।। রেজা মাহমুদ ।। শিক্ষক–সংকটে ব্যাহত হচ্ছে নীলফামারীর সৈয়দপুরের ঐতিহ্যবাহী রেলওয়ে সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম। দীর্ঘ ৬ বছর থেকে নেই প্রধান ও সহকারী প্রধান শিক্ষক। রেলওয়ের এ বিদ্যালয় ১৬ জন শিক্ষকের পদ থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র ৬ জন। বিষয় ভিত্তিক শিক্ষক না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান।
রেলওয়ে বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৮৭০ সালে সৈয়দপুরে গড়ে ওঠে রেলওয়ে কারখানা। সেখানকার শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ছেলে-মেয়ের পড়ালেখার জন্য ওই বিদ্যালয় গড়ে ওঠে। সে সময় বিদ্যালয়টি ছিল ইংলিশ মিডিয়াম। তাই অনেকেই এটিকে ইংলিশ স্কুল নামে চেনে। অতীতে শিক্ষাক্ষেত্রে বিদ্যালয়টির প্রচুর সুনাম ও খ্যাতি থাকলেও এখন তা নেই।
অবকাঠামোগত সকল সুযোগ-সুবিধাসহ বিদ্যালয়টিতে রয়েছে বিশাল খেলার মাঠ। তবুও কোনোরকমভাবে ধুকে ধুকে চলছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, মৌলভী,পন্ডিতসহ দীর্ঘদিন থেকে ১০ জন শিক্ষকের পদ শূন্য। নেই উচ্চমান ও অফিস সহকারী এবং ল্যাব সহকারী। সব মিলিয়ে ২৪ জনবলের বিপরীতে এখানে কর্মরত আছেন ১০ জন।
একসময় এখানে ২০০০-২৫০০ শিক্ষার্থী পড়ালেখা করত। ফলাফলের দিক থেকেও উপজেলায় প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান ছিল শীর্ষে। কিন্তু নানা সংকটে দিন দিন শিক্ষার্থী সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। ইতিমধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির পাঠদান কার্যক্রম। বর্তমানে এই বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ৫০০।
বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের এসএসসি পরীক্ষার্থী মারুফা আক্তার জানায়, রসায়নের শিক্ষক না থাকায় এই বিষয়ে একটি দিনও ক্লাস হয়নি। তাই কিভাবে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করব তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।
প্রধান শিক্ষক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মাসুদ রানা বলেন, বিদ্যালয়টি রেলওয়ে মন্ত্রলনালয়ের অধীন। পূর্বে রেলওয়ে বিভাগ নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করতেন। কিন্তু এখন সরকারী কর্মকমিশন থেকে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। জনবল কাঠামোর ক্ষেত্রে রেল ও কর্ম কমিশনের আইনের জটিলতায় নিয়োগ কার্যক্রম বাধাগ্রস্থ হচ্ছে।