• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫১ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

ভাঙাড়ি দোকানে করোনা টিকার সিরিঞ্জ ও ভায়াল

সিসি নিউজ ডেস্ক ।। ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলায় ভাঙাড়ির দোকানে পাওয়া গেল করোনাভাইরাসের টিকার সিরিঞ্জ ও ভায়াল (শিশি)। সবক’টিই ব্যবহূত। টিকা দেওয়ার পর এগুলো দোকানে কেজি দরে বিক্রি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন, নিয়ম অনুযায়ী এগুলো পুড়িয়ে ফেলার কথা।
উপজেলার কবিরপুরে কবি গোলাম মোস্তফা সড়কে মা ক্রোকারিজ স্টোরে সোমবার দেখা গেল করোনাভাইরাসের টিকাদানে ব্যবহূত পাঁচ কার্টন সিরিঞ্জ ও দুই বস্তা ভায়াল। দোকানি জানান, হাসপাতালের (শৈলকূপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স) কর্মচারীরা এসে এসব বিক্রি করে যাচ্ছেন। রোববার দুপুরেও হাসপাতালের কর্মচারীরা এসে কার্টন আর বস্তাভর্তি সিরিঞ্জ-ভায়াল বিক্রি করেছেন। ৪০ টাকা কেজি দরে এসব তারা কিনেছেন।
দোকানদার আব্দুল মান্নান জানান, তারা ভাঙাড়ি হিসেবে কিনেছেন। তিনি এসব সামগ্রী কুষ্টিয়া পাইকারি দোকানে বিক্রি করেন। এর পর তারা ঢাকা বা অন্য কোথাও বিক্রি করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, করোনাভাইরাসের টিকার এসব সামগ্রী দেখভালের দায়িত্ব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইপিআই টেকনিশিয়ান বিজন কুমারের। সংশ্নিষ্টরা অভিযোগ করেন, রোগীদের টিকা দেওয়ার পর এসব স্পর্শকাতর ও ঝুঁকিপূর্ণ সামগ্রী পুড়িয়ে না ফেলে বিক্রি করে দেন বিজন। এসব জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি কোনো অসাধু চক্র শিশিতে অন্যকিছু ঢুকিয়ে করোনার টিকা উল্লেখ করে অপকর্ম করতে পারে।
জানা গেছে, সরকার এসব ব্যবহূত সামগ্রী ধ্বংস বা পুড়িয়ে ফেলার জন্য তেলও সরবরাহ করে। উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে এমন ঘটনার খবর পাওয়া গেছে।
এ ব্যাপারে বিজন কুমারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কার্টনসহ সিরিঞ্জ বাইরে যাওয়া বা বিক্রির কোনো নিয়ম নেই। তিনি দাবি করেন, তার অধীনে থাকা সিরিঞ্জ ও ভায়াল সব পুড়িয়ে ফেলেছেন। কীভাবে এসব বিক্রি হচ্ছে, তা তিনি জানেন না।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক কনক রহমান জানান, বিষয়টির ব্যাপারে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। এসব সরঞ্জাম কোনো অবস্থাতেই পাবলিকের হাতে বা বাইরে বিক্রির কথা নয়।
শৈলকূপা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাশেদ আল মামুন জানান, তিনি বিষয়টি নিয়ে ইপিআই টেকনিশিয়ান বিজনের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি তাকে জানিয়েছেন ইউনিয়নে কর্মরত তিন টেকনিশিয়ান এগুলো জমা দেননি। হয়তো সেখান থেকে কিছু হতে পারে।
ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডা. সেলিনা বেগম বলেন, কোনো অবস্থাতেই এগুলো বাইরে বিক্রির বিধান নেই। খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
করোনা টিকার সিরিঞ্জ ও ভায়াল বাইরে বিক্রি করার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম। তিনি বলেন, সিরিঞ্জ ও ভায়াল পুড়িয়ে ফেলায় নির্দেশনা রয়েছে। কেউ যদি এসব বাইরে বিক্রি করে থাকে, তবে অবশ্যই নিয়মের পরিপন্থি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উৎস: সমকাল


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ