সিসি নিউজ ।। আমি একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী। অনেক কস্ট করে ছেলেকে পড়ালেখা করিয়েছি। সবেমাত্র সে অনার্স পাশ করেছে। কিন্ত হত্যা মামলায় পুলিশ তাঁকে অহেতুক সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার করেছে। এতে করে আমার নির্দোষ ছেলের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ধ্বংস হতে বসেছে। মা হিসেবে আমার ছেলের ওই মামলা থেকে অব্যাহতি ও তারঁ মুক্তি চাই।
কথাগুলো বলেন নীলফামারীর সৈয়দপুরে দুলাল মন্ডল নামে এক রিক্সাচালক হত্যায় সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার ছাত্র ইউসুফ আলী জিতুর মা শিরিন বানু। মঙ্গলবার রাত সাড়ে নয়টার স্থানীয় এক রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সংবাদ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ৮ আগস্ট শহরের নতুন বাবুপাড়া এলাকায় দুর্বৃত্তের হাতে ওই রিকশাচালক খুন হন। খুনের সেই ঘটনায় সন্দেহজনকভাবে তাঁর ছেলে ইউসুফ আলীকে বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় পুলিশ।
তিনি বলেন, বাদী এবং নিহতের বাড়ি চিরিরবন্দর অথচ তাঁর বাড়ি সৈয়দপুরে। নিহত দুলাল ও তাঁর পরিবারের সাথে তাঁর ছেলে কিংবা তাঁর পরিবারের কোন শত্রুতা নেই। তাঁরা নিহত দুলালকে চিনেনও না। তদন্তকারী কর্মকর্তা ফরওয়ার্ডিং রিপোর্টে উল্লেখ করেছেন, স্থানীয় লোকজন সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে দৌড়ে পালানো ব্যক্তি মো. ইউসুফ আলী বলে শনাক্ত করেছেন। যা আদৌও সত্য নয়। তদন্ত করাকালীন হয়তো কেউ শত্রুতাবশত আক্রোশ মিটানোর জন্য তদন্তকারীকে এমনটি জানিয়েছেন।
গ্রেপ্তার ইউসুফ আলীর মা আরও বলেন, তাঁর ছেলে একজন মেধাবী ছাত্র। স্থানীয় লায়ন্স স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এসএসসি ও ক্যান্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এইচএসসিতে অংশগ্রহণ করে কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল করে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ঢাকার এসকে বোরহানউদ্দীন কলেজ থেকে এ বছর ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিষয়ে অনার্স পাশ করেছে। করোনাকালীন সময়ে কলেজ বন্ধ থাকায় তাঁর ছেলে সৈয়দপুরে অবস্থান করছিল।
শিরিন বানু বলেন, রিক্সাচালক দুলাল মন্ডল হত্যার বিচার হউক সৈয়দপুরে হত্যার বিচার তিনিও চান। কিন্তু পুলিশ প্রকৃত খুনিকে বাদ দিয়ে তাঁর নিরীহ ছেলেকে ওই হত্যাকান্ডের সাথে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করেছে। একজন অসহায় মা হিসেবে তাঁর ছেলেকে এ মামলা থেকে অব্যাহতি ও মুক্তি দাবি করেন তিনি ।
সৈয়দপুর থানা অফিসার ইনচার্জ আবুল হাসনাত জানান, মামলাটি তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তাই এ ব্যাপারে আমার কোন মন্তব্য নেই।