• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫২ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

মুষ্টির চালে মহিলাদের দূর্গাপূজা

সিসি নিউজ ।। ভাতের চাল থেকে এক মুষ্টি করে চাল জমিয়ে পূজার আয়োজন করেছে নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের হাড়িপাড়ার মহিলারা। এ গ্রামের পুরুষদের আয়ের উৎস বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ঢোল বাজানো আর মহিলারা বাড়িতে বসে বাঁশের সামগ্রী তৈরী করা। দূর্গাপূজায় ঢোল বাজাতে গিয়ে পুরুষশুন্য হয়ে পড়ে হাড়িপাড়া। তাই মহিলারা এমন কৌশলে আয়োজন করে দূর্গাপূজার।
গ্রামবাসীরা জানায়, গ্রামটিতে ২৮ পরিবারের বসবাস। নানা অনুষ্ঠানে ঢোল বাজানো ও বাঁশের তৈরী সামগ্রী হাটে-বাজারে বিক্রির অর্থ দিয়েই জীবিকা নির্বাহ করে তারা। বিশেষ করে দূর্গাপূজায় ঢোল বাজাতে গিয়ে পুরুষশুন্য হয়ে পড়ে হাড়িপাড়া। তাই এ পাড়ার মহিলারা বিগত ১৫ বছর থেকে মুষ্টির চাল জমিয়ে ও সরকারের অনুদানে প্রাপ্ত চাল দিয়ে পূজার কার্যাদি সম্পন্ন করে।
গ্রামের গৃহবধু মল্লিকা রানী জানান, বিগত বছরগুলোতে অর্থাভাবে সাউন্ড সিস্টেমের ব্যবস্থা থাকে না। আলোকসজ্জা, সামিয়ানা দিয়ে সাজানো হয়না মন্ডপ ঘর। ফলে এ পাড়ার বধু, শিশু-কিশোররা দূর্গাপূজার আনন্দ থেকে বঞ্চিত হয়। তবে এবারে আয়োজক কমিটি এসবের ব্যবস্থা করায় পূজার পরিবেশ পেয়েছি।
হাড়িপাড়া পূজা উদযাপন কমিটির সাধারন সম্পাদক গীতা রানী জানান, প্রায় ৬০ হাজার টাকা ব্যয়ে এবারে পূজার আয়োজন করা হয়েছে। সরকারের অনুদানের চাল বিক্রি করে ১৪ হাজার টাকা পেয়েছি। বাকী টাকা মুষ্টির চাল বিক্রি করে ও বিভিন্ন বিশিষ্টজনের দেয়া অর্থ দিয়ে সমন্বয় করা হয়। টাকার ঘাটতি হলে আবারো মুষ্টির চাল জমিয়ে দিয়ে তা পূরণ করা হয়।
পূজা কমিটির সভাপতি দিপালী রানী জানান, অর্থাভাবে পূরনো মন্ডপ ঘরটি মেরামত করা হয়নি। টিনের চালের ফুটো দিয়ে আকাশ দেখা যায়। বৃষ্টিতে মন্ডপ ঘরের প্রতিমা নষ্ট হয়ে যায়। এবারে সাউন্ড সিস্টেম আর বাহারি তোরন নির্মাণ করায় ঘাটতি মোটা অঙ্কের অর্থের ঘাটতি হবে।
নীলফামারী জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি এ্যাডভোকেট অক্ষয় কুমার রায় জানান, বিষয়টি আমি অবগত ছিলাম না। মন্ডপ ঘরটি সংস্কারের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেয়া হবে। এ ছাড়া আগামীতে নির্বিঘ্নে পূজা আয়োজনের জন্য ওই মন্ডপে অনুদানের অর্থ বৃদ্ধির সুপারিশ করা হবে।

উল্লেখ্য যে, এবারে জেলায় ৭৬৪টি মন্ডপে দূর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পূজা মন্ডপগুলোতে পুলিশের টহল টিম সার্বক্ষনিক তদারকি করছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে দর্শনার্থীদের পূজামন্ডপে আসার জন্য পূজা উদযাপন কমিটির পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ কাজ করছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ