বিশেষ প্রতিনিধি ।। করোনাকালীন লকডাউনে দীর্ঘদিন ট্রেন বন্ধ থাকার পর রেল চলাচল শুরু হলেও চালকসহ জনবল ঘাটতি, ন্যূনতম লোকোমোটিভ(রেল ইঞ্জিন) না থাকা, ছোট স্টেশন সমূহে স্টেশন মাস্টার না থাকা ও ইঞ্জিন বিকল হয়ে থাকাসহ নানাবিধ কারণে এখনও চালু হয়নি উত্তরবঙ্গ মেইল(সেভেন আপ এইট ডাউন), রমনাসহ দুইটি ডেমু ট্রেন। আর এতে করে ভোগান্তিতে পড়েছেন এসমস্ত ট্রেন চলাচলকারী রুটের যাত্রী ও জনসাধারণ।
জানা গেছে, রেলওয়ের পশ্চিম জোন উত্তরাঞ্চলে যাত্রী পরিবহন সেবার মান আরও একধাপ এগিয়ে নিতে দিনাজপুরে দুই সেট ডেমু ট্রেন চালুর সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ রেল। তবে কাজে আসছে না সরকারের কোটি টাকা ব্যয়ে কেনা ডেমু ট্রেন। শুরুর দিকে এ অঞ্চলের মানুষ ট্রেন দু’টির সুবিধা পেলেও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দীর্ঘদিন যাবত বন্ধ থাকায় বেড়েছে যাত্রী ভোগান্তি। এমনকি নির্ধারিত গন্তেব্যে যাওয়ার মাঝ পথে ইঞ্জিন বিকল হওয়ারও ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে জনবল ঘাটতি, ন্যূনতম লোকোমোটিভ(রেল ইঞ্জিন) না থাকা, ছোট স্টেশন সমূহে স্টেশন মাস্টার না থাকা ও ইঞ্জিন বিকল হয়ে থাকাসহ নানাবিধ কারণে লকডাউনের পরও এখনও চালু হয়নি সান্তাহার-পঞ্চগড় বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল
ইসলাম স্টেশনে চলাচলকারী উত্তরবঙ্গ মেইল(সেভেন আপ এইট ডাউন) ও পার্বতীপুর-কুড়িগ্রাম রুটে চলাচলকারী রমনা ট্রেনটি।
বাংলাদেশ রেলওয়ের পার্বতীপুর লোকো সেড অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালে তৎকালীন রেলপথমন্ত্রী মুজিবুল হকের উদ্বোধনের মাধ্য দিয়ে দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে পঞ্চগড় বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম রেলস্টেশন ও লালমনিরহাট পথে আনুষ্ঠানিক ভাবে যাত্রা শুরু করে দু’সেট ডেমু ট্রেন। প্রথম দিকে আধুনিক সুবিধা সম্পন্ন ট্রেন দুটি ভালোভাবে যাত্রী পরিবহনে সক্ষম হলেও বিভিন্ন কারণে এখন পড়ে আছে পার্বতীপুর লোকো সেডে। দেশব্যাপি যতগুলো ডেমু ট্রেন রয়েছে এর মধ্যে শুরুর দিকে শুধুমাত্র পশ্চিম জোনের এ দুটি ট্রেন থেকে সরকার প্রতিমাসে সর্বাধিক লক্ষাধিক টাকা রাজস্ব আদায়ে
সক্ষম হয়েছে। তবে দীর্ঘদিন যাবত যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ রয়েছে।
বর্তমানে ডেমু ট্রেন পার্বতীপুর ডিজেল শপে ওভারহালিং এর জন্য রাখা হয়েছে লোকো সেডে। ট্রেনের অন্যান্য কাজের অংশ হিসেবে হাইড্রোলিক সিস্টেম, ব্রেকিং, কুলিং ও ফিটিং সিস্টেমের কাজ করছেন লোকো সেডের কর্মচারীরা। কিন্তু যান্ত্রিক বিষয়গুলি নতুন হওয়ায় এগুলিতে কিছু জটিলতা রয়েছে।
পার্বতীপুর রেলওয়ে জংশন স্টেশনের স্টেশন মাস্টার শওকত আলী জানান, পার্বতীপুর থেকে বিভিন্ন রুটে ৬৮ টি ট্রেন চলাচল করে। করোনার কারণে সাময়িক ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকলেও এখন ডেমুসহ ২/৩টি ট্রেন ছাড়া সকল ট্রেন চালু রয়েছে।
দিনাজপুর রেলওয়ের স্টেশন সুপারিনটেনডেন্ট এবিএম জিয়াউর রহমান জানান, দিনাজপুর স্টেশনের ওপর দিয়ে চলাচলকারী ডেমু ও সেভেন আপ এইট ডাউন ট্রেনটি করোনার পর চালু হয়নি। এই দুটি ট্রেন দিয়ে প্রতিদিন কয়েকশত যাত্রী চলাচল
করত। এটা চালু না হওয়ায় কম দূরত্বের যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েছে। বিশেষ করে দিনাজপুর থেকে পার্বতীপুর রুটে বিকেলে ফেরার কোন ট্রেন না থাকায় যাত্রীদের কষ্ট হচ্ছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চল জোনের বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (লালমনিরহাট) নুর মোহাম্মদ বলেন, চালক স্বল্পতা, স্টেশন মাস্টার না থাকা, ন্যূনতম লোকোমোটিভ না থাকায় ট্রেনগুলি চালু করা সম্ভব হয়নি। বেশী ট্রেন চলাচল করলে বেশী স্টপেজ দিতে হয় চাপ পড়ে।