সিসি নিউজ ডেস্ক ।। গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালে এক রোগীর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে হামলা মারপিট ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার রাত ৮টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, রোগীর মৃত্যুর পর তার স্বজন ও বহিরাগতরা চিকিৎসক, নার্সসহ অন্যদের ওপর হামলা চালিয়ে মারধর ও ভাঙচুর করে। তবে এ ব্যাপারে পাল্টা অভিযোগও পাওয়া গেছে। রোগীর স্বজনরা জানান, প্রতিবাদ করলে কর্তৃপক্ষের লোকজন তাদের ওপর চড়াও হয়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, গাইবান্ধা সদরের বোয়ালী ইউনিয়নের পশ্চিম বাটিকামারী গ্রামের আলতাফ হোসেনের স্ত্রী জাহেদা বেগমকে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসেন তার স্বজনরা। কিন্তু দুপুরে যথারীতি হাসপাতালের ল্যাব বন্ধ থাকায় তাদের বাইরে রক্ত পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন চিকিৎসক। রক্ত পরীক্ষা করার পর বিকালে তাকে আবার হাসপাতালে আনা হয়। পরবর্তীতে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রোগীর স্বজনদের দাবি, রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে চিকিৎসকের কাছে এলে তিনি রিপোর্টে রক্ত স্বল্পতার কারণ দেখিয়ে রক্ত সংগ্রহের কথা বলেন। তারা রক্ত যোগাড় ও ক্রস ম্যাচ করে এনে জানতে পারেন জাহেদা মারা গেছেন। তাদের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি না করায় চিকিৎসার অভাবে অবহেলায় রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
তবে চিকিৎসক সুজন পাল জানান, রোগীর রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কম থাকায় তার অবস্থা আগে থেকেই সংকটাপন্ন ছিল। সেই সময় ল্যাব বন্ধ থাকায় বাইরে থেকে রক্ত পরীক্ষার জন্য বলা হয়। তারা ফেরার পর রোগীর মৃত্যুর কথা শুনে উত্তেজিত হয়ে জরুরি বিভাগে হামলা চালিয়ে কর্তব্যরত নারী চিকিৎসকসহ দুই চিকিৎসক, শিক্ষানবীশ নার্স এবং অন্য কর্মীদের বেধড়ক মারপিট করে। তারা জিনিসপত্রও ভাঙচুর করে।
এদিকে এই ঘটনার পর প্রায় তিন ঘণ্টা চিকিৎসা বন্ধ করে চিকিৎসকরা হামলাকারীদের শাস্তি দাবি করেন। তারা করোনাকালে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেবাদানকারী চিকিৎসকদের এই লাঞ্ছনা ও মারপিটের বিচার দাবি করেন।
রাত সাড়ে ৯টার দিকে হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. তাহেরা আক্তার মনি বলেন, সাধারণ মানুষের যাতে কোনো কষ্ট না হয় সেজন্য জরুরি বিভাগ চালু রাখা হয়েছে। সোমবার সকালে চিকিৎসকরা সভা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।
গাইবান্ধা সদর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) রজ্জব আলী বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।