সিসি নিউজ ।। নীলফামারীর মশিউর রহমান ডিগ্রী কলেজের নাম পরিবর্তনে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ। গত ১২ জানুয়ারী একটি দৈনিক পত্রিকায় প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তন করে “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কলেজ, নীলফামারী” করার উদ্যোগ গ্রহণ করার কথা বলা হয়েছে।
এ ব্যাপারে কাহারো কোন আপত্তি, অভিযোগ বা পরামর্শ থাকলে তা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সাত দিনের মধ্যে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে লিখিত ভাবে জানাতে বলা হয়েছে।
নাম পরিবর্তনের এমন উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন থেকে প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তনের দাবি করে আসছিল স্থানীয় সাংসদ, মুক্তিযোদ্ধা, আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, পরিচালনা পর্ষদ ও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের ব্যাক্তি ও সংগঠন। কারন স্বাধীনতা যুদ্ধের বিপক্ষে ছিলেন তৎকালীন মন্ত্রী মশিউর রহমান। তাই স্বাধীন দেশে স্বাধীনতার শত্রুর নামে প্রতিষ্ঠান থাকতে পারে না।
গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের খবরে ফেসবুকে অনেকে মন্তব্য প্রকাশ করেছেন। নাঈম শাহারিয়ার পিউ নামে একজন লিখেছেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ১৯৭১ সালে ভারতের দেওয়ানগঞ্জ শরনার্থী শিবির থেকে পশ্চিম পাকিস্তানের সমর্থনে ফিরে এসে তাদেরকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করা ব্যক্তি মশিউর রহমান ওরফে যাদু মিয়া। তাঁর নাম বাতিল করার উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।
রহমান মশিউর নামে একজন লিখেছেন, মশিউর রহমান জাদু মিয়া ছিল উত্তর বঙ্গের দুর্ধর্ষ রাজাকার প্রধানদের অন্যতম। জিয়া তাকে মন্ত্রী করার পর উনার নামে এই কলেজ !
মজিবর রহমান লিখেছেন, স্বাধীনতা বিরোধীদের নামে কোনো প্রতিষ্ঠান থাকবে না আমি সম্পূর্ণ একমত কিন্তু কাউন্টার হিসাবে সব জায়গায় বঙ্গবন্ধুর নাম দিতে হবে এটাও সঠিক মনে করি না। এখানে স্থানীয় মুক্তিযুদ্ধে যার অবদান রয়েছে এরকম কোনো নাম হলে ভালো হয়।
গত বছরের ৫ অক্টোবর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ. ক. ম. মোজাম্মেল হক এমপি নীলফামারীর সদর মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স উদ্বোধন শেষে এ প্রতিষ্ঠানের মাঠে অনুষ্ঠিত মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে স্বাধীনতা বিরোধীদের নামে কোন প্রতিষ্ঠান থাকা জাতির জন্য কলঙ্কজনক। স্বাধীনতা বিরোধীদের নামে কোন প্রতিষ্ঠানের নাম থাকতে পারে না। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের নাম বদলে ফেলতে হবে।
উল্লেখ্য যে, মশিউর রহমান যাদু মিয়া নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি জিয়াউর রহমানের সরকারের সময় প্রধানমন্ত্রীর মর্যাদায় সিনিয়র মন্ত্রী ছিলেন। তিনি মাওলানা ভাসানীর শিষ্য ছিলেন এবং ১৯৭৬-এ তার মৃত্যুর পর বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির সভাপতি হন। ছাত্র জীবনে তিনি অবিভক্ত ভারতে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে যোগ দিয়ে রাজনীতি শুরু করেন। তবে তেভাগা আন্দোলনের সময় তার ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।