সিসি নিউজ ।। প্রতিবারের মত এবারও নীলফামারী জেলায় ৭৮৬টি পূজা মণ্ডপে চলছে দূর্গা পূজার ব্যাপক প্রস্তুতি। পূজা মণ্ডপ গুলোতে প্রতিমা গড়ার প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। এতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎ শিল্পিরা। আবার কোথাও কোথাও চলছে প্যান্ডেল তৈরি আর সাজ-সজ্জার কাজ।
কয়েকটি পূজা মন্ডপ সরজমিন পরিদর্শন করে দেখা যায়, জেলার প্রতিটি পূজামণ্ডপে এখন চলছে প্রতিমা তৈরীর কাজ। মৃৎ শিল্পীরা খড়-মাটির কাজ শুরু করেছে। কোথাও কোথাও মাটি দিয়ে প্রতিমার রূপ ফুটিয়ে তুলছেন তারা।
মৃৎ শিল্পীরা বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন ডিজাইনের প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে। কোনটির খড় মাটির কাজ শেষ হয়েছে। কোনটিতে মাটির কাজ শুরু করা হয়েছে। আরো ১০/১২ দিন পর থেকে পূজার আগের রাত পর্যন্ত রংয়ের কাজ চলবে বিভিন্ন মণ্ডপে। তবে পরিশ্রমের তুলনায় পারিশ্রমিক পর্যাপ্ত না হলেও আন্তরিকতার সহিত কাজ করেন তারা।
সৈয়দপুর শহরের কয়া গোলাহাটের স্মৃতি দুর্গা মন্ডপ পূজা কমিটির সভাপতি অতুল চন্দ্র দাস জানান, শারদীয় দূর্গা পূজার আয়োজন শুরু হয়েছে। এবারে খড়, বাঁশ ও মজুরীর দাম বেশি হওয়ায় গত বছরের চেয়ে সাধারন প্রতিমা তৈরিতে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা বেশি ব্যয় হচ্ছে। এছাড়া আকর্ষনীয় সাজ সজ্জার ব্যয়েও বাড়ছে।
নীলফামারী জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপক কুমার চক্রবর্তী জানান, শান্তি ও সম্প্রীতির জেলা নীলফামারী। এখানে সকলের সহযোগিতায় দূর্গোৎসব পালিত হয়ে থাকে। এবার জেলায় পূজার সংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সদর উপজেলায় ২৭৬টিসহ পুরো জেলায় ৭৮৭টি পূজা মণ্ডপে দূর্গা পূজার প্রস্তুতি চলছে বলে প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে। উৎসব মূখর পরিবেশে দূর্গা পূজা পালনের লক্ষ্যে এ সপ্তাহে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধিদের সাথে অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভায় সঠিক হিসেবে পাওয়া যাবে।
নীলফামারী জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি এ্যাডভোকেট অক্ষয় কুমার রায় জানান, উৎসবের মধ্যে দিয়ে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে যাতে না পারে তার জন্য পূজা কমিটির সদস্যদের করোনা টিকা নিতে উৎসাহ ও সচেতনতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। এ ছাড়া দর্শনার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে পূজা মন্ডপে আসার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট পূজা কমিটিকে দায়িত্ব নেয়ার আহবান জানান তিনি।
নীলফামারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান জানান, আসন্ন দূর্গা পূজায় নিরাপত্তার ব্যাপারে জানান, শান্তিপূর্ন ভাবে, নিরাপদ আর উৎসবের আমেজে দূর্গা পূজা উদযাপনের জন্য চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলার সকল পূজা মণ্ডপের সাথে সমন্বয় করা হচ্ছে। সকলের সহযোগিতায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে উৎসবমূখর পরিবেশে দূর্গোৎসব পালিত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।