সিসি নিউজ ।। নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আউয়ালের বিরুদ্ধে এজাহার পরিবর্তনের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছে মামলার বাদী সিরাজুল ইসলাম। বাদীর দাবি এজাহারে উল্লেখিত আসামীরা তাঁর মেয়ে দিল আফরোজা সুলতানা ইতিকে (১৮) অপহরণ এবং পরে হত্যা করা হয়। কিন্তু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসামী পক্ষের দ্ধারা প্রভাবিত হয়ে মামলার পরিবর্তনকৃত এজাহার কপিতে স্বাক্ষর করতে আমাকে বাধ্য করেন।
মঙ্গলবার (১৫ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে নীলফামারী প্রেস ক্লাবের সম্মেলন কক্ষে ওই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এসময় মামলার বাদী কিশোরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের সিরাজুল ইসলাম সহ উপস্থিত ছিলেন নিহত ইতির চাচা আব্দুর রাজ্জাক, দাদু সাবেক অধ্যক্ষ আব্দুর রউফ ও ওয়াহেদ সরকার। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিহতের বাবা সিরাজুল ইসলাম।
বাদী বলেন, আমার বড় মেয়ে ফারজানা ফিরোজ স্মৃতির সাথে পারিবারিকভাবে একই উপজেলার নিতাই ইউনিয়নের পানিয়াল পুকুর গ্রামের জাকারিয়া শাহের ছেলে শহীদ শাহ্ এর সাথে ২২ আগষ্ট ২০১২ সালে বিবাহ হয়। তাদের একটি সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকে যৌতুকের জন্য চলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। এ ঘটনায় ২০১৯ সালের ১৯ জুন কিশোরগঞ্জ থানায় একটি এজাহার করি।
এরই প্রেক্ষিতে ১৪ অক্টোবর ২০২১ বিবাদী শহীদ শাহ্ ক্ষিপ্ত হয়ে আমার ছোট মেয়ে ইতিকে অপহরন করে নিয়ে যায়। মেয়েকে অনেক খোঁজাখুঁজির পর ১৮ জানুয়ারী ২০২২ গভীর রাতে মার ডাং করে হত্যার পর লাশ গুম করার উদ্যেশে লাশ দাফনের চেষ্টা করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ খবর পেয়ে লাশ আটক করে ময়না তদন্ত করেন।
ওইদিন সন্ধ্য়ায় স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে কিশোরগঞ্জ থানায় এজাহার করতে গেলে থানার ওসি মো. আব্দুল আউয়াল এজাহারটি পড়ে স্পর্শকাতর গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা (দন্ডবিধি ৩০২ ধারা) বাদ দিয়ে ৩০৪ ধারায় নিজের ইচ্ছামত লিপিবদ্ধ করে থানার একজন এসআইকে দিয়ে এজাহারটি রজু করেন। বাদি সিরাজুল ওসির তৈরী করা এজাহারের প্রতিবাদ করলে তিনি টেবিল চাপড়াইয়া বলেন, এই থানায় মামলা করতে হলে আমার কথামত করতে হবে। এই থানায় আমি অল-ইন-অল।
বাদী আরো জানান, তিনি আসামী পক্ষের দ্ধারা প্রভাবিত হয়ে মামলার এজাহার কপিতে স্বাক্ষর করতে আমাকে বাধ্য করেন। এছাড়াও ২০ জানুয়ারী ২০২২ তারিখে মামলাটি রুজু দেখানো হয়। মামলার ঘটনার তারিখসহ পরিবর্তন করে মামলাটি ভিন্নখাতে নেয়ার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, ওসির আমরা সুষ্ঠু বিচার চাই। জড়িতরা যাতে দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি পায় এজন্য জোড় দাবী জানাচ্ছি সরকারের কাছে।
রংপুরের পীরগঞ্জ থানায় কর্মরত ওসি আব্দুল আউয়াল জানান, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃক দেয়া সনদে উল্লেখ রয়েছে হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে দিল আফরোজা সুলতানা ইতি মারা গেছে। সে অনুযায়ী মামলাটি রুজু করা হয়েছে। হাতে লেখা মামলায় তারিখ ভূলের বিষয়টি নজরে এলে অনলাইনে দায়েরকৃত মামলায় তারিখ সঠিক করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে মামলার বাদীর অভিযোগ সম্পুর্নরুপে উদ্দেশ্যপ্রনোদিত বলে উল্লেখ্য করেন।
এ ব্যাপারে নীলফামারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান বিপিএম, পিপিএম জানান, এমনটা হওয়ার কথা নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। তদন্তের মাধ্যমে সবকিছু বেরিয়ে আসবে।