সিসি নিউজ ।। নীলফামারীর সৈয়দপুর পৌরসভার মেয়র রাফিকা আকতার জাহান বেবির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। সোমবার সৈয়দপুর বিজ্ঞ আমলী আদালতে মেয়রের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ এনে মামলাটি দায়ের করেন শহরের বাঙ্গালীপুর নিজ পাড়ার বাসিন্দা গাউসুল আযম ফারুকী। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।
মামলার অভিযোগে জানা যায়, গত বছর বাদী ফারুকী তার নির্মানাধীণ ৬তলা ভবনের লিফট স্থাপনের নকশা অনুমোদনে বিবাদী রাফিকা আকতার জাহানের কাছে সহযোগিতার জন্য যান। এ সময় বাদীর কাছে তিনি এক লাখ টাকা দাবি করেন। ফারুকী ২১ ডিসেম্বর ২০২০ তারিখে এবি ব্যাংক লিমিটেড সৈয়দপুর শাখায় নিজের হিসাব নম্বর ৪২১১-৫৭৮১৪০-০০০ থেকে চেকের মাধ্যমে টাকা প্রদান করেন। এর দুই দিন পরেই মামলার অপর বিবাদী হাসানুজ্জামান আজম চেকটি নগদায়ন করেন।
অভিযোগ মতে, গত ২২ আগষ্ট মেয়রের কার্যালয়ে লিফটের নকশা অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি জমা করেন। ১৬ সেপ্টেম্বর বাদী গাউসুল আযম ফারুকী মেয়রের কাছে নকশা অনুমোদনের বিষয় জানতে চাইলে পূর্বের এক লাখ টাকা গ্রহণের বিষয়টি অস্বীকার করে ফের এক লাখ টাকা দাবি করেন। এ ঘটনায় মেয়রের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ এনে আদালতে মামলাটি তিনি (ফারুকী) দায়ের করেন।
তবে একটি সূত্র জানায়, সে সময় বিএনপির জনৈক নেতা সৈয়দপুর পৌরসভায় মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ফারুকীর ভবনের নকশা নিয়ে তৎকালীন মেয়রের সাথে উচ্চ আদালতে মামলা চলমান থাকায় লিফটের নকশা অনুমোদনের বিষয়ে তিনি সংশয়ে ছিলেন। এমতাবস্থায় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারী মাসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে রাফিকা আকতার জাহান মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হন।
সৈয়দপুর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মো. আব্দুস সেলিম জুয়েল জানান, গাউসুল আযম ফারুকী গত এক মাস আগে লিফটের নকশা অনুমোদনের জন্য কাগজপত্রাদি দাখিল করেছেন। যা অনুমোদনের জন্য প্রক্রিয়াধীন। তাছাড়া তাঁর ভবনের জমির জটিলতা বিষয়ে উচ্চ আদালতে মামলা ছিল। পূর্ববর্তী মেয়রের বিরুদ্ধেও তিনি এ ধরনের হয়রানীমূলক মামলা করেছিলেন।
এ বিষয়ে সৈয়দপুর পৌরসভার মেয়র রাফিকা আকতার জাহান বেবি জানান, চলতি বছর ফেব্রুয়ারী মাসে আমি মেয়র নির্বাচিত হই। অভিযোগকারী বিগত বছরে আমাকে নকশা অনুমোদনের জন্য টাকা দেয়ার বিষয়টি হাস্যকর। তিনি বলেন, মিথ্যা ও সাজানো মামলা দিয়ে আমাকে হয়রানী ও সমাজে হেয় প্রতিপন্ন করাই তার মূল উদ্দেশ্য।