সিসি নিউজ ডেস্ক ।। কুষ্টিয়া ভেড়ামারায় চাঁদগ্রাম ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমানকে গুলি করে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। এসময় আরও তিনজন গুলিবিদ্ধসহ চারজন আহত হয়েছে। তাঁদের ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
আজ শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে চাঁগ্রাম চরপাড়া মাঠে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত সিদ্দিকুর রহমান মন্ডল চাঁদগামের ওমর আলী মন্ডলের ছেলে।
গুলিবিদ্ধরা হলেন চাঁদগ্রামের নিহতদের ভাই আনিসুজ্জামান ইউনুস মন্ডল (৪৮), আব্দুল খাল্লেক (৪৫), বাদশা মন্ডল (৪২) ও ওই গ্রামের আবু সাঈদের ছেলে আবু বক্কার কুব্বাত (৩৫)। এরমধ্যে আহত কুব্বাতের পায়ের রগ কেটে যাওয়ার কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভেড়ামারা উপজেলার চাঁদগ্রাম ইউনিয়নের চাদঁগ্রাম চরপাড়ায় মাঠে ঘাস কাটতে যায় আবু বক্কার। এসময় প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁর ওপর হামলা করে তাঁর পায়ে কোপ দেয়। এ ঘটনা দেখে আনিসুজ্জামান ইউনুস মন্ডল (৪৮), আব্দুল খাল্লেক (৪৫), বাদশা মন্ডল (৪২) ও সিদ্দিকুর রহমান মন্ডল ঘটনা স্থলে যায়। এসময় প্রতিপক্ষের একজন কাছ থেকে গুলি ছুড়লে ৪ জন আহত হয়। পরে স্থানীয়রা আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিদ্দিকুর রহমানসহ আহতদের উদ্ধার করে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। কিছুক্ষণ পর গুলিবিদ্ধ সিদ্দিকুর রহমান মারা যান।
এদিকে জাসদের লোকজন হামলা করে হত্যা করেছে বলে নিহতের ভাই আবু বক্কার কুব্বাত দাবি করেছেন। তিনি বলেন, চাঁদগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে জাসদ এ হামলা চালায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে আমার ভাই সিদ্দিকুর রহমান মারা গেছে। আমরা তিন ভাই গুলিবিদ্ধ হয়েছি। কুব্বাত পায়ে কোপ লেগেছে।
ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান জানান, ‘দলীয় নয়, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষের লোকজন এ হামলা চালায়।’
এ বিষয়ে জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আলিম স্বপন ও চাঁদ গ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল হাফিজ তপন বলেন, ‘উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জাসদকে জড়ানোর জন্য একটি পক্ষ রাজনৈতিক অপকৌশল চালাচ্ছে। এটি গোষ্ঠীগত কোন্দল। এ কোন্দল এ এলাকায় ৫০ বছর ধরে চলে আসছে। গোষ্ঠীর কোন্দলে ইতিপূর্বে কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও ঘটেছে।’
পুলিশ কর্মকর্তা মজিবুর রহমান বলেন, এঘটনায় এখনো কোন অভিযোগ পাইনি। পুলিশ পুরো এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। জড়িতদের আটকে অভিযান চলছে।