• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩৪ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

পার্বতীপুরে পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় স্বামীকে হত্যা, স্ত্রী ও প্রেমিকের যাবজ্জীবন

সিসি নিউজ।। দিনাজপুরে পরকীয়ায় বাঁধা দেওয়ায় স্বামীকে হত্যার দায়ে স্ত্রী ও তাঁর প্রেমিককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে দিনাজপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালত। সেই সঙ্গে প্রত্যেককে পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। রোববার বিকেলে দিনাজপুর সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আজিজ আহমদ ভূঞা এর আদালতে এই রায় প্রদান করা হয়।

যাবজ্জীবন প্রাপ্ত আসামিরা হলেন, নিহত আবু ছালাম মোল্লার স্ত্রী মোছা. ফাহমিদা বেগম (৩৮) ও তাঁর প্রেমিক কথিত ধর্মভাই শ্রী মানিক রবি দাস।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর নতুন বাজার রিফুজি মার্কেটের মুদি ব্যবসায়ী মো. আবু সালাম মোল্লা (৪৮) দুই যুগ পূর্বে মোছা. ফাহমিনা বেগমের (৩৮) সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সংসার করে আসছিলেন। তাঁদের দীর্ঘদিনের সংসারে একটি ছেলে ও একটি মেয়ে আছে। মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় ও স্বামী ব্যবসার স্বার্থে দোকানে থাকেন এবং ছেলে পড়াশোনার জন্য বাইরে থাকে। এই সুযোগে আসামি ফাহমিনা বেগম ও তাঁর কথিত ধর্মভাইয়ের গোপন অবৈধ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বাড়িতে একা থাকার সুযোগে ৪ / ৫ বছর ধরে তাঁরা অবাধে পরকীয়া করতে থাকেন।

পরে উভয়ের তাঁদের সম্পর্কের বিষয়ে জানাজানি হয়ে গেলে আবু ছালাম মোল্লা তাঁর স্ত্রীকে শাসন করেন। ঘটনার চার মাস আগে আবার শাসন করলে ফাহমিনা কীটনাশক পান করেন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া বিবাদ লেগে থাকত।

অন্যদিকে পরকীয়ায় স্ত্রী ও তাঁর প্রেমিক মানিক প্রায়ই আবু ছালাম মোল্লাকে হত্যার হুমকি দিতেন। ২০১৫ সালের অক্টোবর মাসের ২৫ তারিখে আনুমানিক ভোর ৫টায় আবু ছালাম মোল্লা ফজরের নামাজ পড়ে বাড়িতে ঢুকলে পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা স্ত্রী ফাহমিনা ও তাঁর প্রেমিক আবু ছালাম মোল্লার গলায় রশি পেঁচিয়ে দুজন দুদিক থেকে টেনে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে তাঁর লাশ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখেন। আসামিদের আটক করলে স্ত্রী ফাহমিনা ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন যে, তাঁরা দুজন মিলে গলায় নাইলন রশি দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে তাঁকে হত্যা করে।

রায়ের বিষয়ে আসামি পক্ষের আইনজীবী হযরত আলী বেলাল বলেন, পোস্টমর্টেম রিপোর্টে মৃত আবু ছালাম মোল্লার গলায় শুধু দাগ ছিল যা রিপোর্টে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়। তাতে আজকের যে রায় তার কোনো ভিত্তি নেই। আসামিপক্ষ উচ্চ আদালতে আবেদন করলেই খালাস পেয়ে যাবেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. রবিউল ইসলাম রবি বলেন, ‘আদালত সব বিবেচনায় আসামিদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। এই রায়ে আমরা খুশি ও সন্তুষ্ট।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ