সিসি নিউজ ডেস্ক ।। কুমিল্লায় করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। বিভিন্ন হাসপাতালের করোনা ইউনিটে অক্সিজেন ও আইসিইউর জন্য হাহাকার চলছে। করোনা ওয়ার্ডে সকাল-বিকাল মারা যাচ্ছে রোগী। রোগীর স্বজনদের আর্তনাদ আর আহাজারি হাসপাতালগুলোর পরিবেশ ভারী করে তুলছে।
সোমবার হাসপাতালের করোনা ইউনিট থেকে বাবার মরদেহ নিয়ে বাড়ি যাচ্ছিলেন আবুল বাশার নামে একজন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে উন্নত চিকিৎসা আশা করাই বোকামি। বাবা মরে গেছে, এখন আর কী বলব? কপাল খারাপ ছিল ভাই।’
তবে মারা যাওয়া আরেক রোগীর স্বজন বলেন, ডাক্তার-নার্সরা ভালো চিকিৎসাই দিয়েছেন এখানে। কিন্তু আমাদের ভাগ্য ভালো না।
এদিকে সকাল থেকে করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দিতে এসেছেন অনেক মানুষ। হাসপাতালের করিডোরে গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে আছেন তারা। এতে এখান থেকেই সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা করছেন কেউ কেউ।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. মহিউদ্দিন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. রেজাউল করিম জানান, সোমবার সকালেও হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ১৩৬টি বেডের জায়গায় ১৪৯ জন ভর্তি ছিল। আইসিইউর ২০টি ও এইচডিইউর ১০টি বেডেই রোগী রয়েছে। সাধারণ বেডের জন্য রোগীরা আসলে আমরা ভর্তি রাখছি। অক্সিজেনের চাহিদা বাড়ায় নতুন একটি প্ল্যান্ট চালু করার প্রস্তুতি চলছে।
কুমিল্লার সিভিল সার্জন মীর মোবারক হোসাইন জানান, আশঙ্কাজনক হারেই হাসপাতালে করোনাভাইরাসে আক্রান্তরা আসছেন। করোনা আক্রান্তদের ভর্তি নিতে কুমিল্লা সদর হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে অন্য রোগীদের ভর্তি বন্ধ রাখা হয়েছে। করোনা ইউনিটে শয্যা বাড়ানো হচ্ছে। প্রয়োজনে পুরো সদর হাসপাতালই করোনা ডেডিকেটেড করা হবে। উৎস: ঢাকা পোস্ট