• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩৮ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

কিশোরগঞ্জে পাকতে শুরু করেছে রোপা আমন ধান

।। এস এম জামান ।। আগাম জাতের রোপা আমন ধান পাকতে শুরু করায় হাসি ফুটেছে চাষীদের মুখে। ঠিক এ সময়ে কর্মহীণ কৃষি শ্রমিকরা কাজ পাবে ভেবে ফেলছে স্বস্তির নিঃশ্বাস। কৃষি বিভাগ বলছে চাষীরা আগাম জাতের ধানের ভালো দাম পাওয়ায় এ ফসলটির আবাদ প্রতি বছর বাড়ছে। এ চিত্র নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার।

কিশোরগঞ্জ উপজেলা কৃষি বিভাগের মতে, এবারে ১৪ হাজার ৮৮০ হেক্টর জমিতে হাইব্রীড ও উফশী জাতের রোপা আমন ধানের চাষ হয়েছে। যা গত বছরের চেয়ে ৫ হেক্টর বেশি জমিতে চাষাবাদ হয়েছে। হাইব্রীড জাতের রোপা আমন ১০৮ থেকে ১১০ দিন এবং উফশী জাতের রোপা আমন ১১৫ থেকে ১২০ দিনের মধ্যে ঘরে তুলতে পারে চাষীরা। জমি চাষ, মজুরী, সেচ, বালাইনাশক, কর্তন ও মাড়াই বাবদ হাইব্রীডে প্রতি বিঘায় ৭ হাজার ৭০০ টাকা ও উফশীতে ৭ হাজার ২৫০ টাকা ব্যয় হয়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবারে বাম্পার ফলন হয়েছে। বিঘা প্রতি ১৪ থেকে ১৫ মন ধান পাবে চাষীরা এমনটি আশা করছে কৃষি বিভাগ। এ ছাড়া বাজারে ধান ও গোখাদ্য হিসেবে খড়ের দাম ভালো থাকায় চাষীরা বিঘা প্রতি ১৩ থেকে ১৪ হাজার টাকায় বিক্রি করতে পারবে।

কৃষি বিভাগের ওই সূত্রটি জানায়, চার ফসলী এসব জমির আগাম জাতের ধান কাটা শেষে এ অঞ্চলের কৃষকরা আগাম আলু চাষে ব্যস্ত হয়ে পড়বে। রবি মৌসুমে দুইবার আলু চাষ হয় এসব জমিতে। একটি আগাম আলু ও অপরটি বীজ আলু। এরপরই আবাদ হয় খরিপ-১ মৌসুমে ভুট্টা।

উপজেলার পুটিমারী ইউনিয়নের চন্ডির বাজারের কৃষক লালু প্রসাদ জানান, আবহাওয়া ভালো থাকায় ধানের ক্ষেতে তেমন একটা কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয়নি এবার। ধানের ফলন ভালো হয়েছে। আগামী ৮/১০ দিনের মধ্যে ধান কাটাই-মাড়াই শুরু হবে। এরপর আলু চাষের জন্য দ্রুত জমি প্রস্তুত করবো।

ওই গ্রামের কৃষক অনিল চন্দ্র রায় জানান, ধান কাটতে শ্রমিকের সংকট হয় না। কারণ এ সময়ে কাজ না থাকায় বেকার হয়ে পড়ে আছে কৃষি শ্রমিকরা। তারা কাজের সন্ধানে এসময় ছুটে যায় দেশের দক্ষিনাঞ্চলের জেলাগুলোতে। আগাম জাতের আমন ও আলু চাষাবাদের ফলে তারা এ অপেক্ষায় থাকে।

কিশোরগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা তুষার কান্তি রায় জানান, বর্তমান বাজারে ধানের দামের সাথে উচ্চ মূল্যে বিক্রি হচ্ছে খড়। প্রতি বিঘায় খড় বিক্রি হচ্ছে ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকায়। ফলে আগাম জাতের রোপা আমন চাষে লাভবান হওয়ায় চাষীরা দিন দিন আগ্রহী হয়ে উঠছে।

কিশোরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: হাবিবুর রহমান জানান, এখানে কৃষি শ্রমিক ব্যবহারের উত্তম সুুযোগ রয়েছে। শ্রমিক বেকার থাকে না। আর বিশেষ করে উচ্চ ফলনশীল আগাম জাতের ধান চাষে কৃষকরা লাভবান হয়। সেজন্যে কৃষকদের আগ্রহ বেড়ে চলেছে। এ লাভে করোনাজনিত এ সময়ে সংকট কাটিয়ে উঠতে সহযোগিতা করেছে। আমরা ধারনা করছি আগামীতে আগাম ধান ও আলু চাষ বৃদ্ধি পাবে। চাষীরা মূল্য পায়, চাষীরা আনন্দ পায়- এজন্যই আমরাও খুশি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ