।। রেজা মাহমুদ ।। কোভিড-১৯ বিস্তাররোধে কঠোর লকডাউন বাস্তবায়নে নীলফামারীর সৈয়দপুর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এতে প্রথম দিন বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই পাল্টে গেছে পুরো উপজেলার চিত্র। বাজারে নেই অন্যান্য দিনের মতো মানুষের ভীড়, নেই যানবাহনের ছুটে চলা, বন্ধ রয়েছে দোকানপাট।
ওইদিন সকাল ৭টা থেকে বেলা ৩ টা পর্যন্ত সৈয়দপুর শহরের রংপুর রোড,পাঁচমাথা মোড়, শের-ই বাংলা রোড, শহীদ ডা. জিকরুল হক সড়ক, শহীদ তুলসীরাম সড়ক (দিনাজপুর মোড়) এলাকারয় চোখে পড়েনি কোন যানবাহন ও মানুষের ভীড়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, এইদিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ভারপ্রাপ্ত) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রমিজ আলম অভিযান চালিয়ে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ১৯ টি মামলা দায়ের করে ১৬ হাজার ১০০ টাকা জরিমানা করেন। এদের মধ্যে ১০ জন দোকানদার ও ৯ জন পথচারী রয়েছে। সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে দোকানদাররা দোকান খুলে রেখেছিল এবং পথচারিরা অপ্রয়োজনে বাইরে বেরিয়েছিল।
সরেজমিনে সৈয়দপুরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে সকাল থেকেই দায়িত্ব পালন করছেন সেনা বাহিনি ও পুলিশ সদস্যরা। শহরের পাঁচমাথায় পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ এবং সৈয়দপুর থানার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা যান ও জন চলাচল নিযন্ত্রণে কাজ করছেন। জরুরি প্রয়োজনে যারা সড়কে বেরিয়েছেন তাদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের।
শহড়ে যেসব গাড়ি চলাচল করছে সেগুলোর অধিকাংশই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, অ্যাম্বুলেন্স, জরুরি ও খাদ্য পণ্যবাহী ট্রাক, সরকারি কর্মকর্তাদের বহনকারী যানবাহন ও সংবাদকর্মীদের মোটরসাইকেল। তবে পৌর এলাকায় অলিগলি ও সড়কে কিছু রিক্সা চলাচল করতে দেখা যায়। রংপুর দিনাজপুর মহাসড়কে কিছু পণ্যবাহী ট্রাক, অ্যাম্বুলেন্স, হাসপাতালের চিকিৎসকদের গাড়ি চলতে দেখা গেছে। তবে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে পুলিশের কঠোর ভূমিকা লক্ষ্য করা গেছে। মহাসড়কেও চলাচলকারী প্রত্যেকটি গাড়ি চেক করার চেষ্টাও করছেন।
জানতে চাইলে সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল হাসনাত জানান শহরে পুলিশ ছাড়াও আর্মি ও বিডিআর টহল অব্যাহত রেখেছে। অপ্রয়োজনে বাড়ির বাইরে বের না হওয়ার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।