্কুত হয়েছেন। বাবার সেই কৃষি কাজের অনুপ্রেরণাই শামিমা গাছের প্রতি আকৃষ্ট ছোট্ট বেলা থেকেই লেখাপড়ার পাশাপাশি বসতভিটার আনাচে-কানাচে নানা প্রজাতির ফুল ফল ও ওষুধি গাছের চারা লাগাতেন। এরপর ১৯৯৫ সালে শাম্মীর বিয়ে হয় বুয়েট ইঞ্জিনিয়ার ফরিদ আলম (অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল) এর সাথে শামিমার বিয়ে হলে স্বামীর সংসারের পাশাপাশি গাছ বন্ধুর কথা না ভুলে বাসার ছাদে নানান রকম ফলসহ নানা প্রজাতির ওষুধী গাছের চারা লাগিয়ে গেছেন। স্বামীর সাথে সঙ্গী হয়ে দেশ-বিদেশ ভ্রমন করতেন শামিমা একসময় ভিয়েতনামে ভ্রমনে গিয়ে সুস্বাদু ড্রাগন ফল খেয়ে খেয়ে ড্রাগন ফল চাষের সিগ্ধান্ত নেয়।
পরে তিনি দেশে ফিরে প্রথমত বাংলাদেশ স্কাউট পরিচালক মমতাজ আলীর কাছ থেকে ও বিভিন্ন নার্সারী থেকে চারা সংগ্রহ করে প্রাথমিক পর্যায়ে পঞ্চান্নশতক জমিতে ড্রাগন ফলের চারা লাগানোর উপযোগী করে নেয়। বাবা শামসুল কাদের সরকারের পরামর্শ ও সহযোগীতায় প্রায় ৮০০ টি চারা ২০১৬ সালের ১৫ই নভেম্বর রোপন করেন। ধীরে ধীরে চারা বড় হতে থাকে শাম্মীর আশা পূরণ হয় এবং স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। নারী উদ্যোক্তা শামিমা জানায়, ড্রাগন ফলের পাশাপাশি ৬০ শতক জমিতে তিনি মাল্টা ফলের চাষ করেছেন। ড্রাগন ফল বিক্রি করে কয়েক হাজার টাকা আয় করেন।
ড্রাগন ফলের প্রতিটি গাছে বছরে ৫০ থেকে ৭০ টি পর্যন্ত ড্রাগন ফল ধরে। ওজনে একটি ফল ৬০০-৮০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে। বাড়ির আঙ্গিনায় অথবা ছাদে ড্রাগন চাষ করে পরিবারের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বাণিজ্যিক ভাবে লাভবান হওয়া সম্ভব। পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ ড্রাগন ফল বাজারমূল্য প্রতিকেজি ছয়’শ থেকে এক হাজার টাকা মূল্যে বিক্রি হয়ে থাকে। তিনি আরো বলেন, ব্রাঞ্চ কেটে মাটিতে লাগালেই এ গাছ বাড়তে থাকে। প্রতিটি ব্রাঞ্চ বা চারা ৫০ টাকা করে বিক্রি হয়।দুই বছরের মধ্যে ব্রাঞ্চ কেটে ও ছয় থেকে সাত বছরে মধ্যে বীজ থেকে ড্রাগন ফল ধরা শুরু করে।সাধারনত ৩০-১০০ বছর পর্যন্ত সঠিক পরিচর্যা করলে বাগান থেকে ফল পাওয়া যেতে পারে।পাতা বিহীন হওয়ায় পোকা মাকড়ের তেমন আক্রমণ হয় না। ড্রাগন ফল লাল গোলাপী সাদা প্রকারের হয়ে থাকে। দুই একবার সার ব্যবস্থাপনা ছাড়া তেমন একটা পরিচর্যার প্রয়োজন হয়না। তবে মাঠ পর্যায়ে কৃষক ও খামারিদের মাঝে বিদেশি এ ফলের চাষাবাদ ছড়িয়ে দিতে আরো প্রচার-প্রচারণা প্রয়োজন।তাহলে বিদেশি ফলের আমদানি নির্ভরতা কমে আসবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ