সিসি নিউজ ।। নীলফামারীর সৈয়দপুরে ১০০ শয্যা হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্টাফের বিরুদ্ধে মজিলা মেগম (৪৫) নামে এক মুমূর্ষু রোগীকে চিকিৎসাসেবা না দেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে। এ নিয়ে হাসপাতাল কতৃপক্ষের সাথে রোগীর স্বজনদের বাক-বিতন্ডার ঘটনাও ঘটে। বৃহস্পতিবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।
রোগীর স্বজনরা জানান, উপজলোর বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের লক্ষনপুর বালাপাড়া (ফকির পাড়া) বাসিন্দা ভ্যানচালক সাইদুল ইসলামের স্ত্রী মজিলা বেগম (৪৫) অসুস্থ্য হলে তাকে রংপুরের চিকিৎসক ডা. রাজিবুল হকের কাছে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান। চিকিৎসক বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রোগীর দেখেন তাঁর রক্তে শূণ্যতা রয়েছে। ওই চিকিৎসক তাঁকে স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে ভর্তি ও দুই ব্যাগ রক্ত দেওয়ার পরামর্শ দেন।
পরামর্শ অনুযায়ী গত বুধবার দুপুরে রোগীকে ভর্তি সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাঁর অবস্থা আরও খারাপ হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক যথযথ চিকিৎসা না দিয়ে ফেলে রেখে রক্তদাতা আনতে বলেন। পরের দিন রক্তদাতা আনলে হাসপাতালের ল্যাব টেকনেসিয়ান মামুন রক্তের ম্যাচিং করার জন্য প্রাইম বেসরকারি ল্যাবে যেতে বলেন। এতে অস্বীকৃতি জানালে ইচ্ছাকৃতভাবে তিনি রক্তদাতাকে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বসিয়ে রেখে বলেন, রোববার পর্যন্ত রোগী বেঁচে থাকলে সেদিন তাঁকে রক্ত দেওয়া হবে।
রোগীর স্বামী সাইদুল ইসলাম বলেন, আমার স্ত্রীকে ভর্তি করার পর থেকেই ডাক্তার ও টেকিনেসিয়ান মামুন চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে রোগীকে তাঁদের পছন্দমত ক্লিনিকে যাওয়ার জন্য চাপ দেন। আমি গরিব মানুষ ভ্যান চালিয়ে সংসার চালায়। ক্লিনিকে চিকিৎসা কিভাবে করাবো। তাই রোগীকে বাড়িতে নিয়ে এসেছি মরলে বাড়ীতেই মরুক।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ওমেদুল হাসান সম্রাট বলেন, বিষয়টি আমি রোগী যাওয়ার পর জানতে পেরেছি। এটা একটা ভুল বোঝা-বুঝি হয়েছে। তবে রক্তের ডোনার হাসপাতালে এসে অপেক্ষা করে রক্ত না দিযে ফিরে গেছে এটা দুঃখ জনক। আমি বিষয়টি দেখছি ।