।। আমিরুল হক ।। দুই ঘন্টার বৃষ্টিতে নীলফামারীর সৈয়দপুরের অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। গত রবিবার রাত ৯ টা থেকে ১১ টা পর্যন্ত টানা ভারী বর্ষনে পানি ঢুকে পড়ে শহরের বাসা-বাড়ী ও দোকনপাটে। এতে প্রায় ১৩ হাজার পরিবার জলাবদ্ধতায় নাকাল হয়ে পড়েছেন। দুর্ভোগে পড়া মানুষেরা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে জলাব্ধতার ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু জলাবদ্ধতা নয়, জলাবদ্ধতার সঙ্গে ময়লা উঠে আসছে ঘরের ভেতরে । প্রতি বর্ষা মৌসুমে এ ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে তাদের। কিন্তু পৌর কর্তৃপক্ষ বরাবরই এব্যাপরে উদাশীন। দীর্ঘ দিনেও জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধান না হওয়ায় তাদের এ দুর্ভোগ। তবে রেলওয়ের জায়গা দখল করে বাড়িঘর নির্মাণ এবং পানি বের করে দেয়ার জন্য ড্রেন নির্মাণে স্থানীয়রা জায়গা ছেড়ে না দেয়ায় ওই অবস্থার সৃষ্টি বলে দাবি পৌর কর্তৃপক্ষের।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বাশঁবাড়ী, মিস্ত্রিপাড়া, নতুন বাবু পাড়া, সাহেব পাড়া, মুন্সিপাড়া, গোলাহাট, ইসলাম বাগ, আতিয়ার কলোনী এলাকায় এ ক’দিনের ভারি বর্ষনে শুধু রাস্তা নয় ঘরের ভিতরেও পানি ঢুকে পড়েছে। অনেক এলাকায় পানি নিষ্কাশনের জন্য নেই কোন ড্রেন। এছাড়া আউটলেট না থাকায় পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে কাদা-পানি মিলে একাকার হয়ে সারা বছর রাস্তা চলাচল অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে। বৃষ্টির পানি এবং মহল্লার বাসিন্দাদের পানি বের হবার কোন পথই খোলা নেই।
নতুন বাবুপাড়ার এলাকার বাসিন্দা ওয়ালিউর রহমান বলেন, ঘরের আঙ্গিনায় এসেছে নোংরা পানি। গন্ধে টেকা দায়। আমার বাড়ির পাশের নালার পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ। ওখানে ঝোপ-ঝাড় আর ময়লার ভাগার। এ ময়লা আশে পাশের উঠান-বারন্দায় উঠছে। সাহেব পাড়া এলাকার তানভীর আহমেদ সুজন বলেন, সারাটি জীবন এভাবে জলাবদ্ধতার মধ্যেই কাটাতে হলো। পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে বার বার আবেদন- নিবেদন করে ও কোন ফল পাওয়া যায়নি। মনে হচ্ছে এ জীবনে আর ড্রেনের দেখা পাবনা।
বাশঁবাড়ীর বাসিন্দা আনোয়ারী বেগম বলেন, নোংরা পানি,দুর্গন্ধ, মশার যন্ত্রনা তো আছেই। বাড়ির উঠোনে লাগানো একটি গাছও বাঁচানো সম্ভব হচ্ছে না। এলাকায় চর্ম ও পানিবাহিত রোগে ভুগছেন অনেকেই। সাদরা লেন সংলগ্ন বায়তুস সালাম রোডের বাসিন্দা রাজু আহমেদ জানালেন, বৃষ্টি ছাড়াই জলাবদ্ধতা লেগে আছে। সামন্য বৃষ্টিতে পুরো এলাকা প্লাবিত হয়। পরিবারগুলো হয়ে পড়ে পানিবন্দি।
বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক কোয়েলিয়া বিশ্বাস বলেন, আর ক’দিন পরেই পবিত্র ইদুল আযহা। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম এ ধর্মীয় উৎসবেও জলাবদ্ধতার কারনে আমাদের ঘর বন্দি হয়ে থাকতে হবে।
জানতে চাইলে সৈয়দপুর পৌরসভার মেয়র রাফিকা আকতার জাহান বেবী বলেন, যে সব এলাকায় ড্রেন নেই সেই সব এলাকায় ড্রেন নির্মানের জন্য চলতি বাজাটে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আমি নিজেই বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে জলাব্ধতার কারন ও তা সমাধানে চেষ্টা করছি।