• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৩ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

আজ সৈয়দপুরের গোলাহাট ট্রেন ট্রাজেডি দিবস

সিসি নিউজ ।। আজ ১৩ জুন। নীলফামারীর সৈয়দপুর কয়াগোলাহাট গণহত্যা দিবস। সৈয়দপুরবাসীর জন্য একটি অত্যন্ত শোকাবহ দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে স্বাধীনতা সংগ্রামে পাকবাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসররা প্রায় সাড়ে তিনশ নিরীহ সংখ্যালঘু  শত শত নিরীহ স্বাধীনতাকামী মানুষকে নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করেছিল। বর্বর হত্যাযজ্ঞের স্থানটি সৈয়দপুর শহরের কয়াগোলাহাট বধ্যভূমি হিসেবে পরিচিত।  আর তাই এই দিনটি এলেই স্বজন হারানোর বেদনায় এখনও স্বাধীনতা স্বপক্ষের মানুষ কাঁদেন।
স্বাধীনতা যুদ্ধে অবাঙ্গালী অধুষ্যিত সৈয়দপুর শহরের প্রেক্ষাপট ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। কারণ ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান দেশ বিভক্তের পর বিপুল সংখ্যক অবাঙ্গালী (উদুভাষী) পাশের দেশ ভারত থেকে এসে আস্তানা করে উত্তরের শিল্প বাণিজ্যিক প্রধান শহর সৈয়দপুরে। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মুক্তিকামী বাঙ্গালীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় অবাঙ্গালীরা (বিহারি)। এরা ছিল হানাদার পাকবাহিনীর বিশ্বস্ত দোসর। তাদের সঙ্গে এখানকার বাঙালিদের মতবিরোধ ও দ্বন্দ্ব ছিল দেশ বিভাগের পর থেকে। এদের প্রত্যক্ষ সহায়তায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর শক্ত ঘাঁটিতে পরিণত হয় সৈয়দপুর।
দীর্ঘ নয় মাস স্বাধীনতাযুদ্ধ চলাকালীন এখানে কতজন লোক প্রাণ হারায় তার সঠিক হিসাব নিকাশ না থাকলেও বিভিন্ন সূত্র মতে, এদের সংখ্যা দেড় সহস্রাধিক। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীণ সবচেয়ে লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটেছিল ১৯৭১ এর ১৩ জুন ভোরে। এদিন সৈয়দপুর শহরের সংখ্যালঘু হিন্দু ও মাড়োয়ারিদের নিরাপদে ভারতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশনে জড়ো করা হয়। তারপর সেখানে একটি বিশেষ ট্রেনে করে শহরের গোলাহাট রেলওয়ে কারখানার শেষ প্রান্তে নিয়ে ট্রেনের মধ্যে বল্লম, রামদাসহ বিভিন্ন ধাঁরালো অস্ত্র দিয়ে  নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এদিন ৪৪৮ জন নারী-পুরুষ ও শিশুকে পাকবাহিনী হত্যা করে। সে দিন কয়েকজন কোন রকমে প্রাণে রক্ষাও পেয়েছিল। তারা আজ সেদিনের ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষী হয়ে বেঁচে আছেন। পাকসেনাদের সেদিন এ হত্যাযজ্ঞ চালাতে সহায়তা করেছিল আলবদর, অবাঙালি ও রাজাকাররা। আর সেদিন পাকবাহিনী সংখ্যালঘু গৃহবধূ ও তরুণীদের অপহরণ করে সৈয়দপুর সেনানিবাসে নিয়ে যায়। সেখানে তাদের ওপর চলে শারীরিক অত্যাচার-নির্যাতন। পরে তাদের নির্যাতন করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
স্বাধীনতার দীর্ঘদিন পর গত দশম  জাতীয় সংসদের স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্য শওকত চৌধুরীর উদ্যোগে সৈয়দপুর কয়াগোলাহাট বধ্যভূমিতে একটি ক্ষুদ্র পরিসরে স্মৃতিস্তম্ভ গড়ে তোলা হয়েছে। যদিও আজো সেই স্মৃতিস্তম্ভের নির্মাণ কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। এখনও এর অনেক কাজই অবশিষ্ট রয়েছে।
এদিকে, বছর ঘুরে আবারও এসেছে ১৩ জুন। সৈয়দপুর কয়াগোলাহাট গণহত্যা দিবস। অর্থাৎ ট্রেন ট্রাজেডি। দিবসটি যথাযথভাবে পালনে কর্মসূচি নিয়েছে মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সন্তানদের সংগঠন প্রজন্ম ৭১। এ সব কর্মসুচির মধ্যে রয়েছে  কালো ব্যাজ ধারণ, অসহায়, দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ, গোলাহাট বধ্যভূমিতে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভে মোমবাতি প্রজ্বলন, পুষ্পমাল্য অর্পণ ও  আলেচনা সভা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ